আড়িয়াল খাঁ নদের পাড়ে ওয়াক ওয়ে- ল্যাম্প পোস্টে জ্বলে না বাতি সন্ধ্যা হলেই ভুতুড়ে গলি

বিজ্ঞাপন

মাদারীপুরের আড়িয়াল খাঁ নদের পাড় ঘেঁষে ওয়াক ওয়ে নির্মিত হয়েছে চার বছর আগে। নির্মাণের এত বছর পরেও ওয়াক ওয়েতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি। লেম পোস্টে বাতি জ্বলে না। তাই সন্ধ্যা হলেই পুরো ওয়াক ওয়ে পরিণত হয় ভুতুড়ে গলিতে।

বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার আগেই নষ্ট হয়ে গেছে কোটি টাকার বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। দুই কর্তৃপক্ষের ঠেলাঠেলিতেই কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে জেলা প্রশাসন বলছে দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।

বিআইডিব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরের পূর্বরাস্তি থেকে পাঁচখোলা ইউনিয়নের মহিষেরচর পর্যন্ত আড়িয়াল খাঁ নদের পাড় ঘেঁষে বিআইডব্লিউটিএ ৬ কোটি ৬০ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করে ৩.৮ কিলোমিটার ওয়াক ওয়ে। এই ওয়াক ওয়ে দৃষ্টিনন্দন করতে নির্মাণ করা হয় বসার বেঞ্চসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

পুরো ওয়াক ওয়ে জুড়ে বসানো হয় বৈদ্যুতিক খুঁটি ও লাইট। তবে নির্মাণের চার বছর হয়ে গেলেও এখনও দেওয়া হয়নি বিদ্যুতের সংযোগ। দীর্ঘদিন পড়ে থাকার কারণে কিছু কিছু স্থানে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরি হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও আবার সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে গেছে। তার উপর দিয়ে ড্রেজার মেশিন বালু উত্তলনের পাইপ ও অবৈধভাবে ইট বালু ও খোয়া রেখে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান খুলে আছে।

স্থানীয় বাসিন্দা খবির আকন জানান, বিদ্যুৎ না থাকার কারণে সন্ধ্যার পরে দৃষ্টিনন্দন ওয়াক ওয়ে কাজে আসছে না। আমরা দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার দাবি জানাই। বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে প্রতিটি লাইট পোস্টে আলো জ্বালালে এবং ওয়াক ওয়ের পাশে যে ঝোপঝাড়ের সৃষ্টি হয়েছে- তা পরিস্কার করলে এ স্থাপনাটি শহরের সৌন্দর্যও বাড়িয়ে দেবে। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় কিশোর গ্যাংদের আড্ডা বেড়ে গেছে।

বিআইডিব্লিউটিএ-এর বরিশাল ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন-উর-রশীদ বলেন, আমরা নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর বারবার জেলা প্রশাসক ও মাদারীপুর পৌর মেয়রকে জানিয়েছি। তারা কেন এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পারেনি তা বুঝতে পারছি না। তবে আবারও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। বিদ্যুৎ সংযোগ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব মূলত আমাদের নয়।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, বিআইডব্লিউটিএ ও মাদারীপুর পৌরকর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে।