শিশু তোফাজ্জল হত্যা: ছেলের খুনিদের ফাঁসির দাবী বাবার

তোফাজ্জল হত্যার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সবার কথা একটাই কিভাবে এই ছোট শিশুটিকে নৃশংস ভাবে হত্যা করা হল। বাকরুদ্ধ মা বার বার মূর্চা যাচ্ছেন মা। বাবা জুবায়েল সন্তান হারানো কষ্ট বুকে চাপা দিয়ে বলেন আমি দিন মজুর মানুষ আমার কি অপরাধ কি ছিল ? আমার মাসুম বাচ্ছার কি অপরাধ। আমি ত কারো কোন ক্ষতি করিনি। ঘাতকরা টাকা চেয়েছিল ধারদেনা করে টাকারও জোগার করেছিলাম তবুও যদি আমার বাবাটাকে ফেরৎ পেতাম। আমার ছেলেটাকে মেরেছে মেরেছে এমন ভাবে মেছে সারা মাথায় রক্তে ভরপুর,হত্যা করেই খান্ত হয়নি, তাকে হত্যা করে তার ডান চোখটিও খুলে নেয় হত্যাকারীরা। কি ভাবে পাড়ল এভাবে একটা মাসুম বাচ্চা কে খুন করতে। এদিকে ভাইয়ের মৃত্যু মেনেনিতে পারছে না ৪বছর বয়সী ছোট বোন হুমায়রা সে বলছে তার ভাই ফিরে আসবে এই কথা বলেই কান্নায় ভেঙ্গে পরে জুবায়েল।

আমাদের ছেলের হত্যার সাথে যারা জড়িতদের সে আমার ভাই হউক আর যেই হউক সবাইকে আইনের আওতায় এনে ফাঁসির দাবী জানাচ্ছি। নিহত শিশুটির পিতা জুবায়ের কান্না জড়িত কণ্ঠে রবিবার দুপুরে(১২,০১,২০২০)তাহিরপুর থানায় এসব কথা জানান।

নিতহ তোফাজ্জলের বাবা জুবায়েল হোসেন আরো জানান, একই গ্রামের কালা মিয়ার ছেলে সেজাউল কবিরের কাছে ছোট বোন শিউলির সাথে ভালবাসার সর্ম্পক ছিল। তারা দু জনেই পালিয়ে যেতে চেয়েছিল পরে পারিবারিক ভাবে সবার সম্মতি নিয়ে কোট ম্যারিজ করিয়ে দেই। পরে তারা দুজন ঢাকায় চলে যায়। গত ৬মাস পূর্বে বাড়ি ফিরে আসে। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে তার বোনকে যৌতুকের জন্য সেজাউল মারপিট করে বাড়িতে রেখে যায়। এরপর আর নেয়নি। চিকিৎসা করিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করি। এরপর উল্টো আমাদেরকে হুমকি-ধামকি দিয়েছে সেজাউলের বাবা, মা ও তার পরিবারের সদস্যরা। তার সন্দেহ সেজাউল ও তার বাবা তার ছেলেকে হত্যা করে বস্তাবন্দি করে রেখেছে।
আরও পড়ুন: পারিবারিক রহস্যের জালে বন্দি শিশু তোফাজ্জল হত্যা, তদন্তে পুলিশ সুপার

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী নিহত তোফাজ্জল বাশঁতলা গ্রামের জুবায়েল হোসেনের ছেলে এবং বাঁশতলা হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার দ্বিতীয় শ্রেনীর ছাত্র। আর হত্যার পিছনে পারিবারিক বিরোধে শিশুটিকে হত্যা করেছে দাবী সচেতন মহল, স্থানীয় এলাকাবাসী।

নিহত শিশুটির পিতা জুবায়ের কান্না জড়িত কণ্ঠে আরো জানান, গত ০৮জানুয়ারি বুধবার বিকাল ৫টার সময় তোফাজ্জল তার দাদা জুবেল হোসেনের বাড়ীর উঠানে খেলা করার এক ফাকেঁ গ্রামের মাঠে ওয়াজ মাহ্ফিল থাকায় (রাতে) বিকালে শিশু তোফাজ্জল ওয়াজ মাহ্ফিলের মাঠে যায়। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামলেও তোফাজ্জল হোসেন বাড়ি না ফেরায় গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিবেশী, তাদের আত্মীয় স্বজন ও তোফাজ্জলের বন্ধুদের বাড়ীতেও খোঁজাখুজি করে তার কোন সন্ধান না পাওয়ায় তোফাজ্জলের দাদা জয়নাল আবেদীন ০৯জানুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে তাহিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়রি(জিডি) করেন। জিডি নং ২৬০। এনিয়ে সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

জিডি করারপর শুক্রবার ভোর রাতে বাড়ির বসতঘরে তোফাজ্জলের একজোড়া জুতা ও একটি চিঠি পায় পরিবারের লোকজন। চিঠিতে লেখা ছিলো-তোমাদের ছেলে ভালো আছে, টেকেরঘাটে আমার বন্ধুর বাড়িতে তাকে রেখে এসেছি। ৮০হাজার টাকা দিলে তাকে ফিরিয়ে দেয়া হবে। বাড়ির গোয়াল ঘরে রাত ৪টায় টাকা নিয়ে থাকবে। কথা মত এলাকাবাসীর পরার্মশ নিয়ে দিন মজুর পিতা শুক্রবার রাতে টাকা অপহরণ কারীদের কথা মত গোয়াল ঘরে টাকা রেখে অপেক্ষা করে নিজেদের ঘরে দরজা টা একটু ফাঁকা করে। কখন জানি ছেলেটিকে রেখে যায় না হয় আবারও চিঠি দিবে কোথাও ছেলেকে রেখেছে নিয়ে আসতে সেই আশায় তার ভাই সালমান হোসেন কে নিয়ে। রাত সাড়ে ৪টা পর্যন্ত না আসায় সালমান নামাজ আদায় করার জন্য ওযু করতে যায়। এসময় গোয়ালঘরের সামনে শব্দ শোনা যায়। সালমান এগিয়ে দেখে সিমেন্টের মূখ বদ্ধ বস্তা। পরে বস্তার মুখ খুলে দেখা যায় তোফাজ্জলের লাশ। পরে পরিবারের সবাই এসে পুলিশকে খবর দেয়। পরে প্রতিবেশি তোফাজ্জলের ফুফা সেজাউল কবির ও তার বাবা কালা মিয়াকে সন্দেহজনকভাবে পুলিশে দেয় তারা। এই খবর জানাজানি হলে, নিহত শিশুর লাশ দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় জমায় তোফাজ্জেলের বাড়িতে। এসময় পিতা, মাতা আর পাড়াপ্রতিবেশী ও আতœীয় স্বজনের আহাজারীতে এক হ্নদয়বিধায়ক পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুন: শিশু তোফাজ্জল হত্যা: ফুফু চাচাসহ কারাগারে ৭

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, শিশু তোফাজ্জল অপহরণ ও হত্যাকান্ডের মামলায় সন্দেহভাজন দাদা, চাচা, ফুফু, ফুফাসহ ৭জনকে রবিবার দুপুর ১২টায় সুনামগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়। পরে জেল হাজতে। তারা হলেন, উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গ্রাম বাঁশতলার নিহত শিশু তোফাজ্জলের চাচা হাফেজ সালমান হোসেন(২২), লোকমান হোসেন(২০), ফুফু শিউলি আক্তার(১৮), ফুফা সেজাউল কবির(২৫)তার বাবা কালা মিয়া(৫০)ও হাবিবুর রহমান (৬৫)তার ছেলে রাসেল(২০)। রবিবার দুপুরে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করে প্রত্যেক আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ হতে দশ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছি। জিজ্ঞাসাবাদে আশা করি খুব শ্রীঘ্রই এশিশু অপহরণ ও হত্যা রহস্য উন্মোচিত হবে।

এবিষয়ে তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আতিকুর রহমান জানান, জিডি করেছিলেন শিশুটির দাদা। এরপর থেকে আমরা অনুসন্ধানে ছিলাম। ঘটনাটি খুবেই কষ্ট দায়ক। শনিবার ভোরে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করি এবং সুনামগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করেছি। শিশুটির চোখে আঘাতের চিহৃ রয়েছে।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পদোন্নতি প্রাপ্ত পুলিশ সুপার)মিজানুর রহমান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই জনকে সেজাউল ও কালা মিয়াকে থানায় আনা হয়েছে। তদন্ত চলছে। এই বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

দেশদর্পণ/জেএভি/এসজে