আলসালেহ লাইফ লাইনের খাদ্যসহায়তা ৫ হাজার পরিবার ছাড়াল

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় আলসালেহ লাইফ লাইন বাংলাদেশ লিমিটেডের উদ্যোগে খাদ্যসহায়তা অব্যাহত রয়েছে। করোনার প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়াদের ছাড়াও গরিব, দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে খাদ্যসহায়তা দিয়ে যাচ্ছে এই সেবা সংস্থাটি। এ পর্যন্ত কয়েক দফায় তাদের খাদ্যসহায়তা ৫ হাজার পরিবার ছাড়িয়ে গেছে। কয়েকটি প্যাকেজের মাধ্যমে এগুলো দেয়া হয়।

ধারাবাহিক খাদ্য কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার (২৯ এপ্রিল) উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের মানিকদিয়াড় ও বেগুনবাড়িয়া গ্রামের সাড়ে ৩শ পরিবারকে নিয়মিত প্যাকেজের খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেয়া হয়।

উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের ৭ ইউনিয়নে ইতোমধ্যে আলসালেহ লাইফ লাইনের খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- হোগলবাড়িয়া, মথুরাপুর, রিফায়েতপুর, আদাবাড়িয়া, প্রাগপুর, মথুরাপুর এবং দৌলতপুর সদর ইউনিয়ন। বাকি ইউনিয়নগুলোতেও পর্যায়ক্রমে খাদ্যসহায়তা দেয়া হবে বলে জানান সংস্থার কর্মকর্তারা। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় খাদ্য সামগ্রী দেয়া হয়।

এর আগে গত ২২ এপ্রিল এক হাজার পরিবারের মাঝে এক মাসের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। ওইদিন হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাজুডাঙ্গা, সরূপপুর, মানিকদিয়াড় ও সাদিপুরসহ পাশের রিফায়েতপুর ইউনিয়নের একাংশের গ্রাম দাড়পাড়ায় খাদ্যভাবে মানবেতর জীবন কাটানো এসব অসহায় পরিবারে খাদ্যসহায়তা পৌঁছে দেন আলসালেহ লাইফ লাইনের কর্মীরা। মাসিক প্যাকেজের খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে প্রতি পরিবারের জন্য রয়েছে, ২০ কেজি চাল, ১০ কেজি আটা, ২ কেজি ডাল, ২ কেজি তেল, ২ কেজি আলু, ১ কেজি লবণ এবং একটি করে সাবান।

এ ছাড়া বিশেষ প্যাকেজে চলতি মাসেই দুই দফায় কুয়েতভিত্তিক এই বেসরকারি উন্নয়ন ও সেবা সংস্থার উদ্যোগে এক হাজার পরিবারের মাঝে নগদ ১ হাজার করে টাকাসহ খাদ্যসহায়তা প্রদান করা হয়।

অালসালেহ লাইফ লাইন বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রোজেক্ট ম্যানেজার মামুনুর রশিদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং সংস্থাটির পরিচালক হুমায়ূন কবিরের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এবং নির্ধারিত স্পট থেকে খাদ্যসহায়তা দিচ্ছেন তাদের কর্মীরা। বুধবার (২৯ এপ্রিল) পর্যন্ত ৫ হাজার ৩২০ পরিবারকে এই খাদ্যসহায়তার আনা হয়। নিয়মিত এই প্যাকেজে রয়েছে, ৫ কেজি চাল, ৫ কেজি আটা, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি তেল, ১ কেজি আলু এবং একটি করে সাবান।

সংস্থার পরিচালক হুমায়ূন কবির বলেন, করোনার বিস্তার রোধে মানুষ যাতে ঘরে থাকে সেই লক্ষে আমাদের কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, আলসালেহ লাইফ লাইন অতীতেও মানুষের পাশে ছিল, আগামীতেও থাকবে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই খাদ্যসহায়তা অব্যাহত রাখা হবে।