সোনারগাঁয়ে ১৪ সমাজসেবা কেন্দ্রের বেশির ভাগই বেদখল

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে নিয়মিত কোন কার্যক্রম না থাকায় উপজেলার সমাজ সেবা অফিসের অধিভূক্ত ১৪টি সমাজ সেবা কেন্দ্রের বেশির ভাগই এখন বেদখল হয়ে গেছে। যেগুলো টিকে আছে সেগুলোও বর্তমানে জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের তথ্য অনুযায়ী সোনারগাঁয়ের একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নে মোট ১৪টি সমাজ সেবা কেন্দ্র (গণমিলনায়তন) রয়েছে। ১৯৮৫ সালে এ কেন্দ্রগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের দানকৃত সম্পত্তিতে এসব সেবা কেন্দ্রগুলো তৈরি করা হয়েছিল। এখানে সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি মহিলাদের জন্য সেলাই প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হতো। কিন্তু বহুদিন যাবত এসব কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে সোনারগাঁয়ের সবগুলো কেন্দ্রই এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

সরেজমিনে সমাজ সেবা কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সাতভাইয়াপাড়ায় ১৭ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠিত পরিত্যক্ত সমাজ সেবা কেন্দ্রটি সংস্কার করে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ঊর্মি আক্তার তার নিজস্ব কার্যালয় তৈরি করে অবৈধভাবে দখলে রেখেছেন।

পিরোজপুর ইউনিয়নের মঙ্গলেরগাঁও গ্রামে ৫ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠিত সেবা কেন্দ্রটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে এবং সেখানকার স্থানীয়রা দীর্ঘদিন যাবত পাবলিক টয়লেট তৈরী করে ব্যবহার করছে। আর এর পাশেই স্থানীয় বাজারের সকল ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। আবার একই ইউনিয়নের ভবনাথপুর গ্রামে ৬ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠিত সেবা কেন্দ্রটি আংশিক সংস্কার করে স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিনের থাকার বাসস্থান তৈরি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারতে কারা ভোগের পর দেশে ফিরল ৩ বাংলাদেশি নারী

অপরদিকে উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চৌধুরীগাঁও গ্রামে ৬ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠিত পরিত্যক্ত সেবা কেন্দ্রটি দখল করে স্থানীয় লোকজন বসবাস করছেন। আর একই ইউনিয়নের হোসেনপুর সেবা কেন্দ্রটি ইতিমধ্যেই ধ্বংস হয়ে গেছে, ফলে জমিটি এখন চলে গেছে স্থানীয়দের দখলে।

নোয়াগাঁও ইউনিয়নের লাধুরচর গ্রামে ১৭ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠিত সেবা কেন্দ্রটি দখল করে গরুর খামার করেছেন স্থানীয় ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার আনোয়ার হোসেনের ভাই ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব মিয়া।

জামপুর ইউনিয়নের বুরুমদী গ্রামে ১৫ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠিত সেবা কেন্দ্রটি ভগ্ন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। একই ইউনিয়নের বাগবাড়িয়া এলাকায় ৬ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠিত সেবা কেন্দ্রটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় নুরুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি জমিটি দখলে নিয়ে বাড়িঘর নির্মাণ করে ফেলেছেন।

উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের নানাখী গ্রামে ১০শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠিত সেবা কেন্দ্রটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। কাঁচপুর ইউনিয়নের কুতুবপুরে সমাজ সেবা কেন্দ্রের ৮ শতাংশ জমি বেদখল হয়ে গেছে।

বারদী ইউনিয়নের সমাজ সেবা কেন্দ্রের ৬ শতাংশ ও মোগরাপাড়া ইউনিয়নের আলাবদী গ্রামে সমাজ সেবা কেন্দ্রের ১০ শতাংশ জমিও বেদখল হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: পুলিশ সরতেই সাক্ষীকে পেটালো একদল যুবক

এছাড়া পৌরসভার আমিনপুরে ৩ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠিত সেবা কেন্দ্রটির অবস্থা একেবারেই জরাজীর্ণ। বর্তমানে এখানে কোন কার্যক্রম না থাকায় এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ১০ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠিত পৌরসভার গোয়ালদী গ্রামের সেবা কেন্দ্রটি স্থানীয়রা সংস্কার করে একাংশে নামাজের স্থান তৈরি করেছেন অপরাংশে স্থানীয় যুবকরা খেলার সরঞ্জাম রাখেন। এছাড়া কেন্দ্রটির সামনের ১ শতাংশ জায়গা দখল করে ওয়াসা একটি গভীর নলকুপ স্থাপন করেছেন।

বেদখল হওয়া সেবা কেন্দ্রগুলোর বর্তমান দখলদারদের সাথে কথা বললে তারা জানান, দীর্ঘদিন যাবত এগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পরে আছে। তাই আমরা এগুলোকে একটু সংস্কার করে ব্যবহার করছি। সরকারের যখন প্রয়োজন হবে তখন সরকার আবার এগুলো নিয়ে যাবে আমাদের কোন আপত্তি নেই।

এ ব্যাপারে সোনারগাঁ উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা সাবিকা সুলতানা জানান, দীর্ঘদিন যাবত এ সেবা কেন্দ্রগুলোতে কোন কার্যক্রম না থাকায় এগুলো বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। ১৪টি কেন্দ্রের মধ্যে কুতুবপুর, বারদী, ভবনাথপুর, আলাবদী, গোয়ালদী ও নানাখী এই ৬টি সমাজ সেবা কেন্দ্রের দলিল আমাদের হাতে নেই। এগুলোর দলিল উদ্ধার ও বেদখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধার করার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তবে ইতিমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিতভাবে সমাজ সেবা কেন্দ্রগুলোর বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

দেশদর্পণ/টিএ/এসজে