স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.জামাল মিয়া শোভনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও কর্মচারীদের সাথে দূর্ব্যবহার এবং হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে উপ-পরিচালক দূর্নীতি দমন কমিশন পাবনা, সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জাতীয় সংসদ সদস্য-৬৪, বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জামাল মিয়া গত ২০১৯ সালের অক্টোবার মাসে তাড়াশ উপজেলায় যোগদান করার পর হতে অত্র কার্যালয়ের, স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোঃ আতাহার আলী ও অফিস সহকারী (পরিসংখ্যানবিদ এর দায়িত্ব), মনিরুজ্জামান এবং শাহাদত হোসেন স্টোরকিপারকে সাথে নিয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে দূর্ব্যবহার ভয়ভীতিসহ বিভিন্নভাবে চাঁদা আদায় করা শুরু করেন।

মসজিদের উন্নয়ন করা নাম করে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছ থেকে ৫ হাজার/৩ হাজার টাকা, দাবি করেন। যদি কোন কর্মচারী এত টাকা দিতে অস্বীকার করে তাহলে তার উপর অত্যাচার নির্যাতন শুরু করেন এবং ভয়ে কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না। এছাড়া তিনি হাসপাতাল চত্বরের ভিতরের পুকুর, আমগাছ, নারিকেল গাছসহ সকল ফলজ গাছ ৫ (পাঁচ) বছরের জন্য লীজ দিয়ে ২,৫০,০০০ (দুই লক্ষ পঞ্চাশ) হাজার টাকা আদায় করেন। যা সরকারী কোষাগারে জমা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
আরও পড়ুন: নির্বাচন নিয়ে যত অভিযোগ মির্জা ফখরুলের

এছাড়াও তিনি দোবিলা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবন নির্মাণ কাজের জন্য সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে চাঁদা দাবি করেছেন বলে জানা গেছে।

এছাড়াও ৩৯ তম বিসিএস এ যোগদানকৃত ডাক্তারগণের সাথে তুই ভাষায় গালি গালাজসহ তাদের কাছ চাঁদা দাবি করেন। অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিভিন্ন বিল আটকিয়ে টাকা দাবিসহ ডাক্তারগনের নিকট থেকে বাসা ভাড়ার টাকা নিজে দাবি করেন। হাসপাতালটিতে তার ব্যক্তিগত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়গুলো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানানোর পরও কোন ব্যবস্থ্য না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর আগে গত ২০১৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে বাঘেরহাটের শরণখোলা মানবকল্যাণ সোসাইটির ব্যানারে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। পরে তাকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় যোগদান করতে বলা হয়। এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জামাল মিয়া শোভনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সত্য নয়।

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ জামাল মিয়া শোভনের বিরুদ্ধে এখনো লিখিত অভিযোগ হাতে পাইনি তবে মৌখিকভাবে শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থ্য নেওয়া হবে।

দেশদর্পণ/এআর/এসজে