ইএফটি ফরম পূরণে ১২শ শিক্ষকের কাছ থেকে ২৫০ টাকা করে নিল শিক্ষা অফিস

দৌলতপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ইলেক্ট্রিক্যাল ফিন্যান্স ট্রান্সফার (ইএফটি) ফরম পূরণের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২ শতাধিক শিক্ষকের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ২৫০ টাকা করে নিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা অফিস কর্তৃপক্ষ। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশ মোতাবেক শিক্ষক নেতারা অফিস সহকারীদের মাধ্যমে শিক্ষকদের কাছ থেকে এসব টাকা আদায় করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনলাইন প্রশিক্ষিত শিক্ষকরা শিক্ষা অফিস থেকে এই ফরম পূরণ করার কাজ করেছেন। সম্পূর্ণ বিনা খরচে ফরম পূরণ করে দেয়ার নিয়ম থাকলেও এখানকার শিক্ষকদের কাছ থেকে এসব টাকা আদায় করা হয়।

জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলার ২১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১২ শতাধিক শিক্ষক রয়েছেন। অনলাইন সিস্টেমের আওতায় শিক্ষকদের বেতন প্রদানের লক্ষে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গত ১৭ জানুয়ারি থেকে তাদের ইলেক্ট্রিক্যাল ফিন্যান্স ট্রান্সফার (ইএফটি) ফরম পূরণ শুরু হয়। সোমবার (২৫ জানুয়ারি) ছিল এই অনলাইন ফরম পূরণের শেষ দিন। সরকারিভাবে ইএফটি ফরম পূরণে কোনো টাকা গ্রহণের নিয়ম নেই। তবুও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদা ছিদ্দিকার নির্দেশে তার দপ্তরের কর্মচারীরা ও উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষক নেতারা যোগসাজস করে শিক্ষকদের কাছ থেকে ২৫০ টাকা করে আদায় করেন।

অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফিরোজ খান নুন ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমসহ কয়েকজন শিক্ষক নেতা শিক্ষা অফিসে বসে ইএফটি ফরম পূরণের জন্য শিক্ষকদের ২৫০ টাকা করে জমা দিতে বলেন। যেসব শিক্ষক টাকা দিতে অসম্মতি জানিয়েছেন নানা ভুলত্রুটির অজুহাত দেখিয়ে তাদের ফরম পূরণ করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়। ফলে উটকো ঝামেলা এড়াতে বাধ্য হয়েই শিক্ষকরা শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষক নেতাদের ধার্য্য করা ২৫০ টাকা করে জমা দেন। শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী শরিফুল ইসলাম, আব্দুল করিম ও রেজাউল ইসলাম এই টাকা গ্রহণ করে তবেই শিক্ষকদের ইএফটি ফরম পূরণের কাজে হাত দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন শিক্ষক বলেন, ফরম পূরণের জন্য জনপ্রতি ২৫০ টাকা নির্ধারণ করে এই টাকা দিতে আমাদের বাধ্য করা হয়েছে। আমরা এমনিতেই যারা অনলাইনে এই ফরম পূরণের কাজ করেছেন তাদের ৫০-১০০ টাকা করে দিতাম। কিন্তু অফিস কর্তৃপক্ষ ও নেতারা টাকার অঙ্ক নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। কিছু করার নেই। যদিও বর্তমান বাজারে আড়াইশ টাকা খুব বেশি টাকা না। তবে সমস্ত শিক্ষকের টাকা এক জায়গায় করলে মোটামুটি বড় একটি অঙ্কই দাঁড়ায়। এর কোনো বৈধতা না থাকলেও ইচ্ছার বিরুদ্ধে মুখ বুজে এসব টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলার সবকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে ২৫০ টাকা করে আদায় করার কথা জানিয়ে এখানকার সরকারদলীয় এক শীর্ষস্থানীয় নেতা গণমাধ্যমকে বলেন, ইলেক্ট্রিক্যাল ফিন্যান্স ট্রান্সফার (ইএফটি) ফরম পূরণে শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী অফিস সহকারীরা ও শিক্ষক নেতারা জোর করে এসব টাকা আদায় করেছেন। বারবার তাদের নিষেধ করার পরেও তারা আমলে না নেয়ায় অবৈধভাবে টাকা আদায়ের ঘটনা রোধ করা যায়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য সোমবার রাতে এই খবর লেখার সময় উপজেলা প্রাথমিক সমিতির সভাপতি ফিরোজ খান নুনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইএফটি ফরম পূরণের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের কাছ থেকে আমরা কোনো টাকা নেইনি। তবে অনলাইনে এই ফরম করতে যেয়ে শিক্ষকদের নাম ও মোবাইল নম্বরসহ নানা ধরনের ভুল হয়ে থাকতে পারে। আর এসব ভুল সংশোধনের জন্য শিক্ষা অফিসকে টাকা দেয়া হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই।

ইএফটি ফরম পূরণে শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে দৌলতপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদা ছিদ্দিকা গণমাধ্যমকে বলেন, এই অভিযোগ সঠিক নয়। কোনো শিক্ষকের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়নি। শিক্ষকরা নিজেরাই তাদের এই ফরম অফিস থেকে পূরণ করেছেন। এদিকে সংশ্লিষ্টরা টাকা গ্রহণের কথা অস্বীকার করে নিজেদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও বিষয়টি গত কয়েকদিন ধরে উপজেলা পরিষদের অফিসপাড়ায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ ওপেন সিক্রেট।

জানুয়ারী, ২৫, ২০২১ at ২২:০৩:২৫ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/এসআরএস/এমআরএইস