ভুয়া সেনা কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রবাসীর মেয়েকে বিয়ে, অতঃপর….

যশোরের চৌগাছায় ভুয়া সেনা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক প্রবাসীর ১০ম শ্রেনীতে পড়–য়া মেয়েকে বিয়ে করার পর প্রায় ১১ লাখ টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছে এক প্রতারক। জীবন চৌধুরী নামের ওই প্রতারক ঝিনাইদাহ জেলার মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের ধান্যহাড়িয়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, প্রায় তিন বছর আগে চৌগাছার জগন্নাথপুর গ্রামের প্রবাসী আনিছুর রহমানের স্ত্রী খাদিজা বেগম অসুস্থ্য হয়ে উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালেই খাদিজা বেগমের সাথে পরিচয় হয় প্রতারক জীবন চৌধুরীর। এ সময় মায়ের শয্যা পাশে বসা তার ১০ম শ্রেনী পড়–য়া মেয়ে সোনিয়া খাতুন। এরপর থেকে জীবন চৌধুরী প্রায় জগন্নাথপুর গ্রামে প্রবাসী আনিছুর রহমানের বাড়িতে যাতায়াত করতে থাকেন। একপর্যায় সোনিয়াকে সে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এ সময় সোনিয়ার মা জীবন চৌধুরী কি করেন জানতে চাইলে নিজেকে তিনি সেনা কর্মকর্তা পরচিয় দেন এবং যশোর শহরের ধর্মতলায় তার বাড়ি বলে জানান। এরই মধ্যে জীবন চৌধুরী ভুয়া পোষাক পরিহীত একটি ফটো সোনিয়ার মা খাদিজা বেগমের কাছে দিয়ে যান। বিষয়টি নিয়ে খাদিজা বেগম তার প্রবাসী স্বামী আনিছুরের সাথে আলোচনা করেন। আনিছুর ছেলের ছবি দেখতে চাইলে আর্মি পোষাক পরিহীত ওই ফটো তার স্বামীর কাছে পৌছে দেন।

আনিছুর রহমান ফটো দেখে এই বিয়ে না দেয়ার জন্য সাফ জানিয়ে দেন। কিন্তু প্রতারক জীবন চৌধুরী নানা ভাবে প্রলোভন দেখিয়ে মেয়ের মা খাদিজা বেগমকে রাজি করান এবং পিতা আনিছুরের অমতেই ২০১৭ সালে তাদের বিয়ে হয়। সে সময়ে সোনিয়ার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়ায় যশোর শহরে যেয়ে অজানা স্থানে তারা বিয়ে সম্পন্ন করে।

এরপর সোনিয়ার মামাকে সেনাবাহিনীতে চাকুরী দেয়ার নাম করে ওই পরিবারের নিকট থেকে ৯ লাখ টাকাসহ প্রবাসী আনিছুরের পাঠানো প্রায় ২ লাখ, মোট ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক। কিছু দিন পর সোনিয়াকে তার পিতৃলয়ে পাঠিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন: পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে হত্যা

শ্বাশুড়ি খাদিজা বেগমকে বলেন, সেনাবাহিনীতে চাকুরী করি, চাকুরী সুবাদে এখনও বিয়ে করার সময় হয়নি, সেকারনে সোনিয়া আপনার নিকট থাকবে, আমি ছুটি পেলে চলে আসবো। এ ভাবেই কেটে গেছে প্রায় দুই বছর। সম্প্রতি আনিছুর রহমান বিদেশ থেকে বাড়ি এসে জামাই জীবন চৌধুরীকে তার বাড়িতে আসতে বলেন। কিন্তু প্রতারক নানা টালবাহানা শুরু করে। আনিছুর রহমানের সন্দেহ আরও বেড়ে যায়। তিনি জীবনের ঠিকানা খুজতে যশোরের ধর্মতলায় যায় এবং জানতে পারেন যে বাড়ি দেখিয়ে সে বিয়ে করেছে সেখানে জীবন ভাড়া থাকতো। তার আসল বাড়ি মহেশপুরের ধাণ্যহাড়িয়া গ্রামে। এরপর তিনি চলে যান ধান্যহাড়িয়া গ্রামে এবং খুজে পাই জীবন চৌধুরীর ঠিকানা।

আনিছুর রহমান জানান, প্রতারক জীবন চৌধুরীর পিতা সিরাজুল ইসলাম ও মা রুপভান বেগমের কাছে তার ছেলের বিয়ের সম্পর্কে জানতে চাইলে, তারা বলেন শুনেছি ছেলে বিয়ে করেছে তবে এখনো ছেলে বউকে দেখিনি। আমি তার ছেলের প্রতারনার বিষয়টি জানালে তারা উল্টো আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। তিনি আরও বলেন, আমার মেয়ের সাথে বিয়ের নামে প্রতারণা করে জীবন চৌধুরী তাকে নষ্ট করেছে। তাদের বিয়ে, কাবিন এমনকি কাজী কোন কিছুই সঠিক ছিলনা। আমার পরিবারের সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারক হাতিয়ে নিয়েছে ১১ লাখ টাকা। প্রতারক জীবন চৌধুরীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয়ে জীবন চৌধুরীর সাথে যোগাযোগের জন্য তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে বারবার ফোন দেয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

দেশদর্পণ/এমআই/এসজে