জীবননগরের নিশ্চিন্তপুরে ভৈরব নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার নিশ্চিন্তপুরে ভৈরব নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন উটভাটা মালিক ওয়াহেদ। অনুমতি ছাড়াই সড়ক নির্মাণের কাজে বালু সাপ্লাই দেয়ার নামে বালু উত্তোলন করছেন তিনি। জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিষেধ অমান্য করে বেশ কিছুদিন ধরে তিনি বালু উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুরের ইটভাটা মালিক ওয়াহেদ। চুয়াডাঙ্গা এলজিইডি, জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নাম ভাঙিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে নিশ্চিন্তপুর গ্রামের শ্নশানঘাট এলাকায় ভৈরব নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শরোজগঞ্জ থেকে বেগমপুর হয়ে জীবননগরের উথলী মোড় পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের কাজে বালু সাপ্লাই দেয়ার নামে সরকারি ভাবে অনুমতি নিয়ে ওইস্থান থেকে বালু উত্তোলন করছে বলে ইটভাটা মালিক ওয়াহেদ জানান। তিনি জানান, চুয়াডাঙ্গা এলজিইডির বরাবর আবেদন করে জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেখিয়ে দেয়া রির্ধারিত স্থান থেকে তিনি বালু উত্তোলন করছেন। তবে খোঁজ নিয়ে এর কোন সত্যতা মেলেনি। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গতকাল বিকেল পর্যন্ত ইটভাটা মালিক ওইস্থান থেকে বালু উত্তোলন করেছে।

এ ব্যপারে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে বালু উত্তোলনের কথা শিকার করে তিনি জানান, ওয়াহেদ নামের কোন ব্যাক্তিকে বালু উত্তোলনের জন্য আমরা কোন স্থান দেখিয়ে দেইনি। শুধু তাইনা, জেলা প্রশাসকের নিকট থেকে এ ধরনের কোন আবেদন আমাদের কাছে আসেনি। তবে, গোপণ সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে আমাদের ওয়ার্ক অ্যাসিস্টেন্টসহ কয়েকজনকে সেখানে পাঠানো হয়েছিলো দেখার জন্য এবং এর সত্যতা মিলেছে।
ওয়ার্ক অ্যাসিস্টেন্ট আকিমদ্দিনের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, অফিসের অনুমতিতে সরেজমিনে সেখানে যায়। নিশ্চিন্তপুর শ্নশানপাড়ার ভৈরব নদী থেকে ওয়াহেদ নামের একজন বালু উত্তোলন করছেন। অফিসের নির্দেশে বালু উত্তোলন বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তবে খোঁজ নিয়ে জনতে পেরেছি তিনি বালু উত্তোলন বন্ধ করেননি।

এ ব্যপারে জানতে চাইলে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিরাজুল ইসলাম বলেন, নিশ্চিন্তপুর থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অনুমতি ছাড়া যদি কেউ বালু উত্তোলন করেন তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যপারে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে বালু উত্তোলনের বিষয়ে কোন অনুমতি দেয়া হয়নি বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।