কাছারি বাড়ির সরকারি জমি ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড

যশোরের শার্শার কাছারি বাড়ির সরকারি প্রায় এক বিঘা বাস্তু শ্রেণির জমি ধানী শ্রেণি দেখিয়ে ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ফজলুর রহমান নামে এক ব্যক্তি প্রথমে একসনা বন্দোবস্ত নিলেও পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজসে সরকারি জমি নিজেদের নামে রেকর্ড করে নেন। উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার দপ্তর থেকে তদন্ত করে এর সত্যতা মিলেছে। শার্শা উপজেলা সহকারী কমিশণার (ভূমি) খোরশেদ আলম চৌধুরী ওই জমি সরকারের অনুকূলে নেওয়ার জন্য ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে এলএসটি মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন। যার স্মারক নং ০৫.৫৩৫.০১৮.০০.০০০.০০৩.২০১৯-১৮৪৮।

শার্শার ভূমি অফিস মতে, উপজেলার ৭২ নম্বর শার্শার মৌজার সাবেক ১২৫৫ দাগের ৩৫ শতক সরকারি জমি ফজলুর রহমান নামে এক ব্যক্তি প্রথমে একসনা বন্দোবস্ত নেন। এরমধ্যে ৩২ দশমিক ৬৩ শতক (প্রায় এক বিঘা) জমি ১৯৮০ সালের ২ ফেব্রæয়ারি নিজ নামে রেকর্ড করে নেন ফজলুর রহমান। প্রথম দিকে অতি গোপন থাকলেও তার মৃত্যুর পর ছেলে কবির হোসেন, জসিম উদ্দিন, মনির হোসেন ও ইমাম হোসেন সেখানে অবকাঠামো নির্মাণ করে প্রকাশ্যে দখলে নেয়। ওই জমির উপর দিয়ে রাস্তা ও ড্রেন গেলেও স্থানীয়দের ব্যবহারে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে। বাসাবাড়ির পানি ড্রেনে দিতে নিষেধ করেন তারা। এ নিয়ে প্রতিবেশীদের মারধর করেছে কবির-জসিম ও তার ভাইয়েরা। সরকারি জমি রেকর্ড করে নিজেদের দাবি করা কবির-জসিমদের বেপরোয়া বিষয়ে কয়েকবার স্থানীয়ভাবে শালিস বৈঠকও হয়েছে।
আরও পড়ুন: পুরোনো সব ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ

এদিকে সরকারি ওই জমি কীভাবে ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড হলো তা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসনও। গত বছর উপজেলা ভূমি অফিস থেকে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোরশেদ আলম চৌধুরী ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর স্বাক্ষরিত এক পত্রে উল্লেখ করেন কালেক্টরেট যশোরের নামে কাছারি বাড়ির বাস্তু শ্রেণির জমি। কাছারিবাড়ির জমি ধানী হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। ফজলুর রহমানের মারা যাওয়ার পর তার সন্তানদের নামে রেকর্ড করা হয়।

শার্শা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, এ জমিতে সরকারের স্বার্থ থাকায় আরএস গেজেট পাওয়ার সাথে সাথে এলএসটি মামলা করতে বুরুজবাগান ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এবিষয়ে জেলা প্রশাসককে লিখেছেন বলেও এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন তিনি।

বুরুজবাগান ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, উপজেলা ভূমি অফিস থেকে তাকে মামলা করার নির্দেশ পেয়েছি। দ্রæতই মামলা করা হবে।

অন্যদিকে, সরকারি জমি লিখে নেওয়া ফজলুর রহমানের ছেলে জসিম-কবিরসহ অন্যরা বেপরোয়া হয়েছে। তারা রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়া ড্রেনে পানি ফেললে হুমকি দিচ্ছে। ভূমি অফিস থেকে তদন্ত করায় প্রতিবেশিদের সন্দেহ করে ক্ষিপ্ত হয়ে মারধর করছে। তারা ইতোপূর্বে প্রতিবেশি মিজানুর রহমানকে মারধর করেছে। শনিবার সকালে আব্দুল হামিদকে মারতে উদ্যত্ত হয়। এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করা হয়েছে।

দেশদর্পণ/একে/এসজে