পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা গ্রহাণুকে ঠেকাতে রকেট ছুঁড়বে চীন!

বিজ্ঞাপন

পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা গ্রহাণুর পথ পরিবর্তনের জন্য মহাকাশে রকেট ছোঁড়ার প্রস্তাব দিয়েছে চীন। একশ’ দুই তলা ভবনের সমান গ্রহাণুটি আগামী দেড়শ’ বছরের মধ্যে পৃথিবীতে আঘাত হানতে পারে। তবে তার আগেই ২৩টি ‘লং মার্চ-৫’ রকেট নিক্ষেপ করে পৃথিবীকে বাঁচাতে চান চীনের গবেষকরা।

পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা ৭ হাজার ৮শ’ কেজি ওজনের গ্রহাণু বা পাথর ‘বেনু’ নিউ ইয়র্কের আকাশচুম্বী ১০২ তলা এম্পায়ার স্ট্যাট বিল্ডিংয়ের সমান উঁচু। গ্রহাণুটি পৃথিবীতে আঘাত করলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে পৃথিবীর ওপর ‘বেনু’র আছড়ে পড়ার আশঙ্কা ২ হাজার ৭০০ ভাগের মধ্যে এক ভাগ মাত্র। তবে সেই এক ভাগ আশঙ্কাও যদি বাস্তব হয় পৃথিবীর ধ্বংস অনিবার্য। যদিও পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তন করতে এরইমধ্যে হিসেব নিকেশ কষা শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরা।

চীনা বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাদের ‘লং মার্চ-৫’ রকেট দিয়ে বেনুর গতিপথ পরিবর্তন করা সম্ভব। মহাকাশ বিষয়ক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘ইকারাসে’ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ২৩টি লং মার্চ ফাইভ রকেট ছোঁড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন গবেষকরা।

শুধু চীন নয়, চূড়ান্ত পর্যায়ে বেনু পৃথিবীর কাছাকাকাছি আসার সময় হলে এর গতিপথ পরিবর্তনে বিভিন্ন সমাধানের পথ খুঁজছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। প্রজেক্ট হ্যামারের মাধ্যমে ৪০০ টন ওজনের রকেট জাতীয় বস্তু পাঠানোর চিন্তা ভাবনা করছে তারা। আর এটি চীনের রকেটের চেয়েও দ্রুত পৌঁছাতে সক্ষম বলে দাবি তাদের।

তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এখনো ২৫ বছরের বেশি সময় লাগবে। আবার গ্রহাণুটিকে ধ্বংস করতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন অনেক বিজ্ঞানী, যদিও এতে অনেক ঝুঁকি রয়ে যায়। কেননা টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া বস্তুও পৃথিবীতে আঘাত হানলে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা থেকে যায়।