মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা, ১০ পুলিশ প্রত্যাহার

চট্টগ্রামের চকরিয়ায় প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বাঙ্গালীর বাড়িতে পুলিশের হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে ১০ পুলিশ সদস্যকে চকরিয়া থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ৫ মার্চ চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের মাঝিরঘাট এলাকার প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন বাঙ্গালীর বাড়িতে পুলিশ হামলা চালিয়ে আসাবাবপত্র ভাংচুর, লুটপাট ও মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী, ছেলে, পুত্রবধু, নাতি-নাতনিসহ ৭ জনকে মারধর করে।
পুলিশের হামলায় আহত হয়  প্রয়াত বীরমুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী ও লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নেছারা বেগম (৬০), পুত্রবধু চকরিয়া মহিলা কলেজের প্রভাষক ফরিদা ইয়াসমিন (৩০), মোরশেদুল আলম শিফাত (৩০), তার স্ত্রী শাবনূর শোভা (২০), প্রয়াতের পুত্রবধু শাহানা আক্তার শানু (৩১ ),পুত্রবধু ফাতেমা ইয়াসমিন, নাতি আরশেনুল করিম সোহা (৯) ও নাতনি আনোয়ার মোস্তাফিজ (১৪) সহ হাসান আবুল কাশেম নামে তাদের পারিবারিক এক মেহমান।
এদিকে গুরুতর আহত মোরশেদুল আলমকে চকরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে ১০ পুলিশ সদস্যকে চকরিয়া থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
প্রত্যাহারকৃতরা হলেন এস আই কামরুল ইসলাম, এস আই মিজান, এস আই তুষ্ট লাল বিশ্বাস, এএসআই জেড রহমানসহ ৬ কনস্টেবল।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১ মার্চ রাত ৯টার দিকে চকরিয়া পৌরশহরের ওসান সিটি মাকের্টে একটি ব্যবসা প্রতিষ্টানে হামলা ও লুটপাট চালায় মো.সাগর নামের এক বখাটে। ওই হামলায় দুইজন গুরুতর আহত হয়। এ ঘটনার পর থেকে পুলিশ সাগরকে আটক করতে অভিযানে নামে। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের মাঝির পাড়ার আবুল কালামের প্রকাশ চোরা কালামের বাড়িতে তার ছেলে সাগরকে ধরতে অভিযানে চালায় পুলিশ। অভিযান চালানোয় সময় সাগরকে আটক করতে চাইলে পুলিশের উপর হামলা চালায় সাগর ও তার পরিবারের সদস্যরা। এতে পুলিশের ৩  সদস্য আহত হয় বলে জানান ওসি হাবিবুর রহমান।
এব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নেছারা বেগম বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে থানার এসআই কামরুল ইসলাম, তুষ্ট লাল বিশ্বাস, মিজান ও এএসআই জেড রহমানের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের পুলিশের ১টি টিম ৩টি গাড়ি নিয়ে সাগরকে গ্রেপ্তার করতে তাদের বাড়ির অভিযান চালায়। কিন্তু আসামী সাগরের বাড়ী থেকে ৫০ গজ দুরে অবস্থিত আমার বাড়িতে পুলিশ ঢুকে কেন তান্ডব চালালো বোধগম্য নয়। তারা প্রথমে বাসায় ঢুকে প্রতিটি রুমে তল্লাশি করে, কিছু না পেয়ে বাসার জিনিষপত্র ভাংচুর চলালে বাধা দেই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে আমার চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে দিয়ে টানা-হেছড়া করতে থাকে। আমাকে ছাড়াতে এগিয়ে এলে আমার ছেলে, পুত্রবধু ও নাতি-নাতনিদের মারধর করতে থাকে।
মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেনের ছেলে এম. কে. মিরাজ বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা কাইছারের ইন্ধনে পুলিশ আমার বাড়িতে হামলা- ভাংচুর, মারধরের ঘটনা ঘটায়। আমি এর বিচার চাই। যারা এ ঘটনার সাথে জড়িত আমি তাদের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেবো।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.হাবিবুর রহমান বলেন, পুরো ঘটনার ব্যাপারে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কাজী মো.মতিউল ইসলাম বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সবাইকে শান্ত থাকার জন্য বলেছি। এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার দায়ে ১০ পুলিশ সদস্যকে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।