যশোরের অভয়নগরে ট্রেনের সামনে প্রাইভেটকার, নিহত ৪, আহত ২

যশোরের নওয়াপাড়ায় ট্রেনের ধাক্কায় প্রাইভেটকারের চার যাত্রী নিহত ও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার পৌনে পাঁচটার দিকে যশোর-খুলনা মহাসড়কের নওয়াপাড়া ভৈরব সেতুর সংযোগস্থলে রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় খুলনাগামী মহানন্দা এক্সপ্রেসের সাথে একটি প্রাইভেটকারের দুর্ঘটনা ঘটে। নওয়াপাড়ায় চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তারা। হতাহত সবাই একই পরিবারের স্বজন বন্ধু।

নিহতরা হলেন- প্রাইভেটকার চালক নড়াইলের ভুয়াখালি গ্রামের বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার হীরক তালুকদার, তার বোন শিল্পী খাতুন, ভাগ্নি রাইসা ও হীরক তালুকদারের বন্ধু নড়াইলের রুপগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম। আহত দুজন হলেন-নিহত হীরক তালুকদারের স্ত্রী শাওন ও মেয়ে হুমাইয়ারা। আশংকাজনক অবস্থায় তার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইন্টার্ন চিকিৎসক মো. শামীম জানান, দুর্ঘটনায় আহত তিন জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আনা হয়। এদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। আর দুই জন চিকিৎসাধীন আছেন। তবে তাদের নাম জানা যায়নি।

অভয়নগর থানার ওসি মো. তাজুল ইসলাম জানান, হতাহতের ছয়জন একসাথে একটি প্রাইভেটকার যোগে নওয়াপাড়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আসার পথে মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দু’জনকে মৃত অবস্থায় পাই। আহত অবস্থায় চারজনকে অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে আরো একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আহত তিনজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পথিমধ্যে আরো একজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী এসএম আহাদ হোসেন জানান, এখানে কোনো গেটম্যান নেই। রেলগেট অরক্ষিত হওয়ায় এই ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে থানা ও রেলওয়ে পুলিশ এবং নওয়াপাড়া ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। দুর্ঘটনার পর প্রায় একঘন্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।

নওয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার মহসীন রেজা জানান, ভৈরব নদের ওপার থেকে প্রাইভেটকারটি ভৈরব ব্রিজ পার হয়ে যশোর-খুলনা মহাসড়কে ওঠার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রাইভেটকারটি ভাঙ্গাগেট এলাকার রেললাইন পার হচ্ছিল। এসময় খুলনাগামী মহানন্দা এক্সপ্রেস প্রাইভেটকারটিকে ধাক্কা দিলে তা দুমড়ে-মুচড়ে ২০০-৩০০ ফুট দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ে।

অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইফফাত শারমীন বলেন, ট্রেন দুর্ঘটনার শিকার চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়। এরমধ্যে একটি শিশুকে (৫) মৃত অবস্থায় আনা হয়। গুরুতর আহত তিনজনকে আমরা খুলনায় পাঠিয়ে দিয়েছি।
গেটম্যান না থাকার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটার কথা স্বীকার করে খুলনা রেলওয়ে পুলিশের ওসি বলেন, মামলা করার বিষয় প্রক্রিয়াধীন। নিহতদের পরিচয় পাওয়া গেলে মামলা হবে।

১৬ অক্টোবার, ২০২০ at ১৮:২৯:৪২ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/এমএআর/এমএআর