থেমে নেই নদীপথে কাঠ পাচার

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় থেমে নেই নদীপথে কাঠ পাচার। উপজেলার কর্ণফুলী নদীপথে নৌকা দিয়ে বেপরোয়াভাবে সংরক্ষিত বনের কাঠ পাচার হলেও নীরব বন বিভাগ।

বন বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগসাজশ ও রাঙ্গামাটির জেলার কাপ্তাই, ইছামতি, রাঙ্গুনিয়া, পোমরা চেক ষ্টেশন, কোদলা বিট, ইছামতি রেঞ্জ, ইসলামপুর বিট, খুরুশিয়া রেঞ্জকে ম্যানেজ করে এসব কাঠ পাচার করছে পাচারকারী সিন্ডিকেট।

জানা যায়, রাঙামাটির সর্ববৃহৎ বাগান আলিখিয়ং, ফারুয়া, কাপ্তাই পাল্পউডের বাগান বিভাগ রাজস্থলি, কাপ্তাই এবং বান্দরবানসহ চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের খুরুশিয়া রেঞ্জ এলাকা থেকে বিভিন্ন প্রজাতীর কাঠ রাঙ্গুনিয়ায় আসছে। এক শ্রেণীর সংঘবদ্ধ কাঠ পাচারকারী রাতের আঁধারে এসব কাঠ চট্টগ্রাম শহর দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে।
আরও পড়ুন: ৫০ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, রাঙামাটি দক্ষিণ বন বিভাগের সর্ববৃহৎ বাগান বিভাগ আলিখিয়ং, সাংক্রাছড়ি, ফারুয়া, আড়াছড়ি, কাপ্তাই পাল্প উড বাগান বিভাগের কাপ্তাই, রাজস্থলী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের খুরুশিয়া রেঞ্জ এবং বান্দরবান বন বিভাগের বাগান থেকে মুল্যবান সেগুন, গর্জন, চাপালিশ, আকাশমণি, গামারীসহ নানা প্রজাতীর কাঠ রাঙ্গুনিয়ায় আসছে। রাঙ্গুনিয়া চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান, চৌধুরী গোট্টা, খোন্দকার পাড়া, সুফি গোট্টা, হাইব্ব্যার গোট্টা, বুইজ্জার দোকান, কাটাখালী, মরিয়ম নগর, গোডাউন, পোমরা শান্তির হাট, বুড়ির দোকান, পাহাড়তলি, ইসলামপুর, ধামাইর হাট, মোগলের হাট থেকে মরিয়ম নগর ডিসি সড়ক, চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক দিয়ে এবং চন্দ্রঘোনা রাইখালী, ডং নালা, কালুগোট্টা, আধুর পাড়া, কোদালা, মরিয়ম নগর, বালু গোট্টা, পাঁচবাড়ি, রশিদিয়া পাড়া, ইছামতি, শিলক, সরফভাটা, পাইট্টালীকুল, গোচরা বাজার, বাচাশাহর মাজার, বেতাগী থেকে কর্ণফুলী নদী পথে এসব কাঠ পাচার করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, গত ৩ মাসে ওয়াগ্গা বিজিবির ৪১ ব্যাটালিয়ন এর সদস্যরা উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় পাচারকালে বিপুল পরিমাণ কাঠসহ ১০’টি চাঁন্দের গাড়ী আটক করে। এছাড়াও চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি ঘাগড়া বন শুল্ক ও পরীক্ষণ ফাঁড়ি সদস্যরা চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কে ঘাগড়া কলাবাগান থেকে রাঙ্গুনিয়া রানীরহাটে পাচারকালে ১৩১.৭৩ ঘনফুট রদ্দা সেগুন কাঠ উদ্ধার করেছে। যার মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা।
আরও পড়ুন: ধেয়ে আসছে পৃথিবীঘাতী গ্রহাণু, ধ্বংস হতে পারে মানবসভ্যতা: নাসা

এদিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজানগর, ইসলামপুর, রানীর হাট, বগাবিলি, ধামাইরহাট, জঙ্গল পারুয়া, হোচনাবাদ, নিচিন্তাপুর, চন্দ্রঘোনা, মরিয়ম নগর, কোদালা, শিলক ,সরফভাটা, বেতাগী, পোমরা ও পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকার অবৈধ কাঠ উদ্ধার করেছে বলে বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। তবে বন বিভাগ ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী উদ্ধার তৎপর অব্যাহত থাকলেও থেমে নেই কাঠ পাচার।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রহলাদ রায় বলেন, সংঘবদ্ধ কাঠ চোরেরা কাঠ পাচারে এখন নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। কাঠ চোরেরা কর্ণফুলী নদী পথে নৌকা দিয়ে কাঠ পাচার শুরু করছে। নদী পথে নৌকায় কাঠ পাচার ঠেকাতে বনকর্মীরা সক্রিয় আছেন।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বলেন, নৌকায় কাঠ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট নৌকার মালিক, শ্রমিক এমনকি প্রমাণ সাপেক্ষে দোষী ব্যাক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

দেশদর্পণ/এমএম/এসজে