দুই শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৯ শিক্ষক!

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান ও বাণিজ্য শাখায় মাত্র দুইজন শিক্ষার্থী। এই দুই শিক্ষার্থীর জন্য ৯জন শিক্ষক রয়েছে বলে জানা গেছে। শিক্ষার্থীর অভাব হলেও ওই শিক্ষকরা প্রতিবছর বসে বসে সরকারি সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। গত ১০ বছর ধরে একই অব¯’া বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিকালে ওই প্রতিষ্ঠানে খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে ওইসব তথ্য।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেল, বিজ্ঞান বিভাগের একমাত্র শিক্ষার্থী আসাদুল ইসলাম আর বাণিজ্য বিভাগেও একমাত্র শিক্ষার্থী আবু হোরায়রা। সেখানে বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষক রয়েছেন আশরাফুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, ফরিস উদ্দিন, মশিউর রহমান, জাইদুল ইসলাম, গোলাম শহীদ, এসএম মাসুদ আখতার, শহীদুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম। ৯জন শিক্ষকের মধ্যে দুইজন প্রদর্শক। চলতি বছরেই যে ওই শিক্ষার্থী সংকট তা কিš‘ নয়। গত বছরও বিজ্ঞান বিভাগে দুইজন ও বাণিজ্য বিভাগে ১জন শিক্ষার্থী ছিল। এর আগের বছর ওই বিভাগে শিক্ষার্থী শূণ্য ছিল। গত ১০ বছরের তথ্য মতে বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগে ৫/৬ জনের বেশি শিক্ষার্থী ছিল না। দাঁতভাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্র শুরু করে ১৯৫৬ সালে। কলেজ শাখা এমপিও ভুক্তি হয় ২০০১ সালে। এমপিও ভুক্তির প্রথম কয়েক বছর শিক্ষার্থী ছিল।

ওই প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান শাখার একমাত্র শিক্ষার্থী আসাদুল ইসলাম বলে, ‘আমি তো এখানে ভর্তি হয়ে বিপদে পড়ে গেছি। আমি ভর্তি হওয়ার আর কোনো ছাত্রছাত্রীই ভর্তি হয়নি এ বিভাগে। আমি অনেকবার ছাড়পত্র নিয়ে অন্য একটা প্রতিষ্ঠানে যেতে চেয়েছি কিš‘ স্যাররা ছাড়পত্র দেন না। শিক্ষার্থী না থাকায় অনেক সময়েই স্যাররা ক্লাশ নেন না। কোনো প্রতিযোগি না থাকায় ক্লাসে পানসে পানসে মনে হয়, মন বসে না, লেখাপড়াও হয় না।’ একই ধরণের কথা বলে বাণিজ্য বিভাগের একমাত্র শিক্ষার্থী আবু হোরায়রা। সে বলে, ‘এর আগের বছর গুলোতে বাণিজ্য বিভাগে কোনো শিক্ষার্থীই ছিল না। স্যাররা আমাকে অনেক আশা ও ভালো রেজাল্ট করার কথা বলে একপ্রকার জোর করেই ভর্তি করিয়েছে। কিš‘ কোনো ছাত্রছাত্রী না থাকায় একা একা লেখাপড়া করে মজাই নাই।’
আরও পড়ুন: ফেনসিডিল ইয়াবাসহ ট্রাক প্রাইভেটকার জব্দ, আটক ৩

নাম প্রকাশে অনি”ছুক ওই প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষক বলেন, ‘বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগে গত দশ বছর ধরেই শিক্ষার্থী খড়া চলছে। বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগে ৫/৬ জনের বেশি শিক্ষার্থী ছিল না। শিক্ষার্থী না থাকায় ওই দুই বিভাগের শিক্ষকরাও নিয়মিত কলেজ আসেন না। কলেজে উপ¯ি’তির স্বাক্ষর দিয়েই চলে যান। অনেকে আবার দিনের পর দিন অনুপ¯ি’ত থাকেন। তবে শিক্ষক হাজিরা খাতায় উপ¯ি’তি স্বাক্ষর ঠিকই রয়েছে। একদিন কলেজে উপ¯ি’ত হয়ে সারা মাসের উপ¯ি’তি স্বাক্ষর দিয়ে যান ওই শিক্ষকরা।’ প্রতিষ্ঠানের মানবিক বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, ‘আমরা নিয়মিত ক্লাশ নেই, পরিশ্রম করি। আর বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষকরা বসে বসে সরকারি টাকা তোলেন।’

ওই স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক গর্ভানিং বডির সদস্য আমির হোসন অভিযোগ করে বলেন, ‘সরকারি নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে মাসের পর মাস কলেজে না এসে বেতন তোলেন বিজ্ঞান ও বানিজ্য বিভাগের শিক্ষকরা। এতকিছু জানার পরও কোন ব্যব¯’া নেন না অধ্যক্ষ বদিউজ্জামন। এক প্রকার সহযোগিতা করেন ওই শিক্ষকদের।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দাঁতভাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বদিউজ্জামান বলেন, ‘আমি তো জানি বিজ্ঞান বিভাগে দুইজন আর বাণিজ্য বিভাগে ৩জন শিক্ষার্থী রয়েছে। আমি খাতা না দেখে ভালো করে বলতেও পারব না। এ বছর শিক্ষার্থী হয়নি। আগামি বছরে ভর্তি হবে তাতে সমস্যা কোথায়।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এর আগের বছর গুলোতে ৬/৭ জন করে শিক্ষার্থী ছিল। শিক্ষার্থী শূণ্য একবারও ছিল না।’

ওই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি রৌমারী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সামিউল ইসলাম জীবন বলেন, ‘একজন দুইজন শিক্ষার্থীর বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষকই নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে উপ¯ি’ত থাকেন।’

দেশদর্পণ/এজিএল/এসজে