ব্যর্থতা থেকে রনির স্বপ্ন জয়

বিজ্ঞাপন

তারিক ইমাম রনি। এখন এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম।ছোটবেলা থেকে মানুষের পাশে থাকার সংকল্প ছিল। আজ তাকে এই অবস্থানে আনতে সবাই সহায়তা করেছে। রাত পর্যন্ত টিউশনি করে তাকে পড়াশুনা করতে হয়েছে।চাকরির পরীক্ষায় কোন সময় সফল হয়েছে আবার কোন সময় ব্যর্থ হয়েছেন। সর্বশেষ ৩৮ তম বিসিএসে মৎস্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন জীবন সংগ্রামে সফল এই রনি। তার এই যাত্রাপথ মোটেও সহজ ছিল না।তার এই সাফল্যর কথা জানাচ্ছেন ফাহাদ ফারদীন।

রনির শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি হয়েছে তার দাদা আব্দুল জলিলের হাতে। মানুষের সেবা করার দীক্ষা তার দাদার কাছ থেকে পেয়েছে এবং দাদার স্বপ্ন ছিল সে যেন ভবিষ্যতে বড় হয়ে মানুষের সেবা করতে পারে।

রনি যশোরের আমদাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০০৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। পরবর্তীতে পরিবারে অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ার ফলে এক সময় তাকে খুবই কঠিন সময় সম্মুখীন হতে হয়। ঠিক সেই সময়ে স্বপ্ন পূরণে সব সময় পাশে ছিল তার ছোট চাচা মোঃ ফয়েজ আনসারি।২০০৯ সালে ডাক্তার আব্দুর রাজ্জাক কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয় সে।

আরও পড়ুন :
যশোরেই মিলবে করোনায় গুরুতরদের ভেন্টিলেশন সুবিধা
তালিকাভুক্ত হয়েও এমপিওভুক্ত হতে পারেনি যশোরের বলরামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়
যশোরে জুন মাসে ৭ খুন
রেকর্ড শনাক্তের দিনে যশোরে করোনা রোগী ৭০০ ছাড়াল

ভর্তি পরীক্ষায় সে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছিল। কিন্তু সে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কে বেছে নেয়। মাছে-ভাতে বাঙালি সেই প্রবাদ অনুযায়ী ফিশারিজ এন্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগে ভর্তি হয় রনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় চরম অর্থনৈতিক সংকটে মোকাবেলা করতে হয়েছে রনিকে ।যার কারনে বিকাল থেকে রাত অবধি টিউশনি করতে হয়েছে তাকে। নিজের খরচ চালানোর জন্য তার পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছে তার সহধর্মিনী মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের দশম ব্যাচের ফারিহা ইসলাম।

রনি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের চার বছরই রনি শুধুমাত্র একাডেমিক পড়াশোনা করেছে।রনি বলেন আগে একাডেমিক ফলাফল ভালো করতে হবে। যার প্রমাণ আজকে সে বিসিএস ক্যাডার। রনিকে বিভাগের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকরা খুবই ভালবাসতেন। সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিতেন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক প্রফেসর ড. মোঃ আনিসুর রহমান।

শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু অনার্সে ৩.৯১ পেয়েও রনি বুঝতে পারে তার শিক্ষক হওয়ার পর্যাপ্ত গুণাবলী নাই। তখন সে বিসিএস ও অন্যান্য সরকারি চাকরির দিকে মনোযোগী হয়।

রনির স্বপ্ন ছিল মৎস্য সেক্টরের উন্নয়ন করে দেশের মানুষের জন্য কিছু করা। ৩৬ এবং ৩৭ তম বিসিএসে প্রিলি পরীক্ষায় ফেল করে রনি অনেকটা ভেঙ্গে পরে। কিন্তু এই সময়ে বন্ধু বান্ধব, সহধর্মিনী আত্মীয়-স্বজন সকলে তার পাশে ছিল।তারা রনিকে সাহস যুগিয়েছে।

অবশ্য পরে জনতা ব্যাংক অফিসার আরসি, সোনালী ব্যাংক অফিসার ,সোনালী ব্যাংক সিনিয়র অফিসার, জনতা ব্যাংক সিনিয়র অফিসার ,এবং কৃষি ব্যাংক অফিসার পাঁচটি ব্যাংক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন রনি। প্রথমে জনতা ব্যাংকের অফিসার আর সি পদে যোগদান করেন তিনি। বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের খাজুরা শাখায় সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন তিনি।

রনি এই প্রতিবেদককে বলেন ৩৮ তম বিসিএস পরীক্ষার জন্য ভোরে উঠতেন। ফজরের নামাজ পড়ে পড়া শুরু করে
সকাল নয়টা পর্যন্ত পড়তেন। তারপর খাওয়া-দাওয়া করে পুনরায় পড়তে বসতেন। সকাল ১০ টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত আবার পড়ত। তারপর নামাজ পড়ে খাওয়া দাওয়া করে বিকাল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত পড়াশুনা করত। টিউশনির কারণে রাত ৯ টা থেকে পড়া শুরু করতেন।

পরবর্তীতে ব্যাংকে চাকরি করার ফলে চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া তার জন্য অনেক কঠিন হয়ে গিয়েছিল। তারপরও যতটুকু সময় পেতেন ততটুকু সময় পড়াশোনা করেছেন। এই সময়ে পড়াশুনায় সহযোগিতা করেছে তার সহধর্মিনী ফারিহা। তবুও হাল ছাড়িনি চেষ্টা করে গিয়েছেন। গণিত এবং ইংরেজিতে অনেক দুর্বল ছিলেন।

চাকরীপ্রত্যাশীদের জন্য রনি বলেন গণিত এবং ইংরেজিতে বার বার অনুশীলন করলে যেকোনো শিক্ষার্থী সফল হতে পারবে। ব্যাংক এবং বিসিএস দুই পরীক্ষায় সাফল্যের চাবিকাঠি হলো গণিত এবং ইংরেজি পরীক্ষায় ভালো করা।সেই সাথে বিজ্ঞানেও দক্ষ হতে হবে। বিসিএসে প্রিলি পরীক্ষার জন্য বাংলা সাহিত্যের জন্য mp3 বা প্রফেসরস যেকোনো একটা গাইড বই। বাংলা ব্যাকরণের জন্য নবম দশম শ্রেণীর বাংলা ব্যাকরণ এবং হায়াত মাহমুদের একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণীর বই পড়তে হবে।

আরও পড়ুন :
করোনা প্রতিরোধে ‘ইমিউনিটি পিঠা’
এই সময় কাঁঠাল খাওয়া কেন জরুরি?
করোনার ভয়ে হাঁচি আটকে রাখছেন, হতে পারে মৃত্যুর কারণ!
আনারসের যত স্বাস্থ্য উপকারিতা
গোসলের পানিতে পাতাটি মেশালেই সর্দি-জ্বর ও সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে!

সাধারণ জ্ঞানে ভালো করার জন্য নিয়মিত প্রথম আলো পত্রিকা এবং ইংরেজিতে ভালো করার জন্য ডেইলি স্টার পত্রিকা পড়তে হবে। নবম দশম শ্রেণীর সাধারণ গণিত উচ্চতর গণিত বই অনুশীলন করতে হবে। বাংলাদেশ এবং বিশ্বপরিচয় বাংলাদেশ ও বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাস ভূগোল সাধারণ বিজ্ঞান পদার্থবিজ্ঞান রসায়নবিজ্ঞান এবং জীববিজ্ঞান এই বই গুলো ভালোভাবে পড়তে হবে।

ইংরেজি ব্যাকরণের জন্য ইংলিশ ফর কম্পেটিটিভ এক্সাম বইটি এবং ইংরেজি সাহিত্যের জন্য হ্যান্ডবুক অন ইংলিশ লিটারেচার এই বইটি পড়তে হবে। আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর জন্য প্রথম আলো পত্রিকার পাশাপাশি যেকোনো একটা গাইড বই সংগ্রহ করতে হবে। কম্পিউটার এবং তথ্য প্রযুক্তির জন্য ইজি কম্পিউটার বই পড়তে হবে। নৈতিকতা সুশাসন এবং মূল্যবোধের জন্য যেকোনো একটা গাইড বই সংগ্রহ করতে হবে। পাশাপাশি আপনাকে বিভিন্ন প্রকাশনীর মডেল টেস্ট বইগুলো থেকে মডেল টেস্ট দিয়ে দক্ষতা যাচাই করতে হবে।

বিসিএস পরীক্ষায় প্রিলি সবচেয়ে কঠিন ধাপ এবং এই কঠিন ধাপ পার করতে সকলকে কৌশলী হতে হবে এবং বাংলা,গণিত,ইংরেজি এই তিনটা বিষয়ে ১০০ নাম্বারের ভিতর আপনাকে ৬০থেকে ৭০ নম্বর তুলতে হবে। ২০০ নম্বরের ভিতর আপনাকে ১২০ নম্বর নিশ্চিত করতে হবে। রনি সবশেষে বলেন কেউ যদি ধৈর্য ধরে পড়তে থাকে তাহলে অবশ্যই তার সফলতা আসবে।

জুলাই ০৬, ২০২০ at ১১:০৮:৪২ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/এসএফএফ/এমএআর