মাস্ক না ফেস শিল্ড, করোনা প্রতিরোধে কোনটি কার্যকর?

বিজ্ঞাপন

টানা বন্ধ থাকার পর অনেকক্ষেত্রেই লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। যদিও করোনার সংক্রমণ আগের তুলানায় বেড়েছে। তবে এভাবে দিনের পর দিন সব কিছু বন্ধ রাখাটাও সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যতদিন করোনার টিকা আবিষ্কার না হবে ততদিনে করোনাকে সঙ্গে নিয়েই সুরক্ষিত থাকার পদ্ধতি শিখতে হবে। এ কারণে তারা বাইরে বের হবার আগে সুরক্ষিত থাকতে নানা পরামর্শ দিচ্ছেন।

করোনা এড়াতে সরকারের পক্ষ থেকেও স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব মেনে চললেও, কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানা সম্ভব হয়ে উঠছে না। কাজেই এই সময়ে সতর্ক থাকার দায়িত্ব নিতে হবে নিজেদেরকেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাবান দিয়ে বারবার হাত ধোয়া, মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহারের পাশাপাশি মেনে চলতে হবে সামাজিক দূরত্ব। বাড়তি সতর্কতা হিসেবে অনেকেই মাস্কের উপর আজকাল ফেস শিল্ড ব্যবহার করছেন। অনেকের মনে তাই প্রশ্ন, করোনাকে এড়াতে মাস্ক নাকি ফেস শিল্ড, কোনটি সবচেয়ে ভালো?

আরও পড়ুন :
গরু চুরিতে ধরা খেয়ে গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা দিলেন চোর!
করোনা আক্রান্ত শীর্ষ ৫ দেশের তালিকায় ভারত
ভিয়েতনামে ফুটবল লিগ শুরু ভরা গ্যালারিতে

বিশেষজ্ঞদের মতে, তিন স্তরবিশিষ্ট মাস্ক সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখলে করোনার সংক্রমণ প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ কমানো সম্ভব। কিন্তু অনেকেই সঠিক নিয়মে মাস্ক ব্যবহার করছেন না। কথা বলার সময় মাস্ক থুতনির কাছে নামিয়ে নিচ্ছেন, কেউ আবার নাকের নিচ থেকে মাস্ক ব্যবহার করছেন। যার ফলে বাড়ছে সংক্রমণের হার।

অনেকে আবার মাস্কের পরিবর্তে রুমাল ব্যবহার করছেন। সেক্ষেত্রে রুমালের নিচের দিকটা ফাঁকা থাকার ফলে ভাইরাস প্রবেশ করার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, করোনা ভাইরাস মূলত মুখ, চোখ ও নাক দিয়ে শরীরের মধ্যে প্রবেশ করে ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায়। তাই মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি অনেকে আলাদাভাবে চশমা বা সানগ্লাস ব্যবহার করছেন। তবে ফেস শিল্ড ব্যবহার করলে আলাদাভাবে চশমা ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না । এটি ব্যবহার করলে চোখে, মুখে বা নাকে হাত দেওয়ারও সুযোগ থাকে না। যার ফলে সংক্রমণের আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়। এছাড়াও এটি ব্যবহারের আরেকটি সুবিধা হলো ব্যবহারের পরে সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে বা স্যানিটাইজ করে এটি আবার ব্যবহার করা যায়।

আরও পড়ুন :
মৃতের সংখ্যা ‘লুকাতে’ ব্রাজিলে করোনার তথ্য গায়েব!
করোনা ঠেকাতে এবার এলাকাভিত্তিক বিধিনিষেধ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেস শিল্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কিছু অসুবিধা আছে। যেমন- এটির দুপাশে অল্প কিছুটা ফাঁকা থাকে। সেই ফাঁকা স্থান দিয়ে হাঁচি বা কাশির ড্রপলেট প্রবেশ করে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। তাদের মতে, যদি তিন স্তরের মাস্ক সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার করা যায় তাহলে ফেস শিল্ড পরার প্রয়োজন পড়ে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ মানুষের ফেস শিল্ড পরার প্রয়োজন নেই। তবে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশকর্মী ও হাসপাতালের অন্যান্য কর্মীদের এটি ব্যবহার করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেউ যদি সামাজিক দূরত্ব মেনে চলেন, নিজের গাড়িতে যাতায়াত করেন এবং কর্মস্থানে যদি আলাদাভাবে বসেন তাহলে মাস্ক বা ফেসশিল্ডের মধ্যে যেকোনও একটা ব্যবহার করলেই চলবে। তবে গণপরিবহন ব্যবহারের ক্ষেত্রে দুটিই ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে, ফেস শিল্ড ব্যবহার করলেও মাস্ক ব্যবহার কখনই বাদ দেওয়া যাবে না।

জুন ০৭, ২০২০ at ১৩:৪০:৪২ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/সক/এমএআর