একই পরিবারের পাঁচজনসহ ৮ জনের করোনা শনাক্ত

কুষ্টিয়ায় এবার একই পরিবারের পাঁচজনসহ নতুন করে ৮ জনের করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে খোকসা উপজেলার ৫ জন এবং দৌলতপুর উপজেলার ৩ জন রয়েছেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এই আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এ নিয়ে জেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৮ জনে।

জানা গেছে, ঢাকায় কর্মরত পুলিশের এক এএসআই গত ২১ এপ্রিল কোভিড-১৯ টেস্ট করার জন্য আইইডিসিআরে নমুনা পাঠিয়ে পরেরদিন ২২ এপ্রিল মোটরসাইকেলে করে গোপনে নিজ বাড়ি খোকসার ওসমানপুর গ্রামে চলে আসেন। ওইদিনই আইইডিসিআরের রিপোর্টে তিনি পজিটিভ শনাক্ত হন। এর দুদিন পর করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যের (৩৫) অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খোকসা থেকে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়।

সেই পুলিশ সদস্যের সংস্পর্শে আসা তার এক বোনের পরিবারের পাঁচজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। তাদের বাড়ি একই উপজেলা শিমুলিয়া গ্রামে। আক্রান্ত পুলিশ সদস্যের বোন পেশায় স্বাস্থ্যকর্মী।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামরুজ্জামান সোহেল গণমাধ্যমকে বলেন, ঢাকায় কর্মরত ওই পুলিশ সদস্য ঢাকা থেকে ফেরার পথে তার স্বাস্থ্যকর্মী বোনের বাড়িতে আশ্রয় নেন। ধারণা করা হচ্ছে, আক্রান্ত পুলিশ সদস্যের সংস্পর্শে তারা সংক্রমিত হয়েছেন। নতুন এই আক্রান্তদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও দুজন নারী। পরে রাতেই তাদের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

এদিকে একই দিন (সোমাবার) রাতে দৌলতপুর উপজেলায় এক নারীসহ আরো তিনজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের তথ্য জানানো হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন- উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দফাদারপাড়া গ্রামের ১ জন, হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের সোনাইকুণ্ডি গ্রামের ১ জন এবং পিয়ারপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের ১ জন (নারী)। তাদের নাম পরিচয় পাওয়া গেলেও কীভাবে সংক্রমিত হয়েছেন তা জানা যায়নি। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি), নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজগর আলী ও দৌলতপুর থানার ওসি এসএম আরিফুর রহমান গভীর রাত পর্যন্ত আক্রান্তদের বাড়িসহ সংশ্লিষ্ট এলাকা লকডাউন করেন।

এর আগে রোববার (২৬ এপ্রিল) রাতে জেলার মিরপুর উপজেলায় একই সঙ্গে মা ও মেয়ের করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের খবর নিশ্চিত করা হয়। তাদের বাড়ি ওই উপজেলার আমলা ইউনিয়নের মহদীপুর গ্রামে। কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের নার্স হিসেবে কর্মরত মেয়ে কয়েকদিন আগে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন। ২৪ এপ্রিল ওই পরিবারের চারজনের নমুনা সংগ্রহ করে খুলনায় পাঠানো হয়। এর মধ্যে মা (৭০) ও মেয়ের (৩২) রেজাল্ট পজিটিভ আসে। ওইদিনই কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের পিসিআরে নমুনা পরীক্ষায় মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক নারী চিকিৎসক এবং দৌলতপুর উপজেলার তিনজন করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন।

গত ২২ এপ্রিল থেকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলায় দুই চিকিৎসকসহ মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৮ জনে দাঁড়াল। এর মধ্যে রয়েছেন- দৌলতপুরে ৬ জন, মিরপুরে ৩ জন, খোকসায় ৫ জন, কুমারখালীতে ২ জন, ভেড়ামারায় ১ জন এবং কুষ্টিয়া সদরে ১ জন।

এ ছাড়া ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ এপ্রিল পালিয়ে এসে দুই জেলার (রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া) কর্মকর্তাদের মধ্যে ঠেলাঠেলির ঘটনায় আলোচনায় উঠে আসা দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহিরমাদী গ্রামের ভ্যাগল মালিথার ছেলে তছিকুল ইসলাম (৩১) ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী শিল্পী খাতুন (২৫) কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। এই হিসেবে দৌলতপুর উপজেলার ৮ জনসহ জেলায় মোট করোনা রোগীর সংখ্যা এখন ২০ জন।

এপ্রিল ২৮, ২০২০ at ০৯:৩৩:৪২ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আক/ইহ/এএডি