পাইকগাছায় মুজিব শতবর্ষের ঘর নির্মাণে বাঁধা,অসহায় ভূমিহীনরা বঞ্চিত!

বিজ্ঞাপন

খুলনার পাইকগাছার কপিলমুনিতে অবৈধ দখলে থাকা সরকারি খাস খতিয়ানের জমিতে মুজিব শতবর্ষে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর নির্মাণে বাঁধা প্রদান করা হচ্ছে। একই সাথে সেখানে অলিখিত শর্ত সাপেক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য গৃহ প্রদান নীতিমালা-২০২০ কে অগ্রাহ্য করে স্থানীয় দু’জন বিত্তশালীকে উক্ত ঘর প্রদান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে জানানো হয় যে, উপজেলার কপিলমুনির কাশিমনগর মৌজার জেএল নং-২০’র ১নং খাস খতিয়ানভূক্ত কাশিমনগর গ্রামের ঐ এলাকার প্রায় ১৬ শতক জমিতে মুজিব শতবর্ষের ৮ টি ঘর নির্মাণের জন্য চিহ্নিত করা হয়। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), কানুনগুহ, উপজেলা সার্ভেয়ার, স্থানীয় ইউএলএও সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও জমি জরিপপূর্বক সেখানে লাল পতাকা দিয়ে সীমাণা নির্ধারণ করেন। এক পর্যায়ে সেখানে ঘর নির্মাণের উপকরণ সামগ্রী সরবরাহ হলেও স্থানীয় কতিপয় স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি মুজিববর্ষের ঘর নির্মানে নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন।

তাদের ধারণা, ঐ এলাকায় মুজিববর্ষের ঘর নির্মাণ হলে বহিরাগতদের আগমনে সেখানকার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘিœত হবে। তবে সূত্র জানায়, বাঁধা প্রদানকারীদের পছন্দমত স্থানীয় দু’জনকে ঘর প্রদানের শর্তে তাদের জমির মাথার সরকারি খাষ সম্পত্তি বাদ দিয়ে পাশের সীমানায় ৪ শতক জমির উপর মাত্র দু’টি ঘর প্রদানের অনুমতি দেন।

সূত্র জানায়, তাদের পছন্দের দু’ব্যক্তির একজন স্থানীয় সম্ভ্রান্ত পরিবারের মৃত আহ্লাদ ঘোষের জামাতা ধীরেন ঘোষ প্রায় দেড়’ বিঘা সম্পত্তির মালিক। তাদের পাকা বাড়ি-ঘর রয়েছে। অন্যজন গৌরপদ মন্ডল তিনিও সাবলম্বী। ঘর নির্মাণের জন্য বাড়িতে ইটও মজুদ করেছেন। এছাড়া তিনি এর আগে পার্শ্ববর্তী তালতলার আলোকদিয়া মৌজায় ২৪১, ২৪২ দাগে ৩ বিঘা জমি বন্দোবস্ত নিয়ে সেখানে মৎস্য চাষ করছেন।

এমন অবস্থায় তাদের ঘর প্রদান করলে মুজিববর্ষের ঘর প্রদানে তালিকা প্রনয়ন প্রক্রিয়া নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলেও মনে করছেন অনেকেই।

প্রসঙ্গত,মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে সকল ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য গৃহপ্রদান নীতিমালা-২০২০ অনুযায়ী সামগ্রীকভাবে ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল অসহায় দরিদ্র পরিবার এ কর্মসূচীর আওতাভূক্ত হবেন (ক’শ্রেণি) এবং সামগ্রীকভাবে যার ১০ শতাংশ জমির সংস্থান আছে কিন্তু ঘর নেই, এমন পরিবার একর্মসূচির আওতাভূক্ত হবেন (খ’শ্রেণি)। তবে প্রস্তাবিত দু’জন ধীরেন ঘোষ ও গৌরপদ মন্ডল কোনভাবেই নীতিমালার কোন প্রকার শ্রেণিভুক্ত নন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গৌরপদ মন্ডল ও ধীরেন ঘোষ সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে প্রকল্পের তালিকাভুক্ত হচ্ছেন। এব্যাপারে কপিলমুনি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউএলএও আব্দুস সবুরের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি দু’বার ঐ এলাকায় বিষযটি নিয়ে তদন্ত করতে গেছেন তবে তাদের নামে কোন জমি আছে এমন কিছু প্রমানপত্র পাননি। এসময় গৌরপদ মন্ডলের ৩ বিঘা বন্দোবস্ত প্রাপ্ত জমি রয়েছে কিনা জানতে চাইলে। তিনি জানান, তালতলার আলোকদিয়া এলাকায় তার দখলে সরকারের বন্দোবস্তযোগ্য ৩ বিঘা জমি রয়েছে। তবে ২০১২ সালের পর তা নবায়ন করা হয়নি।

এছাড়া মুজিববর্ষের ঘর নির্মাণে ঐএলাকায় প্রথমত ১৬ শতাংশ জমি চিহ্নিত করে লাল পতাকা টানানো হয়েছিল কিন্তু পরে সেখানে ঘর না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, জমির উপর দিয়ে রাস্তা গেছে সেকারণে সেখানে ঘর নির্মাণের উপযোগী নয়।

তবে বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা, সেখানে মুজিব বর্ষের ঘর করতে দেবেনা বলে সরকারি জমি বরাবর স্ব স্ব জমির মালিকরা নিজ উদ্যোগে মাটি কেটে উল্টো পাশে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ করছেন।

এব্যাপারে স্থানীয় সার্ভেয়ার জিএম রহমত আলী যিনি সরকারের পক্ষে সংশ্লিষ্ট জমি জরিপকার্য পরিচালনা করেন তিনি বলেন, সেখানে ১৬ শতাংশ সরকারি জমি জরিপ করে লাল পতাকা টানিয়ে দিয়েছিলেন। তবে স্থানীয় স্বার্থান্বেষীরা সেখানে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর নির্মাণে প্রথম থেকেই নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলেছেন।

আরো পড়ুন:
সেবার প্রত্যয় নিয়ে বেনাপোল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শুভ উদ্বোধন

সচেতন এলাকাবাসী সেখানকার সমুদয় সরকারি খাষ খতিয়ানভূক্ত বসবাস উপযোগী জমিতে প্রকৃত ভূমিহীন অসহায় পরিবারদের প্রকল্পের আওতায় পূণর্বাসনে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জুন ,১৫.২০২১ at ১৬:৪৭:৩২ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/এসএনএস/এসআর