রাজশাহী রেলওয়ের লুপ-লাইন কাজে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের লুপ লাইনের রিপিয়ারিং কাজে ব্যাপক দুনীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় এরইমধ্যে প্রকল্পের কাজটি মৌখিক নির্দেশে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। কাজটি শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) জানুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু কাজ বন্ধ রাখায় কবে নাগাদ তা সম্পন্ন হবে এ নিয়ে অনিশ্চতা দেখা দিয়েছে।

ট্রেন দুর্ঘটনা রোধ, আয় বৃদ্ধি ও নিরবচ্ছিন্ন ট্রেন চলাচলের সুবিধার্থে লুপ লাইন পুনর্বাসন ও পুনঃস্থাপন প্রকল্পের কাজটি শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের কাজটি পেয়েছেন পাবনার এমএস তাসলিম এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

জানা গেছে, রাজশাহী নগরীর অদূরে হরিয়ান স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ৬৮০ মিটার দৈর্ঘ্য নতুন রেল লাইন নির্মাণের লক্ষ্যে লুপ লাইনের রিপিয়ারিং কাজ করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সেখানে সমতল ভ‚মি থেকে ৬ ফিট খুঁড়ে বেড তৈরি করা হচ্ছে। বেড নির্মাণে বিছানো হচ্ছে নি¤œমানের খোয়া আর বালি। এছাড়া রোলার করা হচ্ছে পানি ছাড়া। এতে করে যেকোন সময় রেলপথ দেবে যাওয়াসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা করছেন রেল সংশ্লিষ্টরা এবং স্থানীয় লোকজন।

এ ব্যাপারে দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত কর্মককর্তা বা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী পশ্চিমা ল রেলওয়ের উর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী/পথ (পিডাবøু) ভবেশ চন্দ্র রাজবংশী অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ায় এরইমধ্যে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানালেও আবারো নি¤œমানের খোয়া দিয়ে কাজটি শুরু হয়েছে। কিন্তু নি¤œমানের সরঞ্জাম দিয়ে সিংহভাগ কাজ সম্পূর্ণ করার বিষয়ে তিনি বলেন, পুনরায় এক নম্বর খোয়া দিয়ে কাজ না করলে বিল পাবে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
তিনি আরো জানান, এক কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে কাজটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজটি করছেন পাবনার আশরাফ বাবু। তিনি বলেন, খোয়া সাপ্øাইয়ের জন্য স্থানীয় এক যবলীগ নেতাকে সাব-কণ্টাক্ট দেওয়া হয়েছিল। সে তার ইচ্ছামত নি্ম্ন মানের খোয়া দিয়েছে। তবে নিম্নমানের খোয়া পরিবর্তন করে পুনরায় নতুন খোয়া দিয়ে বেড তৈরি করাসহ কাজটি সম্পন্ন করা হবে।  এ ব্যাপারে রেলওয়ে ডিএন (পাকশী) আব্দুর রহিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। পশ্চিমা ল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান জানান, কাজটি আমার অধীনেই হচ্ছে। তবে কোটেশনের মাধ্যমে কাজটি হচ্ছে কিনা তা জানা নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনিয়মের বিষয়টি শুনেছি। যথাযথভাবে কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

দেশদর্পণ/এমআরআর/এসজে