করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

চীনে করোনাভাইরাসের হানায় মৃত্যুর সঙ্গে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যাও। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সোমবার দিনশেষে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২৫। এছাড়াও আক্রান্ত হয়েছেন আরও ২০ হাজারের বেশি মানুষ।

চীনের বাইরে কমপক্ষে ২৩টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। বাংলাদেশে এখনো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কেউ শনাক্ত হয়নি। তবে ঝুঁকি আছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) ১৪ দিনে সন্দেহভাজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৩৯ জনের লালার নমুনা পরীক্ষা করেছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশে কোনো আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়নি। আইইডিসিআর এ তথ্য জানিয়েছে।

চীনের হুবেই প্রদেশ থেকে আরও ১৭১ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরে আসতে চাইছেন। তবে সেখান থেকে যাঁরাই আসবেন, তাঁদের সবাইকে ১৪ দিন উত্তরার আশকোনায় বিশেষ ক্যাম্পে রাখা হবে। বাংলাদেশে যাতে করোনাভাইরাস না আসতে পারে, সে জন্য প্রতিরোধমূলক যত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, তা নেবে সরকার। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় এ সিদ্ধান্ত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। পরে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ-সংক্রান্ত নানা তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।
আরও পড়ুন: কেরালায় করোনাভাইরাস ‘বিপর্যয়’

চীনের হুবেই প্রদেশ থেকে আরও ১৭১ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরে আসতে চাওয়ার তথ্য জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বাংলাদেশ থেকে উড়োজাহাজ পাঠাতে একটু সমস্যা হচ্ছে। কারণ, একবার উড়োজাহাজ চীনে গেলে সেই পাইলটকে অন্য কোনো দেশ ঢুকতে দিচ্ছে না। তাই চীনের কোনো এয়ারলাইনসের ভাড়া করা উড়োজাহাজে বাংলাদেশিদের আনার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এদিকে আশকোনা হজ ক্যাম্পে আলাদা করে রাখা চীনফেরতদের মধ্যে একজনের জ্বর হয়েছে। তাঁকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই হাসপাতালে ভর্তি থাকা আটজনের মধ্যে একজন ছাড়া অন্য সবাইকে হজ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তিনটি পরিবারের আটজন ভর্তি আছেন। তাঁদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

দেশদর্পণ/এসজে