সীমান্তসহ ১১ জেলার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন সরকার

করোনা
ছবি প্রতীকী

সীমান্ত এলাকাসহ দেশের ১১ জেলার করোনা সংক্রমণ নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন বলে জানা গেছে। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় সংক্রমণের হার বাড়ছে। এরকম পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসায় চলমান ‘লকডাউন’ কিংবা বিধিনিষেধ ওই ১১ জেলাসহ দেশজুড়ে আরো ১০দিন বাড়িয়েছে সরকার। রবিবার (৬ জুন) জারি করা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগামী ১৬ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ চলমান থাকবে।

সীমান্ত এলাকাসহ ১১ জেলার পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন এক ভিডিওবার্তায় বলেছেন, স্থানীয় প্রশাসনকে এরইমধ্যে নানা নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে, জেলাওয়ারি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রয়োজন মনে করলে তারা যেন করোনা সংক্রান্ত কারিগরি কমিটির সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।

জানতে চাইলে নাটোরের জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ গতকাল ভোরের কাগজকে বলেন, শনিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তারা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন আবার আমরাও স্থানীয়ভাবে কিছু পরামর্শ নিয়ে কাজ করছি। আশাকরছি সংক্রমণ ঠেকানো যাবে।

নওগাঁর জেলা প্রশাসক মো. হারুন অর রশীদ ভোরের কাগজকে বলেছেন, জেলার অভ্যন্তরে নিয়ামতপুরে লকডাউন চলছে। পাশাপাশি র‌্যাপিড টেস্টও চলছে। একইসঙ্গে বিধিনিষেধ মেনে চলতে মানুষকে বোঝানো হচ্ছে। সবমিলিয়ে যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তাতে আমরা করোনা নিয়ন্ত্রণে অনেকটা সফল বলে মনে করি। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।

সীমান্তবর্তীসহ দেশের ১১টি জেলা এখন করোনার সংক্রমণের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে। ফলে ওই জেলাগুলোতে লকডাউনের মতো সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ আগেই দেয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী গত ২৪ মে রাত থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় লকডাউন দেয়া হয়েছে, যা এখনো চলছে। নওগাঁর নিয়ামতপুরেও লকডাউন চলছে। এরপর গত ৩১ মে ঝুঁকিপূর্ণ সাত জেলাকে লকডাউনের আওতায় আনতে সুপারিশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক কমিটি। ওই সাত জেলা হলো- রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, খুলনা ও যশোর।

এছাড়া নোয়াখালী ও কক্সবাজারের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে কমিটি। এর মধ্যে সাতক্ষীরা ও নোয়াখালী জেলায় পুরোপুরি এবং নওগাঁ ও কক্সবাজারের পাঁচ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আংশিক লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। তবুও ঠেকানো যাচ্ছে না আক্রান্ত-মৃত্যুর হার। এদিকে বাগেরহাটের মংলায় গত কয়েকদিন ধরে সংক্রমণের শতকরা হার ৪০ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে উঠানামা করছে, যা নিয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। বিভাগীয় শহর খুলনায় সংক্রমণ পরিস্থিতিও নাজুক হয়ে পড়ছে।

আরো পড়ুন:
মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে থেকে আসার সময় আরও ৫ জন আটক
চিলমারীতে উপবৃত্তির নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন কে. এম হুমায়ুন কবির বলেন, পুরো বাগেরহাট জেলার পরিস্থিতি নাজুক না হলেও মংলা উপজেলায় সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। মংলা উপজেলায় সংক্রমণ ২৬ তারিখ থেকে বেড়েছে। করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সাতক্ষীরা জেলায় কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সংশ্রিষ্টরা বলেছেন, সাতক্ষীরা জেলায় সরকারি হাসপাতালে এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের স্থান সংকুলান হচ্ছে না। কিন্ত তারপরেও সেখানে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে তেমন কোন উদ্বেগ নেই। এদিকে রাজশাহী বিভাগে মৃত্যু ও শনাক্তের হার বেড়েছে। এরপরই গতকাল থেকে র‌্যাপিড টেস্ট শুরু করে সেখানকার প্রশাসন।