চুয়াডাঙ্গায় টিঅ্যান্ডটির সামনে অস্ত্র নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের তান্ডব

চুয়াডাঙ্গা শহরের টিঅ্যান্ডটির সামনে সন্ধ্যা রাতে মাদক ব্যবসায়ীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তান্ডব চালিয়েছে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী রুস্তম আলী বুদো ও তার ভাতিজা মনিরুল ইসলাম অনিককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে। শনিবার রাত সোয়া ৮ টার চুয়াডাঙ্গা শহরের টিঅ্যান্ডটির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের আরামপাড়ার মৃত রেজাউল হকের ছেলে রুস্তম আলী বুদো (৫০) ও তার ভাই কামরুল ইসলামের ছেলে মনিরুল ইসলাম অনিক (২৬)। আহতদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

এলাকা সুত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা টিঅ্যান্ডটির সামনে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছিলো রাজিব, মুনতাজ, তরিকুল ও তোতাসহ একটি চক্র। তাদেরকে মাদক ব্যবসা করতে নিষেধ করার পরও তারা তাদের কার্যক্রম বন্ধ না করার কারনে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিলো। এ নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা ১০/১২ জনের সংঘবদ্ধ হয়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে শনিবার রাত ৮ টার দিকে টিঅ্যান্ডটির সামনে বুদো ও তার ভাতিজা অনিকের উপর হামলা চালিয়ে এলোপাথারি ভাবে কোপাতে থাকে। এতে তারা রক্তাক্ত জখম হয়। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। এ ঘটনায় আহত রুস্তম আলী বুদোর মাথায় এবং তার ভাতিজা মনিরুল ইসলাম অনিকের চোখের পাশে, কপালে, মাথায় ও ডান হাতের তালুতে অনেকগুলো সেলাই দিতে হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারতে করোনাভাইরাস আক্রান্ত দ্বিতীয় রোগী শনাক্ত

হাসপাতালে আহত বুদো অভিযোগ করে বলেন, রাত সোয়া ৮ টার দিকে দোকানের সামনে দাড়িয়ে ছিলাম। এ সময় রাজিব তোতা, বাবন ও তরিকুলসহ ১০/১২ জন ধারালো অস্ত্র তার উপর হামলা চালায়। অনিক ঠেকাতে গেলে তাকেও কুপিয়ে জখম করে অস্ত্রধারী মাদক ব্যবসায়ীরা। বুদো আরও বলেন, যারা তাকে কুপিয়েছে তারা দীর্ঘদিন ধরে টিঅ্যান্ডটির সামনে মাদকের ব্যবসা করে আসছিলো। আমরা তাদেরকে নিষেধ করলেও তারা শোনে না।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জিহাদ ফখরুল আলম খান বলেন, এ ঘটনার পর পরই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আব্দুল আজিজের ছেলে রাজিব, চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের বড় মসজিদপাড়ার মুনতাজের ছেলে বাবন এবং কলোনীপাড়ার তরিকুল ইসলাম ও তোতাকে আটক করা হয়। আটককৃতরা শহরের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার সাথে পারিবারিক শত্রুতা জড়িতো থাকতে পারে।

ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য এবং পরবর্তীতে কোন অপ্রিতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে কারনে টিঅ্রান্ডটি এলাকায় পুলিশের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মশিউর রহমান বলেন, আহতদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। প্রথমিক চিকিৎসার পর তাদেরকে ভর্তি রাখা হয়েছে। আহতরা আশঙ্কামুক্ত।

এদিকে বুদো ও অনিকের উপর হামলার ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ছুটে যান চুয়াডাঙ্গার পৌর মেয়ল ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) কানাইলাল সরকার, সদর থানার ওসি তদন্ত লুৎফুল কবীর, পৌর আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন হেলা, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য মাফিজুর রহমান মাফি, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদত মো. জানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসাইন জ্যাকিসহ রাজনৈতিক দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দসহ মহল্লাবাসি।

দেশদর্পণ/টিআর/এসজে