রাজাকার পুত্রদের অত্যাচার থেকে রক্ষা দাবী সংখ্যালঘু পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

একাত্তরের চিহ্নিত রাজাকার, পটুয়াখালী পুরান বাজার লুটপাটের মুল হোতা, যুদ্ধাপরাধী আলাউদ্দীন সিকদারের ছেলেদের অত্যাচার, মিথ্যা মামলা ও হয়রানী থেকে মুক্তির লক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন করেছে পটুয়াখালীর একটি সংখ্যালঘু পরিবার। সোমবার সকালে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শহরের নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী ধীমান কর্মকার। এ সময় সংখ্যালঘু পরিবারের নারীসহ অনেক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

সকাল ১১টায় পটুয়াখালী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে লিখিত বক্তব্যে ধিমান কর্মকার জানান, তাদের সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের জেএল-৮, উত্তর বাদুরা মৌজায় খতিয়ান নং- ৩৮৯, ৩৯০, ৩৯১, ৭৪৭, ৮৯৭ সহ বিভিন্ন খতিয়ানে দাগ নং-১৫৬৭, ১৪৬২, ১৪৬৩, ২৪, ২৭, ৩৩, ৩৮, ৩৫, ১৫০১, ১৫০৮, ১০০৩, ১০০৪, ১০১৬, ১০১৯, ১০২৮ এ্র প্রায় ১২ একর জমি রয়েছে। উক্ত জমির মধ্যে থেকে তাদের পরিবার বিভিন্ন সময় ৪ একর জমি রাজাকার আলাউদ্দীন সিকদারের নিকট বিক্রয় করেছে।

আলাউদ্দিন সিকদারের মৃত্যুর পর তার ছেলে আউলিয়াপুর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি জাকির সিকদার, তার ভাই এডভোকেট আলমগীর সিকদার এবং ভাইয়ের ছেলে রুবেল সিকদার তাদের বাকী পৈত্রিক ৮ একর জমি জোড় করে দখল করে নিয়ে যায়। রাজাকার পুত্র জমি জবর দখল করেই ক্ষান্ত হননি, একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের দেশ ত্যাগের হুমকী দিচ্ছেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ এলাকার গণমান্য ব্যাক্তিবর্গ জমি উদ্ধারে একাধীকবার চেষ্টা করলেও তাদের অবৈধ অর্থ ক্ষমতার দাপটে জমি উদ্ধারে ব্যর্থ হয়।

আরও পড়ুন:
পটুয়াখালীতে ভূয়া ডাক্তারের এক বছর জেল, সিলগালা ডায়াগোনষ্টিক সেন্টার
কলাপাড়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ১২ ব্যবসায়ীকে লক্ষাধিক টাকা জরিমানা

সম্প্রতি জমি উদ্ধারের জন্য তারা প্রশাসনের দ্বারস্ত হলে তাদের নামে সিআর মামলা নং-৯০৭/২০১৯, জিআর মামলা নং-৩১/৪০৬, সিআর মামলা নং-৭০৯/২০১৯, জিআর মামলা নং-৪৯/৪২৪, সিআর মামলা নং-৭২১/২০১৯ মামলাগুলো দায়ের করে রাজাকার পরিবার। এ সব মামলায় তাদের পাশাপাশি যারা তাদের সহযোগিতা করে তাদেরও আসামী করা হয়েছে।

অশ্রুসজল চোখে তিনি জানান, পরিবার পরিজন নিয়ে তিনি এই বাংলাদেশে থাকতে চান। মিথ্যা মামলা এবং হুমকী থেকে পরিত্রাণ চান। প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাসহ প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

অক্টোবর ১৪, ২০১৯ at ২২:১২:২৯ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আহা/আক/সুচ/এএএম