ভিজিডির চাল আত্মসাতের দায়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

দরিদ্রদের ভিজিডির চাল আত্মসাতের দায়ে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুণ্ডি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেছেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতের বিচারক সেলিনা খাতুন এ মামলা করেন। যা ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৯০(১) (সি) এর এখতিয়ার বলে ক্রিমিনাল মিস কেস। মামলাটির নম্বর ০২/২০২০।

মামলার আদেশে উল্লেখ করা হয়, দৌলতপুর উপজেলার খলিশাকুণ্ডি ইউনিয়নের মদিনা খাতুন নামে এক মহিলার নামে মহিলা অধিদপ্তরের দেয়া ভিজিডি কার্ড এক বছর আগে ইস্যু হলেও তিনি সেই কার্ড সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। তার নামে কে চাল উত্তোলন করেছেন তাও তিনি অবগত নন। ওই চাল খলিশাকুণ্ডি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বিশ্বাসের যোগসাজসে আত্মসাত করা হয় বলে ভুক্তভোগী ওই নারী অভিযোগ করেন।

আদেশে আরো উল্লেখ করা হয়, ইউপি চেয়ারম্যান এবং মেম্বার কর্তৃক এলাকার অসহায় মানুষের চাল আত্মসাতের ঘটনা নতুন নয় মর্মে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। যা একটি ফৌজদারি অপরাধ। বিষয়টি তদন্তপূর্বক আগামী ১০-০৬-২০২০ তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, দৌলতপুর থানাকে নির্দেশ দেয়া হলো।

এ ব্যপারে অভিযুক্ত খলিশাকুণ্ডি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বিশ্বাস বলেন, একটি রাজনৈতিক মহল ষড়যন্ত্র করে গণমাধ্যমে উদ্দেশ্য প্রণোদিত মিথ্যা বানোয়াট খবর প্রকাশ করানোয় আমার বিরুদ্ধে এই মামলা হয়েছে। এখন আমি জানতে পারছি ওই মহিলা তার চাল পাননি। এ ছাড়া ওই মহিলাও কোনো দিন আমার কাছে আসেননি।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ইশরৎ জাহান বলেন, ভিজিডির চাল আত্মসাতের বিষয়টি তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে আদালতও স্বপ্রণোদিত মামলা করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আশা করছি এই বিষয়টি নিয়ে আমরা সমন্বিতভাবে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবো।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আরিফুর রহমান জানান, সরকারি চাল আত্মসাতের ব্যাপারে আদালত কর্তৃক মামলার বিষয়টি শুনেছি। তবে আদেশের কপি এখনো হাতে পাইনি। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।