চৌগাছা উপজেলা আ. লীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি নিয়ে ধ্রুম্রজালের সৃষ্টি

 

‘‘বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মেহেদী মাসুদ চৌধূরী”

যশোরের চৌগাছা উপজেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে নানা ধরনের ধ্রুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি কমিটি নিয়ে স্থানীয় নেতা কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রকাশিত সেই কমিটির বিভিন্ন পদের বিপরীতে যাদের নাম এসেছে সেটা নিয়েই বিপত্তি দেখা দেয়।

এ নিয়ে দলের অভ্যন্তরে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে সেটাকেই থামাতে শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বিকাল ৫টার সময় উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মেহেদী মাসুদ চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বক্তব্য প্রচার করেন। সেই বক্তব্যে তিনি প্রচারিত ওই কমিটিকে সম্পূর্ন ভিত্তিহীন দাবী করেন।

কোন দায়িত্বশীল নেতার স্বাক্ষর ছাড়াই সভাপতি হিসেবে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বর্তমান সভাপতি এসএম হাবিবুর রহমান, সাধারন সম্পাদক মেহেদী মাসুদ চৌধুরী এবং ১ নং যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক তবিবার রহমানকে বহাল রেখেই ৭১ সদস্যের ওই কমিটি প্রকাশ করা হয়েছে। সহ-সভাপতি হিসেবে পুরানোদের যেমন মূল্যায়ন করা হয়নি তেমনি সকল নাম সহ-সভাপতি হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে তাদের মধ্যেও অনেককে নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন নেতাকর্মীরা।

বিভিন্ন নির্বাচনে দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে যারা নির্বাচন করেছেন, বিভিন্ন হত্যা মামলার আসামিসহ ইয়াবা মাদক সেবীদের নাম থাকলেও নৌকা প্রতিকে নির্বাচীত উপজেলার চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ বিগত কমিটির অনেক ত্যাগী নেতাদেরকে বাদ রাখা হয়েছে।

 

এব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক পরবর্তীতে দুবারের ১ নং যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক মাষ্টার সিরাজুল ইসলাম বলেন, যে কমিটি প্রচারিত হয়েছে সেটা তাদের দুজনের মনোনিত একটি খসড়া কমিটি বলেই মনে হয়েছে। আর এখন তিনি যা বলছেন সেটা সাংগঠনিক কথা হতে পারে। তবে আমার বিশ্বাস এই কমিটির খুব বেশি হেরফের হবেনা। যারা আছেন তাদের মধ্যে প্রায় সকলেই থাকবেন বলেই মনে হয়।

আরও পড়ুন :
চেয়ারম্যান ওমর ফারুককে ছাড়াই সম্মেলন করবে যুবলীগ
শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম

চৌগাছা ইউনিয়নের দুবারের ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলামও প্রায় একই কথা বলেছেন। রফিকুল বলেন, এখন তিনি যে বক্তব্য দিচ্ছে সেটা শতভাগই সাংগঠনিক বক্তব্য। চেয়ারম্যান রফিকুল প্রশ্ন করেন.“যদি তিনি নাই জানেন তবে এই কমিটি এলো কোথা থেকে সেটা খুজে বের করার দায়িত্বটাই বা কার”?

দলের পুরাতন যেসকল নেতারা সকল বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে দলটির অবস্থান মজবুত থেকে মজবুততর করেছে সে সকল নেতাদের নামই কমিটিতে নেই, জানালেন দলীয় নৌকা প্রতিকে নির্বাচীত উপজেলার চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড.মোঃ মোস্তানিছুর রহমান। দল অবস্থান ধরে রাখতে ও মজবুত করতে অবশ্যই পরিক্ষীত এবং ত্যাগীদেরকে জায়গা দিতে হবে।

জেলা পরিষদ সদস্য ও আওয়ামীলীগ নেতা দেওয়ান তৌহিদুর রহমান বলেন, যে কমিটি প্রকাশ হয়েছে সেখানে ওই সকল ত্যাগীরাই বাদ পড়েছেন যারা দলটি পরিচালনা করে থাকেন। দলের দূর্দীনে যারা হাল ধরেন, অর্থ দিয়ে শক্তি দিয়ে দলের অবস্থান ধরে রাখেন তাদের নামই নেই। আপনার নামটাও সেই কমিটিতে নেই উত্তরে তৌহিদ বলেন, দীর্ঘ ১৯ বছর দল করছি। দলের সকল দুঃসময়ে আমি পাশে থেকেছি। তারপরেও আমার নামটা ওখানে নেই। এছাড়াও যাদেরকে দলে খুবই প্রয়োজন তাদের নামগুলো কেনো নেই সেটাই বুঝতে পারছি না, বললেন জেলা পরিষদ সদস্য দেওয়ান তৌহিদুর রহমান।

মুজিব সৈনিক হিসেবে দীর্ঘ দিনের পরিক্ষীত নেতা, দুবারের নির্বাচীত উপজেলার ভাইস-চেয়ারম্যান, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক দেবাশীষ মিশ্র জয়কে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদকের বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্শন করা হলে তিনি বলেন, এই কথার পরে আর কোনো বক্তব্য থাকেনা। তিনি চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতির বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, যদি প্রকাশিত কমিটির উৎস্য খুজে বের করা না যায় তবে সেটা দুঃখজনক।

তিনি আরও বলেন, প্রকাশিত কমিটি যেভাবে দেখলাম যদি কোন কারনে তা সত্যি হয় বা ওই ধরনের কমিটি পাশ করানো হয় তবে ওই নেতাদের দূরবীন দিয়ে খুজে বেড়াতে হবে। জয় আরো বলেন, যারা জনবিচ্ছিন্ন, যাদেরকে দূর্দীনে পাশে পাওয়া যায়না এবং যাদেরকে কোন কর্মকান্ডেই দেখা যায়না তারা কেনো কমিটিতে আসবে। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে জয় বলেন, যেখানে জননেত্রী ত্যাগী পরিক্ষীত নেতা কর্মীদের মূল্যায়ন করতে বলছেন এবং চাইছেন সেখানে এ ধরনের কমিটি নেত্রীর সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখানো মাত্র।

 

দলীয় নৌকা প্রতিকে নির্বাচীত চৌগাছার পৌর মেয়র নুর উদ্দিন আল মামুন হিমেল বলেন, যেহেতু উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বলেছেন প্রচারিত কমিটি একটি বিভ্রান্ত ছড়ানো ছাড়া আর কিছুই না কাজেই এখানে আর বলার কিছুই থাকে না। মেয়র হিমেল বলেন, যেহেতু এরকম একটি কমিটি বেশ কিছু দিন যাবৎ লোকমুখে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে সেটা শুরুতেই বন্ধ করা যেতো।

তিনি বলেন, আমাদের আরো সতর্কতার সাথে রাজনীতি করা উচিত। যেহেতু আমরা দায়িত্বশীল পদে আছি। তাই বিভ্রান্তির কিছু দায়দায়িত্ব এমনিতেই কাধে এসে পড়ে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। ছাত্র জীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে শুরু করে যুবলীগ করছি। পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক হিসেবে নৌকা প্রতিকে দলীয় মেয়র নির্বাচীত হয়ে গর্বিত মেয়র বলেন, অতীতেও আমরা উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটিকে পূর্নাঙ্গ করতে বেশ কয়েকবার বসেছি।

এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, হঠাৎ করে এরকম একটি ঘটনা কি মনে করিয়ে দেয়না যে, দায়িত্ব পালনের মধ্যে কিছু ভুল ত্রুটি আছে। তবে প্রচারিত কমিটি একটি বিভ্রান্ত ছাড়া আর কিছুই না শুনে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারন সম্পাদক মাসুদ চৌধূরীর বক্তব্য পড়ে স্বস্তি পেয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন মেয়র। তবে ভুলক্রমেও যদি এধরনের কোন কমিটি হয় প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে কমিটি দেখলাম আর তাতে যাদের নাম আছে তার মধ্যে ৪০ শতাংশই কমিটিতে আসার যোগ্যতা রাখে না।

 

কারন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ নতুন তৈরি কোন শিশু কিশোরদের দল না বলেও মন্তব্য করেন মেয়র হিমেল। তবে সাধারন সম্পাদক মেহেদী মাসুদ চৌধুরী বলেন, আমার বক্তব্য আমি লিখিত আকারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়েছি। প্রকাশিত ওই কমিটির কোনো বৈধতা নেই। এদিকে বিভিন্ন নেতারা যে দাবী করছেন তার উত্তরে মাসুদ বলেন, কে বা কারা এবং কি উদ্দেশ্যে এই কমিটি করেছে আমি বলতে পারবো না।

ওই কমিটিতে দায়িত্বশীল কোনো নেতার স্বাক্ষর নেই। নৌকার বিরোধীতা করে যারা নির্বাচন করেছেন তারাও এই কমিটি করে সামাজিক মাধ্যমে ছাড়তে পারেন। কারন হিসেবে মাসুদ চৌধুরী বলেন, তারা হয়তো কমিটিতে আসতে পারবেনা ভেবেই এটা করে থাকতে পারেন।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯ at ২১:০২:২৯ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আহা/আক/জআর/আজা