মানবসেবায় আল্লাহর সর্বোচ্চ সন্তুষ্টি

ইসলাম শুধু একটি ধর্মেরই নাম নয়; জীবনের পরিধি যেমন ব্যাপক, তেমনি ইসলাম ধর্মের শাখা-প্রশাখাও ব্যাপক ও বিস্তৃত। নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ইমানের ৭২টি শাখা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে একটি হলো রাস্তা থেকে কোনো কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া।’ (মুসলিম শরিফ) এককথায় যাকে বলা যায় মানবসেবা। মানবসেবার মাধ্যমে আল্লাহর সর্বোচ্চ সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়। মানবসেবা হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামসহ সব রসুল ও নবীর সুন্নাত।

সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের পার্থিব কষ্টসমূহ থেকে কোনো কষ্ট দূর করবে কেয়ামতের কষ্টসমূহ থেকে আল্লাহ তার একটি কষ্ট দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোনো অভাবীকে দুনিয়ায় ছাড় দেবে আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখেরাতে ছাড় দেবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন। আর আল্লাহ বান্দার সাহায্যে থাকেন যতক্ষণ সে তার ভাইয়ের সাহায্য করে যায়।’ মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি।
আরও পড়ুন: যবিপ্রবিতে ইংরেজি বিভাগের মনোমুগ্ধকর আলপনা

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সমগ্র জীবনে সাহায্যপ্রার্থীর প্রতি অকৃপণভাবে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, ‘রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবনে কখনো কোনো সাহায্য-প্রার্থীকে “না” বলেননি।’ মানবসেবাকে তিনি তাঁর জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। কোনো অবস্থায় এ ব্রত থেকে বিচ্যুতি হননি। মদিনা রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পরও তিনি বিলাসী জীবন যাপন করেননি। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর কাছে যেসব উপহার আসত তিনি তা গরিব-দুঃখীদের বিলিয়ে দিতেন। তাঁর ওফাতের সময় পরিবারের জন্য দুই দিন পেট পুরে খাওয়া যায় এমন রুটি ঘরে সঞ্চিত ছিল না। ইসলামে মানবসেবাকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তার প্রমাণ পাওয়া যায় হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত আরেকটি হাদিসে। তিনি বলেন, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘বিধবা ও অসহায়কে সাহায্যকারী ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীর সমতুল্য। (বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা তিনি আরও বলেন,) এবং সে ওই সালাত আদায়কারীর মতো যার ক্লান্তি নেই এবং ওই সিয়াম পালনকারীর মতো যার সিয়ামে বিরতি নেই।’ বুখারি, মুসলিম।

দেশদর্পণ/এসজে