এ বছরেরই দৃশ্যমান হবে রাজশাহীর উন্নয়ন: রাসিক মেয়র লিটন

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, রাজশাহী নগরীকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এই বছরের মধ্যেই দৃশ্যমান হবে নগরীর উন্নয়ন। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র লিটন বলেন, রাজশাহীর উন্নয়নে ২ হাজার ৯৩১ কোটি টাকার একটি মেগা প্রকল্প একনেক অনুমোদনের অপেক্ষায়। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পুরো এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। নগরীর উন্নয়ন দেখতে তার মেয়াদের বাকি সময়ও অপেক্ষা করতে হবেনা বলেও মন্তব্য করেন মেয়র। তিনি আরো বলেন, এখন থেকে বিশ বছর আগেও দেশের মানুষ তিন বেলা দূরের কথা এক বেলাও পেটপুরে খেতে পাবে কিনা ভাবতে হতো।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিলো-দেশের মানুষ দুবেলা মুমুঠো পেটপুরে খাবে, মাথার উপর টিনের ছাদ থাকবে, বছরে দু-এক জোড়া নতুন কাপড় পড়বে। আজ মানুষের আর্থিক সঙ্গত হয়েছে। ছেলে মেয়েদের শহরে রেখে পড়াশোনা করাচ্ছেন। সরকারেরও সক্ষমতা বেড়েছে। প্রত্যেক ট্রেডকোর্সের যাতায়াত ভাতাসহ অন্যান্য খরচ দিচ্ছে। বিশ বছর আগেও এটি অকল্পনীয় ছিলো। এটি সম্ভব করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি যোগ করেন, একটা মানুষ লাগে, তা না হলে একটি দেশ এমনি এমনি পাহাড়ের চুঁড়ায় পৌঁছেনা। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো কারো না কারো নেতৃত্ব মেনে নিয়ে উন্নতির শীর্ষে গেছে। কিন্তু আমরা বাঙালি , আমরা বড়ই অস্থির।
আরও পড়ুন:মাছ খেতেই যুবতী হয়ে গেলেন বৃদ্ধা!

দ্রæত নেতৃত্ব পরিবর্তন করে নিজের পায়ে নিজেরাই বার বার কুড়াল মেরেছি। সরকার যেভাবে কাজ করছে, উন্নয়নের স্বার্থে এই সরকারকে আরো সময় দেয়া দরকার। বিদেশেগামীদের প্রশিক্ষণ নিয়ে যাবার তাগিদ দিয়েছেন মেয়র লিটন।

তিনি বলেন, একটা সময় ছিলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশীদের তাচ্ছিল্য করা হতো। এর একটিই কারণ-তারা অদক্ষ। ঝাড়– দেয়া, হোটেলের কাজ ছাড়া বিশেষ কোন কাজে পারদর্শী ছিলেন না। কিন্তু সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রশিক্ষণ ছাড়া আর বিদেশগমন নয়। প্রশিক্ষণ দিয়ে সন্তানদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে দেশে ও বিদেশে পাঠানো গেলে তারা অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবেন। এখন অনেকেই প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে গিয়ে নিজেদের যোগ্যতার সাক্ষর রাখছেন।

দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী কর্মীদের অবদান স্বিকার করে মেয়র বলেন, প্রবাসীদের আয় আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে। রাজস্ব আয়ও বাড়ছে। ফলে বাজেটের আকারও বাড়ছে। আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গত দশ বছরে কখনো নিচের দিকে নামেনি, বরং বাড়ছে। দেশের সার্বিক উন্নয়ন হচ্ছে। আমরা নিজেদের টাকা দিয়ে পদ্মা সেতুরমত মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের সাহস পেয়েছি।

রাজশাহী টিটিসির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী আবদুর রহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- জেলা প্রশাসক মোঃ হামিদুল হক, জেলা পুলিশ সুপার মোঃ শহিদুল্লাহ, নগর পুলিশের শাহমখদুম জোনের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ তারিককুল ইসলাম, কোরিয়ান সহযোগী সংস্থা কোইকার প্রকল্প ব্যবস্থাপক কিম ইয়াং উক।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-রাজশাহী মহিলা টিটিসির অধ্যক্ষ নাজমুল হক, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি দপ্তরের সহকারী পরিচালক আবদুল হান্নান প্রমুখ। পরে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী গম্ভিরা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

দেশদর্পণ/একে/এসজে