আবরারের ছোট ভাই ফায়াজ আর ঢাকায় পড়বেন না

বুয়েটে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার সেখানকার মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদের একমাত্র ছোট ভাই আবরার ফায়াজ আর ঢাকায় পড়বেন না। শনিবার বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামের বাড়িতে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ফায়াজ নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন।

আবরার ফায়াজ ঢাকা কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ফায়াজ বলেন, ভাইকে হারিয়ে আমি এখন একা হয়ে পড়েছি। ঢাকায় ভাই আমার দেখাশোনা করত, এখন তো ভাই নেই, তাই ওখানে আর পড়ব না।

বিকেল সাড়ে পাঁচটায় গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হন আবরার ফায়াজ। বলেন, আমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক ছিল। ও ছিল আমার অভিভাবকতুল্য। আমাকে আগলে রাখত। ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক এমন ছিল যে, মা-বাবার কথা তেমন মনেই পড়ত না।

আবরার ফাহাদ যে দিন (হত্যাকাণ্ডের আগের দিন) কুষ্টিয়ার পিটিআই সড়কের বাড়ি থেকে ঢাকায় ফিরে যান, সে দিন সকালে ঘুমিয়ে ছিলেন জানিয়ে ফায়াজ বলেন, ভাই যাওয়ার সময় মা আমাকে ডেকেছিল। কিন্তু শুয়েই ছিলাম। তারপরও ভাই বলল, তাড়াতাড়ি ঢাকায় চলে আসবি। এটাই ছিল ভাইয়ের সঙ্গে আমার শেষ কথা, শেষ দেখা।

আরও পড়ুন:
গ্যাস সঞ্চালন লাইনে ছিদ্র, রাজশাহী নগরীতে গ্যাস সরবরাহ কমেছে
রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

পড়াশোনার বিষয়ে ফায়াজ বলেন, কলেজে (ঢাকা কলেজ) আর যাব না। কোনো ভয়ের কারণে না, আসলে সত্যি কথা যেটা, আমাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া ও ভর্তি, সবই ছিল বড় ভাইয়ের ইচ্ছায়। ও সব বিষয়ে কেয়ার করত। এমনকি রুমে পানি না থাকলে ভাই ব্যবস্থা করে দিত। সেই প্রিয় ভাইটি আজ নেই, সেখানে কী করে থাকব।

ফায়াজ আরো বলেন, বড় ভাই ছিল, দুজন ছিলাম। এখন একা। ঢাকা আর না, কুষ্টিয়াতে পড়াশোনা করব। এটাই আমার পরিকল্পনা। সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় আবরার ফায়াজ খুব দ্রুত তার বড় ভাই অাবরার ফাহাদের খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

প্রসঙ্গত, গত ৬ অক্টোবর (রোববার) রাতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী ছাত্র অাবরার ফাহাদকে শেরে বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে হলটির ২০১১ নম্বর কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী নৃসংশভাবে পিটিয়ে হত্যা করেন। নিহত আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন।

অক্টোবর ১৩, ২০১৯ at ০০:১৪:২৯ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আহা/আক/এসআরএস/এএএম