মিরসরাই জুড়ে হাত বাড়ালেই মিলছে ইয়াবা ট্যাবলেট

হাত বাড়ালে অতি সহজেই মিলছে ইয়াবা ট্যাবলেট। এই মাদকের অনেকটা স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে মিরসরাই। উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দু’টি পৌরসভার এমন কোনো গ্রাম নেই যেখানে ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে না। গত দুই বছর ধরে এর ভয়াবহতা ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে। এই নেশায় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা আসক্ত হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি দেশে মাদকবিরোধী অভিযানে মিরসরাই ও জোরারগঞ্জ থানায় ইয়াবা কারবারে জড়িত ও সেবনকারীরা গ্রেফতার হলেও গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।

প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে নাফ নদী পার হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার হচ্ছে ইয়াবা। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে পাচারের সময় মিরসরাই-সীতাকুন্ড উপজেলার কোথাও না কোথাও ইয়াবা ধরা পড়ছে। মিরসরাই উপজেলার করেরহাট, আবুতোরাব, বারইয়ারহাট, মিঠাছড়া বাজারে গড়ে উঠেছে এর স্থানীয় বাজার। বখাটে যুবকদের পর এখন ইয়াবা জ্বরে আসক্ত হয়ে পড়ছে সমাজের নামীদামি সম্ভ্রান্ত পরিবারের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও। সহজে হাতের কাছে পাওয়ায় উঠতি তরুণ-তরুণীদের কাছে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যৌন উত্তেজক ইয়াবা ট্যাবলেট। অনেক ইউপি সদস্যও ইয়াবা বিক্রি ও সেবনের সাথে জড়িত রয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত দুই বছরে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ইয়াবার আধিপত্য বাড়তে থাকে। প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে নাফ নদী হয়ে ইয়াবা সীমান্ত পার হয়ে কক্সবাজার থেকে সরাসরি গাড়িতে করে আসে মিরসরাই। এখানে পাইকারি বিক্রেতার কাছ থেকে খুচরা ক্রেতারা কিনে নিয়ে তুলে দেয় মাদকসেবীদের হাতে। আগে প্রতি পিস ইয়াবা ট্যবলেট বিক্রি হতো ৭০০-৮০০ টাকায়, যা সাধারণ মাদকাসক্তদের হাতের নাগালের বাইরে ছিল। পরে এর দাম ২০০-৩০০ টাকায় নেমে আসায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও বেশি হারে ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: জ্বীন আসরের নামে শিশুর সাথে আদিম বর্বরতা!

কিশোর-কিশোরী ও শিক্ষার্থীদের ইয়াবায় আসক্তির কারণ হিসেবে জানা যায়, সহপাঠী ও বন্ধুবান্ধবের কানকথায় প্রথমে ত্বকের সৌন্দর্য ও গ্লামার বাড়ানোর কৌতুহল মেটাতে প্রথম দিকে তরুণ প্রজন্ম ইয়াবা সেবন করলেও এক সময় তা নেশার রূপ নেয়। একইসাথে বাড়ে যৌনতার প্রতি আসক্তিও। মাদকের খরচ জোগাতে টাকার জন্য মাদকসেবীরা পা বাড়াচ্ছে অপরাধ জগতে।

অনুসন্ধানে গেছে, ইয়াবাসেবীদের দৈনিক চাহিদার জোগান দিতে উপজেলার করেরহাট, বারইয়ারহাট, শান্তিরহাট, জোরারগঞ্জ, মিঠাছড়া, বড়দারোগার হাট, শুক্কুরবারইয়ারহাট, গোলকেরহাট, আবুতোরাবসহ বিভিন্ন বাজার ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেশ কয়েকটি ইয়াবা বিক্রেতা সিন্ডিকেট রয়েছে। ইয়াবা সিন্ডিকেটের ব্যবসায়ীরা থানা-প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতা নিয়ে মাদকাসক্তদের পাশাপাশি কিশোর-কিশোরী ও শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিচ্ছে ভয়ঙ্কর ইয়াবা ট্যাবলেট। আপর দিকে পরিবহনজনিত নিরাপত্তা রক্ষার্থে ইয়াবা পরিবহন ও বিক্রয়ের সুবিধার্থে ছাত্রছাত্রীদের যুক্ত করছে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা।

উপজেলার করেরহাট ইউনিয়ন থেকে সাহেরখালী পর্যন্ত বিভিন্ন গ্রামে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বিক্রি হচ্ছে দেদারসে। এর সাথে অনেক জনপ্রতিনিধিও জড়িত রয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল এক নেতা বলেন, ধুম ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় আশঙ্কাজনকভাবে মাদক বিক্রি ও সেবন বেড়ে গেছে। বারইয়ারহাট পৌরসভায় কয়েকজন ুুরাজনৈতিক নেতার শেল্টারে মাদক ব্যবসা চলছে। পৌরসভার মাছবাজার, বাঁশবাজার ও জামালপুর কালিবাড়ি মন্দিরের আশপাশে দেদার মাদকব্যবসা চলছে।

অভিযোগ রয়েছে, পুলিশকে মাসোয়ারা দিয়ে মাদকব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে কারবারিরা। অথবা গ্রেফতার হওয়ার পর দুর্বল মামলার কারণে জামিনে বেরিয়ে পুনরায় কারবারে জড়িয়ে পড়ছে অনেকে। তবে পুলিশ তাদের স¤পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মিরসরাই থানার ওসি জাহিদুল কবির ও জোরারগঞ্জ থানার ওসি মফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় নেই। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক কারবারের সাথে জড়িতরা যে দলেরই হোক না কেন আমরা কোনো ধনের ছাড় দেবো না।

দেশদর্পণ/এসজে