ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ: যেভাবে গ্রেফতার হলো ধর্ষক মজনু

রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতাল এলাকায় ধর্ষণের শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী তার ধর্ষককে শনাক্ত করেছেন। তার শনাক্ত অনুযায়ী আটক যুবক মজনুকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

বুধবার (৮ জানুয়ারি) ভোর রাত ৪টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর শ্যাওড়া রেলক্রসিং থেকে ধর্ষক মজনু (৩০)কে গ্রেফতার করে র‍্যাব। গ্রেফতার হওয়া মজনুকে ভিকটিমের মোবাইলের সূত্র ধরে গ্রেফতার করে র‍্যাব।

বুধবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. ক. সারোয়ার বিন কাসেম এই তথ্য জানান।

তবে এর আগে র‍্যাব আরও এক নারী ও পুরুষকে গ্রেফতার করে। তাদের সূত্র ধরেই গ্রেফতার করা হয় মজনুকে। সারোয়ার বিন কাসেম বলেন, ‘গত ৭ জানুয়ারি রাজধানীর কুরাতলা এলাকা থেকে ভিকটিমের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। ভিকটিমের মোবাইলটি খায়রুল ইসলাম (৩৮) নামে এক রিকশাচালকের কাছ থেকে উদ্ধার হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, সে মোবাইলটি অরুণা বিশ্বাস (৪৫) নামে শ্যাওড়ার এক নারীর কাছ থেকে পেয়েছে। মোবাইলটির ডিসপ্লে ভাঙা থাকায় অরুণা খায়রুলের কাছে মেরামতের জন্য দিয়েছিল। এরপর অরুণাকে এবং তারপর মজনুকে শ্যাওড়া থেকে গ্রেফতার করা হয়।’
আরও পড়ুন: ছবি দেখে ধর্ষককে শনাক্ত করলেন সেই ছাত্রী

এর আগে ধর্ষক মজনু ঘটনার পর মোবাইল বিক্রি করে বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে করে নরসিংদী চলে যায়। এরপর নরসিংদী থেকে সে মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) আবার ঢাকায় আসে। ঢাকায় এসে সে সারাদিন বনানী ছিল, রাতে শ্যাওড়া এলাকায় আসে। সেখান থেকেই ভোর রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান সারোয়ার বিন কাসেম।

তিনি বলেন, ‘ধর্ষক মজনুর গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়া। দশ বছর আগে সে ঢাকায় আসে। বিয়ের পর তার স্ত্রী মারা যায়। এরপর থেকে সে ভাসমান বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও ভিক্ষুক নারীদের ধর্ষণ করে। সে ছিনতাই ও মাদকসেবী।’

র‍্যাব জানায়, নিজেকে সিরিয়াল রেপিস্ট বলেও স্বীকার করেছে মজনু। মজনু, খায়রুল ও অরুণাকে পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হবে।

প্রসঙ্গত, রবিবার (৫ জানুয়ারি) বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষণিকা বাসে করে ওই ছাত্রী বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছিলেন। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে কুর্মিটোলা বাসস্টপেজে নামার পর তাকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি অনুসরণ করতে থাকে। একপর্যায়ে তাকে ফুটপাতের ঝোপে নিয়ে ধর্ষণ করে। রাত ১০টার দিকে জ্ঞান ফিরলে ওই শিক্ষার্থী রিকশায় করে বান্ধবীর বাসায় যান। সেখান থেকে বান্ধবীসহ অন্য সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সোমবার (৬ জানুয়ারি) সকালে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে ওই ছাত্রীর বাবা ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলাটি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে।

দেশদর্পণ/এসজে