বিদেশে যাওয়ার অনুমতি মেলেনি খালেদা জিয়ার

খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি।
বিজ্ঞাপন

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার এই মুহুর্তে বিদেশ যাওয়া হচ্ছে না। তার বিদেশ যাওয়ার আবেদনে সাড়া দেয়নি আইন মন্ত্রণালয়।

সাজাপ্রাপ্ত কোনো আসামির বিদেশ যাওয়ার নজির না থাকায় রবিবার (৯ মে) বিকেলে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আইন মন্ত্রণালয় সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে দেখেছে এরকম কোনো বিধান নেই। তাই তাকে আইনের বাইরে গিয়ে কিছু করার সুযোগ নেই। এ মুহূর্তে আবেদন মঞ্জুর করতে পারছি না।

এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় থেকে মতামত দেওয়া হয়। রবিবার সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ মতামত পাঠানো হয়। বিকেলে এ সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়।

আইন মন্ত্রণালয়ের পাবলিক রিলেশন অফিসার জানিয়েছে, খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর আবেদনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের অভিগত সম্বলিত নথি কিছুক্ষণ আগে আইন ও বিভাগের সচিব মহোদয়ের দপ্তর হতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছিলেন, রবিবার সকালের মধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মতামত পাঠাব।

এদিকে, আক্রান্ত হওয়ার ২৭ দিন পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া করোনা ভাইরাস মুক্ত হয়েছেন। তার চিকিৎসায় গঠিত চিকিৎসক দলের একজন সদস্য জানান, এ নিয়ে মোট তিনবার খালেদা জিয়ার করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এবারের পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।

এর আগে গত ৫ মে রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ধানমণ্ডির বাসায় আবেদনটি দিয়ে যান খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার। পরে সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

এদিন রাতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার এসেছিলেন। তিনি জানিয়েছেন খালেদা জিয়া হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ডাক্তাররা অভিমত দিয়েছেন তাকে বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন। যদিও আমরা ডাক্তারদের কাছে শুনিনি।

গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। সেদিন তার বাসভবন ফিরোজায় আরও আটজনের করোনা পজেটিভ আসে। ২৪ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় খালেদা জিয়ার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পরে ২৭ এপ্রিল রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় খালেদা জিয়াকে।

গত ৩ মে সকালের দিকে শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে চিকিৎসকরা খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে স্থানান্তর করেন। এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের অধীনে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।

এদিকে, বিদেশে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছে তার পরিবার। ২০১৭ সালের ১৮ অক্টোবর তিন মাসের চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছিলেন তিনি। এরপর খালেদা জিয়া আর কোনো দেশে যাননি।