নভেম্বরে বেড়েছে যশোরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা

যশোরে অক্টোবরের তুলনায় নভেম্বরে করোনায় আক্রমণের সংখ্যা বেড়েছে চার দশমিক ০১ শতাংশ। অক্টোবরে নমুনা পরীক্ষার তুলনায় আক্রান্ত হয়েছিল আট দশমিক ০৯ শতাংশ। তবে সেটা নভেম্বরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ১০ শতাংশ। তবে এই বৃদ্ধিকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ বলে মনে করছেন না সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া জেলায় গড় আক্রান্তের সংখ্যা এখনো ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ। আক্রান্তের তুলনায় সুস্থ হওয়ার হার ৯২ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

অপরদিকে, সোমবার ১২৬ জনের করোনা পরীক্ষা করে ৩০ জনের করোনা পজিটিভ হয়েছে। এটি নভেম্বর মাসের সর্বোচ্চ। সোমবার আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ২৩ জন, শার্শার তিনজন, অভয়নগরের দুজন, বাঘারপাড়া ও চৌগাছা উপজেলার একজন। এছাড়া সোমবার করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে ৫৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

অক্টোবরে দুই হাজার ৩৪৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় আক্রান্ত হয়েছিল ১৯০ জন। নভেম্বরে দুই হাজার ৮১৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩৪১ জন এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে কমেছে সুস্থতার হার। অক্টোবরে আক্রান্তের তুলনায় সুস্থতার হার ছিল ৪৩৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ। নভেম্বরে তা কমে হয়েছে মাত্র ৪৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। অক্টোবরে ৮৩০ জনের তুলনায় নভেম্বরে সুস্থ হয়েছে ১৪৮ জন।

জেলা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল কর্মকর্তা রেহেনেওয়াজ বলেন, সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্ত সন্দেহে ২০ হাজার ১৫৪টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজার ৫৬১টি নমুনা পরীক্ষার ফল পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত প্রতিবেদনে চার হাজার ৪২৬ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে চার হাজার ৮৯ জন। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনজন ও বাড়িতে হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২৭০ জন। এছাড়া ৪১ জন মারা গেছেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, গত ১২ এপ্রিল যশোর জেলার মণিরামপুর উপজেলার একজন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্তের মধ্য দিয়ে এ জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। ওই মাসে জেলায় মোট সংক্রমিতের সংখ্যা ছিল ৫৫ জন। মে মাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় ১০৪ জন। মার্চ থেকে মে পর্যন্ত জেলায় এক হাজার ৬৯৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। জুনে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬০৬ জনে। এই মাসে দুই হাজার ৪৯১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। জুলাই থেকে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। জুলাই মাস শেষে আক্রান্তে সংখ্যা দাঁড়ায় এক হাজার ৭৮৫ জনে। আগস্টে এক হাজার ৪৮২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এই মাসে নমুনা পরীক্ষা হয় চার হাজার ৫৩৮টি।

এর আগে ২৭ জুন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়ায়। ১৩ জুলাই ৯২তম দিনে আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ও ৬ আগস্ট দুই হাজার, ২৬ আগস্ট তিন হাজার ও ৭ সেপ্টেম্বর আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে তিন হাজার ছাড়ায়।

যশোর সিভিল সার্জন কর্মকর্তা ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, অক্টোবরের তুলনায় নভেম্বরে করোনা সংখ্যা বেড়েছে। তবে কেন বেড়েছে সেটা বলতে পারছি না। এছাড়া সংক্রমণ কোন পর্যায়ে আছে সেটা বলার জন্য জাতীয় কমিটি আছে। জাতীয় কমিটি গবেষণা করবে দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে কিনা। তবে করোনা সংক্রমণ রোধে সবাইকে সরকারি বিধি নিষেধ মেনে চলতে হবে।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানভীর রহমান বলেন, আগে থেকে ধারণা করা হয়েছিল শীত পড়তে শুরু করলেই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়বে। সেটাই হচ্ছে। কিন্তু এটাকে এখনই দ্বিতীয় ঢেউ বলা যাবে না। সাময়িক বাড়ছে। দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে কিনা তা বলার জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

৩০ নভেম্বর, ২০২০ at ২৩:১৮:৪২ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/এমএআর/এমএআর