বসুন্দিয়ায় রেল জমি দখল করে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে স’ মিল

যশোরের বসুন্দিয়ায় রেল জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ ‘স’ মিল। প্রভাব খাটিয়ে এই ‘স’ মিলটি গড়ে তুলেছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ওয়াহেদুর রহমান ওহেদ ওরফে আব্দুল ওয়াহেদ। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই তিনি এই ‘স’ মিলটি চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এদিকে, ‘স’ মিলের সকল গাছ রেল লাইন ও যশোর-খুলনা মহাসড়কের উপর রাখায় যে কোন সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সূত্র জানায়, ‘স’ মিল করতে হলে জেলা প্রশাসক, বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিসসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরের অনুমতি লাগে। কিন্তু বসুন্দিয়ার ওহেদুর রহমান সকল নিয়ম-নীতি উপক্ষো করে গড়ে তুলেছেন ‘স’ মিলটি। আবার রাস্তা দখল করে স’ মিলের সকল গাছ ও কাঠ রাখছেন। কেউ এর প্রতিবাদ করলে তাকে নানাভাবে হয়রাণি করা হচ্ছে। হুমকি দেওয়া হচ্ছে জীবনাশের।

সরেজমিন দেখা গেছে, ওয়াহেদুর রহমানসহ বেশ কিছু প্রভাবশালী জেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে তুরেছেন অবৈধ স’মিল। অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স’মিলগুলিতে গিয়ে দেখা গেছে, সব কিছু চলছে মান্ধাতার আমলের ডিজেল চালিত স্যালোমেশিন দিয়ে। অনেকর জমির বৈধ কোন কাগজপত্র নেই। নেই পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, বন বিভাগের ছাড়পত্র নাই। আবার কেউ কেউ স’মিলের কোন কাগজপত্র নবায়ন করেননি। তাছাড়া ফায়ার সার্ভিসের নির্দেশনাবলী মানছে কেউ। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সবাই অবৈধভাবে চালাচ্ছে স’মিল।
এদিকে, যশোর জেলায় স’মিলের সংখ্যা কতো তা পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে সঠিক কোন তথ্য নেই। অবৈধ স’মিলগুলি বন্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। ফলে যে যার মত গড়ে তুলছে স’ মিল।
আরও পড়ুন: অপকর্ম ঢাকতে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য

রেলওয়ে জায়গা অবৈধ স’ মিল গড়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় সিঙ্গিয়া রেলস্টেশনের ম্যানেজার বাবুল হোসেন বলেন, রেলওয়ের জায়গা কাউকে কোন বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক করা হয়েছে। আমরা এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এ ব্যাপারে আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, আমরা স’ মিলের সকল কাগজপত্র আছে। আমি কাউকে কোন কাগজপত্র দেখাতে পারবো না।

রেলওয়ের জায়গা কিভাবে স’ মিল করলেন জানতে চাইলে বলেন, আমি সব ম্যানেজ করে করেছি। এ ব্যাপারে কাউকে কোন হিসাব কিম্বা জবাবদিহিতা করতে পারবো না। যদি কেউ কিছু পারে তবে সে করুক।

জানতে চাউলে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আবুল লাইছ বলেন, যশোরের বৈধ স’ মিল কত আছে এর ফিগার না দেখে বলা যাবে না। তবে আমরা অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।

দেশদর্পণ/একে/এসজে