জয়পুরহাটে দায়িত্ব অবহেলার কারনে ভয়াবহ বাস-ট্রেন দূর্ঘটনায় গেটম্যান বরখাস্ত

বিজ্ঞাপন

জয়পুরহাট সদর উপজেলার পুরানাপৈল রেল গেট এলাকায় বাস ও ট্রেনের ভয়াবহ দূর্ঘটনায় অকালে ঝরে গেছে ১২টি তাজা প্রাণ, আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরন করেছেন আরো ৪ জন। এতগুলো তাজা প্রাণের মূল্য হিসেবে দায়িত্ব অবহেলার দায়ে চাকুরী থেকে মাত্র সাময়িক বরখাস্তের শাস্তি দেওয়া হলো কান্ডজ্ঞানহীন গেটম্যান নয়ন মিয়াকে।

রেলগেট ব্যারিয়ার না দিয়ে গেটম্যান নয়ন মিয়া আরামের ঘুম ঘুমাচ্ছিলেন অন্য কোথাও। গেট ব্যারিয়ার না থাকায় নিশ্চিন্তে বাস চালক তার বাসটি নিয়ে ওই রেলগেট পার হতে গিয়ে ভয়াবহ দূর্ঘটনায় পরে। দিনাজপুরের পাবর্তীপুর থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহী গামী উত্তরা এক্সপ্রেস ট্রেনটি বাসটিকে ধাক্কিয়ে টেনে হিচরে নিয়ে যায় প্রায় অর্ধ কিলোমিটার। ঘটে যায় হৃদয় বিদারক ঘটনা। এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য শুধু মাত্র গেটম্যানই দায়ী বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

পুরানাপৈল রেলগেট এলাকার সানোয়ার হোসেন, মজিবর রহমান, উজ্জল হোসেনসহ স্থানীয়রা বলেন, নয়ন মিয়ার বাড়ি শেরপুর জেলায়, কিন্তু বিস্তারিত ঠিকানা তারা জানেন না। দীর্ঘ দিন ধরেই নয়ন, মঞ্জুরুল ইসলাম ও আব্দুর রহমান নামে ৩ জন গেট ম্যান ৮ ঘন্টা পরপর দায়িত্ব পালন করতেন। ঘটনার দিন ও সময়ে রেল গেটের দায়িত্ব ছিল নয়ন মিয়ার। দায়িত্ব অবহেলার জন্য নয়ন মিয়াই একক ভাবে দোষী বলে এলাকাবাসী জানান, ঘটনার পর থেকে নয়ন মিয়াসহ ৩ গেটম্যানই পলাতক রয়েছে।

এ ব্যাপারে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট রেজা হাসান জানান, জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ে বিভাগ দু’টি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, আগামী ৩ কার্য দিবসের মধ্যে দু’টি তদন্ত টীমকে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

রেলওয়ে বিভাগের পরিবহন কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন, প্রকৌশলী আব্দুর রহিম, দিনাজপুরের হিলি রেলওয়ের সিনিয়র সাব এসিস্ট্যান্ড ইঞ্জিয়ার বজলুর রশিদসহ রেলওয়ের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা জানান, দায়িত্ব অবহেলার জন্য গেটম্যান নয়ন মিয়া একক ভাবে দায়ি বলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে শত চেষ্টাতেও মিলেনি পলাতক নয়ন মিয়ার অবস্থান বা তার পূর্ন ঠিকানা। অবশেষে তদন্তকারী টীম, রেল কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের কাছে জানতে চাইলে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থার স্বার্থে তারা নয়ন মিয়ার আর কোন তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

ডিসেম্বর, ২০, ২০২০ at ১৮:৪৫:৩০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/এসকেএস/এমজেইউ