কুষ্টিয়ায় পিসিআর ল্যাবে করোনা শনাক্তে জটিলতা!

গত ১৬ এপ্রিল কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে দেশের ১১তম পিসিআর ল্যাব উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, এমপি। এরপর সপ্তাহখানিক বিরতি দিয়ে গত ২৪ এপ্রিল থেকে এই পিসিআর ল্যাবরেটরিতে করোনার ভাইরাস শনাক্তে নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়। কিন্তু দুদিন যেতে না যেতেই এখানে করোনা শনাক্তের রেজাল্টে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

কুষ্টিয়ার পিসিআর (পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন) টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে সোমবার ১৭৩টি নমুনা পরীক্ষা হয়। এর মধ্যে আগের তুলনায় পজিটিভ সংখ্যা অনেক বেশি পাওয়া যায়। কিন্তু এসব ফলাফলে একটি বিশেষ বিষয়ের কারণে সেগুলো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাই ওই ফলাফল স্থগিত করে আইইডিসিআর থেকে তা পুনরায় পরীক্ষা করে চূড়ান্ত ফলাফল দেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আইইডিসিআর থেকে একজন বিশেষজ্ঞ কুষ্টিয়ায় আসেন। তিনি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মাত্র একজনের করোনা পজিটিভ নিশ্চিত করেন। বাকিগুলো অন্য পিসিআরে পুনরায় পরীক্ষা করে ফলাফল নিশ্চিত করার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এ অবস্থায় নিশ্চিত না হয়ে এ সম্পর্কিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে ইতোমধ্যে যাদের ফলাফল সম্ভাব্য পজিটিভ এসেছে ঝুঁকি এড়াতে সেই ‘আক্রান্তদের’ সতর্ক করার পাশাপাশি তাদের বাড়ি লকডাউন করেছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

সোমবারের (২৭ এপ্রিল) ওই রিপোর্ট অনুসারে, জেলার মিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন এবং ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুই উপসহকারী মেডিকেল অফিসার, কুমারখালী উপজেলার নারায়ণগঞ্জ ফেরত একই পরিবারের চারজন সদস্য, ঢাকা ফেরত এক তরুণী, খোকসা উপজেলার স্বামী-স্ত্রী ও তাদের তিন সন্তান এবং দৌলতপুর উপজেলার তিনজন আক্রান্তের তথ্য আসে।

অন্যদিকে কুমারখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাইমিন আল জিহানের শনাক্তের বেলায় উল্টো চিত্র দেখা যায়। তার কোভিডের রিপোর্ট কুষ্টিয়ায় স্থাপিত পিসিআরে নেগেটিভ আসে। পরে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে পুনঃপরীক্ষায় পজিটিভ রিপোর্ট আসে বলে জানা যায়। তিনি একটি মাত্র উপসর্গ (সর্দি) বহন করে আসছেন। এসিল্যান্ড মোহাইমিন আল জিহানের করোনা শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত করতে আইইডিসিআরে ফের পরীক্ষা করা হবে বলে গণমাধ্যমকে জানান জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলামের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) গণমাধ্যমে আসা খবরে বলা হয়, কুষ্টিয়ায় নতুন করে করোনায় আক্রান্তদের নমুনা গত ২৬ এপ্রিল সংগ্রহ করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে কুষ্টিয়া জেলায় এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ জন।

এদিকে অফিসিয়ালভাবে আসা ঘোষণা অনুযায়ী এ পর্যন্ত জেলায় এ পর্যন্ত ১৩ জন আক্রান্তের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলার বাইরে থেকে আক্রান্ত হয়ে তিনজন কুষ্টিয়ায় এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। যা গণমাধ্যমে আসা আক্রান্তের সংখ্যার (৩০ জন) অর্ধেকেরও কম।

সর্বশেষ প্রাপ্ত খবর অনুসারে, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) কুষ্টিয়ার পিসিআরে কুষ্টিয়াসহ মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গার মোট ৭৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় দুজনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদের একজন মিরপুর উপজেলার অপরজন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরের সেই আলোচিত করোনা আক্রান্ত দম্পতির পাঁচ বছর বয়সী শিশু সন্তান।