দৌলতপুরে প্রথম তিনজন করোনা রোগী শনাক্ত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় প্রথমবারের মতো তিনজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলার মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেকের এক নারী চিকিৎসকের শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

আক্রান্তরা দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর, তেকালা ও লাউবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তারা তিনজনই পুরুষ। তাদের মধ্যে দৌলতপুর সদর ইউনিয়নের লাউবাড়িয়া গ্রামের আক্রান্ত ব্যক্তি কর্মসূত্রে নারায়ণগঞ্জে বসবাস করতেন। সেখান থেকে তিনি সম্প্রতি বাড়ি ফিরে আসেন। ফিলিপনগর ইউনিয়নের ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকার আক্রান্ত ব্যক্তি পেশায় পল্লী চিকিৎসক। তিনি আশেপাশের গ্রামে ঘুরে জ্বর, সর্দিতে আক্রান্তদের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের তেকালা গ্রামে আক্রান্ত অন্যজনের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তিনি সম্প্রতি ঢাকা থেকে পালিয়ে এসেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

রোববার রাতে এ রিপোর্ট লেখার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজগর আলী ও দৌলতপুর থানার ওসি এসএম আরিফুর রহমান কোভিড-১৯ এ আক্রান্তদের বাড়ি এবং সংশ্লিষ্ট এলাকা লকডাউনের কাজ করছিলেন।

এ নিয়ে কুষ্টিয়ার ৫ উপজেলায় দুই চিকিৎসকসহ ৮ জন করোনা আক্রান্তকে শনাক্ত করা হলো। এর মধ্যে রয়েছেন- দৌলতপুরে ৩ জন, কুমারখালীতে ২ জন, কুষ্টিয়া সদরে ১ জন, ভেড়ামারায় ১ জন এবং মিরপুরে ১ জন।

গত ২২ এপ্রিল সর্বপ্রথম জেলায় দুজন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। তাদের একজনের বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ায়। অপরজন কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের গট্টিয়া গ্রামের। এরপরের দিন ২৩ এপ্রিল করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্ত হন আরো দুজন। তাদের মধ্যে একজন ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার। অপরজন কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের চর মহেন্দ্রপুর গ্রামের বৃদ্ধ।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নমুনা পাঠানোর পর পরীক্ষায় তাদেরকে পজিটিভ শনাক্ত করা হয়। এরপর কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চালু হওয়া পিসিআরে গত ২৪ ও ২৫ এপ্রিল কয়েকজনের নমুনা পরীক্ষা করা হলেও রেজাল্ট আসে নেগেটিভ। রোববার (২৬ এপ্রিল) সেখানে ৭০ জনের নমুনা পরীক্ষার রেজাল্টে দৌলতপুর উপজেলার তিনজনসহ পাশের মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক নারী মেডিকেল অফিসার করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন।

প্রসঙ্গত, দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহিরমাদী এলাকার ভ্যাগল মালিথার ছেলে তছিকুল ইসলাম (৩১) ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী শিল্পী খাতুন (২৫) কর্মসূত্রে ঢাকায় অবস্থানকালে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। পাঁচ বছর বয়সী একমাত্র শিশু সন্তান ফাতেমাকে সঙ্গে নিয়ে তারা গত ২৪ এপ্রিল সকালে ঢাকা থেকে দৌলতপুরে নিজ বাড়ির উদ্দেশে পালিয়ে আসার পথে ওইদিন বিকেলের দিকে রাজবাড়ীতে পুলিশের হাতে আটক হন। এ নিয়ে রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে ঠেলাঠেলির একপর্যায়ে দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জাহান বাদশার হস্তক্ষেপে তাদের কুষ্টিয়ায় নিয়ে আসা হয়। ভর্তি করা হয় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে। এই হিসেবে এ উপজেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা ৫ জনে দাঁড়িয়েছে।