ইউএনও শারমিন আক্তারের ফের করোনা পজেটিভ

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার: ফাইল ছবি।

দ্বিতীয় দফা করোনা পরীক্ষায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তারের ফের পজেটিভ রেজাল্ট এসেছে। মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর সপ্তাহ দুয়েক আগে উপসর্গ দেখা দেয়ায় তার নমুনা সংগ্রহ করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। গত ১২ জুলাই প্রথম দফা পরীক্ষায় তার করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়।

করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর ইউএনও শারমিন আক্তার তার সরকারি বাসভবনে থেকেই চিকিৎসা নিয়ে আসছেন। তিনি সুস্থ হয়েছেন কিনা জানতে শনিবার (২৫ জুলাই) আবারো তার নমুনা পরীক্ষা করানো হয়। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে ঘোষিত ফলাফল অনুসারে পুনরায় তিনি করোনা পজেটিভ হিসেবে শনাক্ত হন।

ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজগর আলী ইউএনও শারমিন আক্তারের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানাতে গিয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, স্যারের দ্বিতীয় পরীক্ষাতেও পজেটিভ এসেছে। মঙ্গলবার রাতে এই রেজাল্ট পাওয়া গেছে। তিনি শারীরিকভাবে এখন মোটামুটি সুস্থ আছেন।

ইউএনও শারমিন আক্তার জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, করোনা আক্রান্তের পর শারীরিকভাবে ভীষণ খারাপ আছেন তিনি। শ্বাসকষ্ট, গলা ব্যথা ও কাশির সাথে হালকা রক্তও উঠছে তার। নিজের শারীরিক দুর্বলতার কথা তিনি গণমাধ্যমকেও জানিয়েছেন। এদিকে দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসনের এই শীর্ষ কর্মকর্তার সুস্থতা কামনা করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জাহান বাদশাহ।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, ইউএনও শারমিন আক্তার বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। বর্তমানে তিনি মোটামুটি সুস্থ আছেন। জ্বর ঠাণ্ডা আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। তবে গলা ব্যথা আছে। ডা. তুহিন বলেন, নিয়মিতভাবে ইউএনও স্যারের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। দুইবার পজেটিভ রিপোর্ট আসাটা অস্বাভাবিক নয়। আশা করছি তিনি দ্রুতই সুস্থ হয়ে উঠবেন।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে ঘোষিত নিয়মিত ফলাফলে জানানো হয়, এ দিন কুষ্টিয়া জেলার ১৮৭টি নমুনা পরীক্ষায় ৫৭ জনের করোনা পজেটিভ আসে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে জেলার দৌলতপুরে ইউএনওসহ ৭ জন, ভেড়ামারায় ১ জন, মিরপুরে ৩ জন, কুষ্টিয়া সদরে সর্বোচ্চ ৩৭ জন, কুমারখালীতে ৫ জন ও খোকসায় ৪ জন রয়েছেন। এ নিয়ে কুষ্টিয়া জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল মোট ১ হাজার ৪৭৯ জনে।