এমপি রতনের অবৈধ সম্পদের খোঁজে দুদক

সরকারে চলমান ক্যাসিনো অভিযানের (শুদ্ধি অভিযান) মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান তালিকায় সুনামগঞ্জ-১ আসনে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের নাম এসেছে।

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) দুদকের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদক সূত্রে জানা গিয়েছিল, জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন এবং জাতীয় সংসদের হুইপ ও চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শামশুল হক চৌধুরীর বিষয়ে অনুসন্ধানে নামবে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার দুদকের সে তালিকায় যুক্ত হলেন সুনামগঞ্জ-১ আসনে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন।

রতনের বিরুদ্ধে ক্যাসিনো কান্ডে জড়িত থাকার পাশাপাশী একাধিক বাড়ি, গাড়ী, ফ্যাক্টরী ও হাজার কোটি টাকার মালিক বনে যাবার পেছনে জলমহাল বালু পাথর মহাল, হাট বাজার, সেতু নির্মাণ, সরকারি বরাদ্দ লুপাট, বিভিন্ন নৌ পথে চাঁদাবাজি, নিয়োগ – তদবীর বাণিজ্য, বড়ছড়া কয়লা শুল্ক ষ্ঠেশন হতে চাঁদাবাজির আয়ে আঙ্গুল ফুলে কলা বনে যাবার অভিযোগ উঠেছে।

পাশাপাশী শুধুমাত্র পলিটেকনিক কলেজে এইচএসসি সমামানের পরীক্ষায় উক্তিণ হবার পর নিজেকে উচ্চ শিক্ষিত জাহির করতে গিয়ে ভুয়া ইঞ্জিনিয়ার দাবি করে গণ প্রতারণা করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

দুদকের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, সরকারের চলমান ক্যাসিনো কাণ্ডে জড়িতদের সম্পদ অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক। শুরুতে এ তালিকায় ৪৩ জনের নাম আসে দুদকের কাছে। কিন্তু আরও অনুসন্ধানে সেই তালিকা বড় হয়ে এখন প্রায় ১০০ জনে গিয়ে ঠেকেছে। তালিকা আরও বড় হতে পারে বলে জানিয়েছেন দুদকের এক কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি টিম ক্যাসিনো কান্ডে জড়িতদের সম্পদ অনুসন্ধানে নামে।

আরো পড়ুন:
কক্সবাজারে রামু কেন্দ্রীয় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার ফাইনাল কাল
চৌগাছার কুখ্যাত রাজাকার ফরিদকে আড়াল করতে ছোট ভাই আ. লীগ নেতা সহিদুলের মিথ্যাচার
ফেসবুকে গুজব ছড়ালেই কঠোর ব্যবস্থা: সচেতনতামুলক সভায় মিলু মিয়া

গণমাধ্যমে আসা বিভিন্ন ব্যক্তির নাম যাচাই-বাছাই করে একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করে অনুসন্ধান দলটি। সেই তালিকায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তথ্য-উপাত্ত সংস্থাটির গোয়েন্দা শাখায় যাচাই বাছাই করা হয়।

এসব ক্ষেত্রে র‌্যাব ও বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দুদককে সাহায্য করেছেন।

তাদের থেকে প্রাপ্ত বিপুল পরিমাণ গোয়েন্দা তথ্যাদি ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে সোমবার (২১ অক্টোবর) দুটি মামলা করেছে সংস্থাটি। আর মঙ্গলবার আরও দুটি মামলার অনুমোদন হয়েছে।

এ বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান জানান, ক্যাসিনো কান্ডে যাদেরই নাম এসেছে সবাই অনুসন্ধানের আওতায় আসবেন। রাজনৈতিক নেতা, সরকারি কর্মচারী যারা জড়িত তাদের কেউই ছাড় পাবে না।

অক্টোবর ২৩, ২০১৯ at ১৩:২৮:৩০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আহা/আক/হাসআ/তআ