জ্যৈষ্ঠের আগমনী বার্তা নিয়ে আম গাছে আগাম মুকুল

মধুমাস জ্যৈষ্ঠের আগমনী বার্তা নিয়ে মাঘের কনকনে শীতে নির্ধাররিত সময়ের এক মাস আগেই নাটোরের লালপুর উপজেলার আম গাছ গুলিতে দেখা মিলেছে আগম মুকুলের।

ঋতু পরিক্রমায় সময় না হলেও আমের হলুদ মুকুলের মৌ মৌ মিষ্টি গন্ধই জানান দিচ্ছে মধুমাস সমাগত। দুই দফা বৃষ্টি পরে নতুন করে শীত জেঁকে বসলেও আবহাওয়াগত কারনে নির্ধারিত সময়ের একমাস আগেই গাছগুলিতে আগাম মুকুলের দেখা মিলেছে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ।

মাঘের প্রথমে আগাম মুকুলের দেখা দেয়ায় আমচাষীদের মনে আশার আলো দেখা দিয়েছে। তবে ঘন কুয়াশা হলে এই সকল আগাম মুকুল ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। আমের রাজধানী হিসেবে রাজশাহী ও চাপাই নবাবগঞ্জ বিখ্যাত হলেও নাটোর জেলাও এখন কোনো অংশে কম নয়।
আরও পড়ুন: আজ থেকে বাড়তে পারে শীতের তীব্রতা

লালপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, গত বছর এই উপজেলায় ১ হাজার ৭ শত ৯৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আমের বাগান ছিলো।এই সকল জমি থেকে ২৬ হাজার ৯শ ৮০ মেক্ট্রিকটন আম উৎপাদন হয়েছিলো। চলতি বছরে বাগানের পরিমাণ কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এবছর প্রায় ৩০ হাজার মেক্ট্রিকটন আম উৎপাদনের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানকার চাষকৃত উল্লেখযোগ্য জাতের আম হলো, ফজলি, নেংড়া, খেরসাপতি, গোপালভোগ, আ¤্রপালি, লকনা অন্যতম।

রবিবার (১৯ জানুয়ারী) সকালে সরেজমিনে লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে বাড়ির আঙ্গিনায় ও বাগানের কিছু কিছু গাছে আগাম মুকুল আসতে শুরু করেছে। গাছে আগাম মুকুল আসায় বাগান মালিকরা পরিচর্যার কাজ শুরু করেছেন।

এসময় কথা হয় আমচাষী তফিজ উদ্দিনের সঙ্গে তিনি বলেন,‘নির্ধারিত সময়ের এক মাস আগেই এখানকার আম গাছে মুকুল দেখা দিয়েছে।আবহাওয়া অনুক‚লে থাকলে এবার গাছগুলোতে মুকুলের সমারোহ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।’

আমচাষী মোস্তফা কাউছার বলেন, ‘জানুয়ারী মাসের প্রথমেই এখানকার অনেক গাছেই মুকুল এসেছে। তবে চলতি মাসের শেষের দিকেই প্রতিটি গাছেই পুরোপুরিভাবে মুকুল ফুটতে শুরু করবে বলে তিনি জানান।’
লালপুর উপজেলা কৃষি অফিসার রফিকুল ইসলাম বলেন,‘প্রায় একমাস আগেই আবহাওয়াগত ও জাতের কারণেই মূলত আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। ঘনকুয়াশা বা শৈত্যপ্রবাহ নামলে আগাম মুকুলের ক্ষতিহবে। তিনি আরো বলেন, আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে চলতি মাসের শেষে সব গাছে মুকুল দেখা যাবে বলে দিনি জানান।’

দেশদর্পণ/এআরটি/এসজে