করোনা মহামারীকালে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ৮৫, মৃত্যু ৩

বিজ্ঞাপন

১ জানুয়ারি থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪৭০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৭৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৫ জন। তারা সবাই ঢাকার বাসিন্দা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৩৯০ জন ডেঙ্গু রোগী। তাদের মধ্যে ৩৮৭ জনই ঢাকার। বাকি তিনজন ঢাকার বাইরের। গতকাল পর্যন্ত ডেঙ্গু সন্দেহে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য পেয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। তবে মৃত্যুর বিষয়গুলো আরো যাচাইবাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক ও মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু করণীয় আছে। বাসাবাড়িতে রাখা ফুলের টব বা অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি তিন দিনের মধ্যে ফেলে দিতে হবে। যারা বাসা ছেড়ে তিন দিনের বেশি সময়ের জন্য বাইরে যাচ্ছেন, কমোডের প্যান ঢেকে রাখতে হবে, পানির যে কোনো পাত্র পানিশূন্য করে উল্টিয়ে রাখতে হবে। দিনে বা রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা উত্তম। মশার কামড় থেকে বাঁচতে হলে ছোট-বড় সবার শরীর ঢেকে রাখা যায় এমন কাপড় পরিধান করা উচিত।

ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, আমরা করোনা মহামারির মধ্যে রয়েছি। এই সময় জ্বর হওয়া মানেই করোনা হয়েছে, বিষয়টি তা নয়। ডেঙ্গুর সন্দেহের বিষয়ও ভাবতে হবে। পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে। রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা নিতে হবে।

মাসভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ৩২ জন, ফেব্রুয়ারিতে নয়জন, মার্চে ১৩ জন, এপ্রিলে তিনজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। তবে মে মাস থেকে এ সংখ্যা বাড়তে থাকে। মে মাসে ৪৩ জন, জুনে ২৭২ জন এবং জুলাইয়ে ১ হাজার ৯৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বেশ কিছুদিন ধরেই মাঠে কাজ করছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। মশা নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি ডেঙ্গুর বাহক এডিশ মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংসের লক্ষে দুই মেয়র আতিকুল ইসলাম ও শেখ ফজলে নূর তাপসের নেতৃত্বে অভিযানও চালানো হচ্ছে। তারপরও ডেঙ্গুর ক্রমবর্ধমান প্রকোপ থেকে রেহাই মেলেনি নগরবাসীর। করোনার এই মহামারীকালে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।