বিতর্কিত সেই যুবলীগ নেতা পিআইসি সভাপতি !

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে আলোচিত মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর ৩টি আঙ্গুল কর্তনকারি ও এ ঘটনায় কারাবরনকারি বিতর্কিত যুবলীগ আহবায়ক অদুদ মিয়াকে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের পিআইসি সভাপতি মনোনীত করা হয়েছে।এ রকম একজন বিতর্কিত ও জেলফেরত থাকা কান্ডজ্ঞানহীন মানুষকে হাওরের বাঁধের দায়িত্ব দেওয়ায় পুরো উপজেলা জুড়ে চলছে সমালোচনা। এলাকাবাসীর দাবি,যে ব্যাক্তি (অদুদ মিয়া) সামান্য একটি বিষয় নিয়ে নিষ্পাপ একটি শিশুর ৩টি আঙ্গুল কাছি দিয়ে কেটে দিতে পারে তার দ্বারা হাওরের বাধেঁর কাজ সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হতে পারে না। তাই কৃষকদের দাবি অদুদ মিয়াকে পিআইসি সভাপতি বাতিল করে অন্য যে কাউকে বাঁধের  নির্মানের দায়িত্ব দেয়া হউক।

জানা যায়, চলতি অর্থ বছরে তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিন শ্রীপুর ইউনিয়নের মহালিয়া হাওরের উপ-প্রকল্পের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি ২০ নং-এর সভাপতি মনোনীত করা হয়েছে বিতর্কিত অদুদ মিয়াকে।অদুদ মিয়া দক্ষিন শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ সরকারের বিশ্বস্থ ব্যাক্তি।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ১৭ই মার্চ শনিবার বিকেলে সুলেমানপুর গ্রামের শাহানুর মিয়ার ছেলে মাদ্রসায় পড়ুয়া শিশু ইয়ামিন গরুর ঘাস কাটার জন্য এলাকার মহালিয়া হাওরে যায়।এ সময় অদুদ মিয়ার দায়িত্বে থাকা বাঁধের উপর দিয়ে শিশু ইয়ামিন হেটে যাওয়ার কারনে পিআইসি সভাপতি অদুদ মিয়া শিশু ইয়ামিনের হাতে থাকা কাছি দিয়ে তার ৩টি আঙ্গুল কেটে দেয়।

এ ঘটনায় ইয়ামিনের পিতা বাদী হয়ে তাহিরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।সেই সময়ে দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক,অনলাইন মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি প্রচার হলে সারাদেশ ব্যাপী ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।এ সময় দক্ষিন শ্রীপুর ইউনিয়ন যুবলীগ আহবায়ক দলীয় প্রভাবে বেশ কিছুদিন পালিয়ে থাকলেও শিশুর আঙ্গল কর্তনের মামলায় পুলিশের হাতে ধরা পরে বেশ কিছুদিন জেল হাজতে থাকেন অদুদ মিয়া। বর্তমানে সে জামিনে রয়েছে।

উল্লেখ্য, আঙ্গুল কর্তনের ঘটনায় আহত শিশু ইয়ামিন মিয়ার চিকিৎসা সহ সার্বিক খোজঁখবর নিয়েছিলেন তৎকালীন শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, স্থানীয় সাংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, পুলিশের আইজিপি, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক সাবিরুল ইসলাম ও সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার বরকতুল্লাহ খান।