২০১৭ সালের বন্যার জন্য এখন বিপদে সরকারি কর্মকর্তারা

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ রোকন উদ দৌলা বলেছেন, বাঁধের কাজগুলো সঠিক সময়ে শেষ করতে হবে। কারণ আগে বাঁধের যেমন তদারকি করা হতো না। এখন কিন্তু খুব জোরালোভাবে তদারকি করা হচ্ছে। সঠিক সময়ে আমাদের নিজের স্বার্থে বাঁধের কাজগুলো করতে হবে।

২০১৭ সালে যে বন্যা হয়েছিল তার জন্য অনেক সরকারি কর্মকর্তারা বিপদে পড়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে একশন নেওয়া হয়েছে। সেখানে মন্ত্রণালয়ের মানুষও রয়েছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডেরও মানুষ রয়েছেন।

শনিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে কাবিটা নীতিমালা-২০১৭ অনুযায়ী গঠিত পিআইসি সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

অতিরিক্ত সচিব রোকন উদ দৌলা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, অতীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের যে খারাপ ধারণা বদল হয়েছে। এখন পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনেক ভালো কাজ করছে। আপনারা সেগুলো তুলে ধরেন তাহলে কর্মকর্তারাও অনুপ্রেরণা পাবে, দেশেরও উন্নয়ন হবে।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, এখন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বোচ্চ কর্মকর্তারা বাধেঁর বিষয়টি তদারকি করতে আসেন সবসময়। যদি বাঁধের কাজগুলো সঠিকভাবে করা না হয় তাহলে এর দায়ভার কিন্তু আমাদের বহন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, হাওরের ফসল রক্ষার জন্য নির্মাণ করা বাঁধের কাজের কেউ ফাঁকি দিলে ও কেউ অনিয়ম করে তাহলে আমরা সরকারি কর্মকর্তা হোক বা বেসরকারি লোক হোক তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। কোন ছাড় পাবে না।

অতিরিক্ত জেলা অতিরিক্ত প্রশাসক মোঃ রাশেদ ইকবাল চৌধুরীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলী, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ নাজমুল হক ভূঁইয়া, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সবিবুর রহমান, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসমিন নাহার রুমা, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমীর বিশ্বাস, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেবুন নাহার শাম্মী, সহকারী কমিশনারবৃন্দ ও সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, চলতি অর্থ বছরে সুনামগঞ্জে ১১ উপজেলায় ৬৩৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ৭৪৪টি পিআইসি গঠন করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এর জন্য ১৩২ কোটি ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ চেয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠায় পাউবো। প্রথম ধাপে ৬৭৮টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয় সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

দেশদর্পণ/জেএভি/এসজে