দেশে এসেই করোনায় মারা গেলেন রাঙ্গুনিয়ার সাদ্দাম

বিজ্ঞাপন

মৃত্যুর মিছিলে প্রতিদিন যোগ হচ্ছে বিভিন্ন পেশার ব্যাক্তির নাম। এক একটি মানুষের মৃত্যু এক একটি পরিবারে অসীম শূন্যতা। সীমাহীন শোক। অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানুষকে হারিয়ে বড় শূন্যতায় পড়েছে এক একটি পরিবার, সমাজ ও দেশ। দিন দিন ভারি হচ্ছে শোকাতুর মানুষের কান্না। দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি।

গত বছরের ৮ই মার্চ দেশে যখন করোনাভাইরাস হানা দিয়েছিল তখন কে জানতো তা এতটা আগ্রাসী আর প্রাণঘাতী হবে। বছরের শেষে যখন প্রকোপ কমে আসে তখন কে ভেবেছে তা আরো আগ্রাসী রূপ নিয়ে হানা দেবে দ্বিতীয় দফায়। এখন প্রতিদিনই করোনা কেড়ে নিচ্ছে তরতাজা প্রাণ। জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে অনেক মানুষ। প্রিয়জনকে বাঁচানোর যুদ্ধে স্বজনদের বিনিদ্র দিন কাটছে হাসপাতালে। হাসপাতাল, শয্যা খুঁজে পেতে মানুষের দৌড়ঝাঁপ। জীবন বাঁচানোর প্রাণান্ত যুদ্ধের মধ্যেই হেরে যাচ্ছেন অনেকে। অনন্ত অসীমের পথে তাদের যাত্রায় শোকে পাথর হচ্ছেন পরিবার-পরিজন ও স্বজনরা।

আজ করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসারত অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার প্রবাসফেরত সাদ্দাম হোসেন নামের এক যুবক।

মাত্র মাসখানেক আগে আবুধাবী থেকে দেশে ছুটিতে এসেছিলেন মো. সাদ্দাম হোসেন (৩০)। দেশে এসেই প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন তিনি। আজ নগরীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বুধবার (২৩ জুন) এমন মর্মস্পর্শী ঘটনাটি ঘটেছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের সোনারগাঁও গ্রামে। মৃত সাদ্দাম হোসেন ওই গ্রামের ফখরুল ইসলামের পুত্র।

বিকেল ৩ টায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

রাঙ্গুনিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ও করোনা বিষয়ক ফোকাল পারসন ডা. মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ ফাহিম জানান, জ্বর ঠাণ্ডা ও শ্বাসকষ্ট নিয়েগত ১০ জুন নগরীর একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে তার নমুনা পরীক্ষা করা হলে তিনি করোনা পজিটিভ হন। ১৩ দিন হাসপাতালের করোনা আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় আজ বুধবার সকালে তার মৃত্যু হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তার মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন:
পাঁচবিবিতে বীর মুক্তিযোদ্ধার জমি দখলের চেষ্টা
শিবগঞ্জে ফেনসিডিলসহ আহত অবস্থায় ২ মোটরসাইকেল আরোহী গ্রেফতার

তিনি আরও জানান, এমন ঘটনার পর করোনার সংক্রমণ রোধে প্রবাসী সাদ্দাম হোসেনের পরিবারের অন্য সদস্যদের শরীরে করোনার ধরণ রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

মৃত্যুকালে সাদ্দাম হোসেন পিতা-মাতা, ভাই-বোন, স্ত্রী ও ৪ বছরের এক কন্যা সন্তান রেখে যান।