এসআই শাহাবুলকে সরাতে মাদক সিন্ডিকেটের চক্রান্ত

রাজশাহী নগরীর মতিহার থানা থেকে এসআই শাহাবুলকে সরাতে মাদক সিন্ডিকেটের লোকজন চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। মতিহার থানায় যোগদান করার পর থেকেই এলাকার মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট, চোরাকারবারি, ছিনতাইকারি ও দুস্কৃতীকারিদের আতঙ্ক এসআই শাহাবুল।

এসআই সাহাবুল জানায়, গত শনিবার রাজশাহীর স্থানীয় একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও গতকাল রোববার রাজশাহীর একটি দৈনিক স্থানীয় পত্রিকায় সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তা ভিত্তিহিন।

তিনি বলেন, মতিহার থানায় যোগদানের পরে একাধিক মাদক উদ্ধারসহ পলাতক ওয়ারেন্ট আসামী, সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী গ্রেফতার ভাল কাজের অবদান রাখায় আরএমপি পুলিশ কমিশনার শ্রেষ্ঠ পুলিশ অফিসার হিসাবে তাকে অনুষ্ঠানিক ভাবে ৩ বার পুরস্কার দিয়েছেন। মতিহার থানা এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রনে তার অবদানও সবচে বেশি।

এ জন্য মতিহার থানা এলাকার মাদক সিন্ডিকেট তাকে থানা থেকে সরাতে এলাকাবাসীর নাম করে একটি মিথ্যে অভিযোগ করেছে বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়াও গৃহবধূকে যৌন হয়রানিসহ মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির অভিযোগ তুলে গত শনিবার আরএমপি কমিশনার ও আইজিপি কমপ্লেন সেলে এলাকাবাসী নাম দিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা একটি লিখিত ভিত্তিহিন অভিযোগ দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
আরও পড়ুন: যাত্রাপুর হাট সিসি ক্যামেরার আওতায়

ওই অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, এর মধ্যে শরিফ এর বিরুদ্ধে ১০ টি মাদক মামলা রয়েছে, মোস্তাকিনের বিরুদ্ধে ২টি মাদক মামলা, এবাদতের ১টি, শামীম হোসেনের ৩টি, চম্পা বেগমের বিরুদ্ধে ৬টি, আসাদুলের ৩টি, জাহিদ হাসান এর বিরুদ্ধে ৫টি মাদক মামলা আছে। এছাড়া এরা সবাই বর্তমানে জেল হাজতেই আছে। এ সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে তাদের নাম ব্যবহার করেছে মাদকসিন্ডিকেটের সদস্যরা।

এছাড়া, চরশ্যামপুরের মোবারোক, মোস্তাকিনকে মিথ্যা মাদক মামলা দেয়া এবং চিহৃত মাদক ব্যবসায়ী যাদের কাছে থেকে মাসিক চাঁদা নেয়া হয় বলা হয়েছে অভিযোগে। এর মধ্যে মোছাম্মাদ গুলে বেগম ওরফে গুলে, মোবারক, মিঠু, চম্পা, চম্পার মেয়ে রিমা, রফিকের স্ত্রী শিখা বেগম, আসলাম, আক্কাস, পিচ্চি আক্তার, মিঠু কে মাদক ব্যবসা করার সুযোগ করে দেয়া হয়। অথচো এদরকেই মাদকসহ আটক করে মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করেছে এসআই সাহাবুল।

এদের মধ্যে, শিখা বেগমের বিরুদ্ধে ৩টি মাদক মামলা, আসলাম আলীর বিরুদ্ধে ৪টি মামলা, আকতারের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা, আক্কাস আলীর ২টি মামলা, মোবারক হোসেনের ৪টি মাদক মামলা, গোলেজান বিবির ৪টি মামলা, মিঠু হাসেনের ৩টি মামলা, রুমা বেগমের ২টি মামলা, রিমা বেগমের ২টি মামলা, চম্পা বেগমের ৭টি মামলা, আসাদুলের ৩টি, জাহিদ হাসানের ৫ টি মামলা।

মতিহার থানার এলাকার মাদক সিন্ডিকেটের একটি চক্রান্ত। আমার সুনাম ক্ষুন্ন করতে এবং থানা থেকে সরাতে তারা উঠেপড়ে লেগেছে বলে জানান এসআই শাহাবুল।
আরও পড়ুন: মিন্নির বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ

এ ঘটনায় মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ পারভেজ জানান, মতিহার থানায় যোগদানের পরে ৩ বার মাদক উদ্ধারসহ ভালো কাজের জন্য শ্রেষ্ঠ পুলিশ অফিসার হিসাবে আরএমপির পক্ষ থেকে পুরস্কার পেয়েছে। এসআই শাহাবুলের নেতৃত্বে গত জানুয়ারি মাসে ১৯ টি মাদক মামলা, ৩০০ গ্রাম হেরোইন এবং আসামী আটক, ডেড় কেজি গাঁজা ও সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী জিআর মামলার এবং ওয়ারেন্ট ভ‚ক্ত পলাতক আসামী আটক করা হয়।

গত নভেম্বর মাসে মাদক উদ্ধারে ও ওয়ারেন্ট তামিল করে শেষ পুরস্কার নেয় আরএমপি কমিশনার স্যারে কাছে থেকে। অভিযোগে যাদের কে মাদক মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

তিনি আরো বলেন, তাদের সবার সিডিএম যাচায় করে একেক জনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

এসআই শাহাবুলকে বিপাকে ফেলে মাদক ব্যবসায়ীরা ছদ্ম বেশে এলাকাবাসী সেজে অভিযোগ দিয়েছে বলে জানান ওসি মাসুদ পারভেজ। মাদকের বিরুদ্ধে মতিহার থানা এলাকায় জিরো টলারেন্স ছিলো, আছে ও থাকবে বলেও জানান ওসি।

দেশদর্পণ/এমআরআর/এসজে