বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা তিনটি উপন্যাস

‘অগ্নিকণ্যা’, ‘অগ্নিমানুষ’ ও ‘অগ্নিপুরুষ’ ইতিহাসভিত্তিক এই তিনটি উপন্যাস রচনা করেছেন কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক মোস্তফা কামাল। তিন উপন্যাসেই বর্ণিত হয়েছে ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১-এর সময়কাল।

তাতে অবধারিতভাবেই উপস্থিত হয়েছিলেন একজন মানুষ। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত এ তিন উপন্যাসকে এক সুঁতোয় গেঁথে প্রাণবন্ত এক আড্ডায় হাজির হয়েছিলেন সাহিত্যিকরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কথাসাহিত্যিক স্বকৃত নোমান এবং লেখক ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তুহিন ওয়াদুদ।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন শ্রাবণ প্রকাশনীর প্রকাশক রবিন আহসান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কাজী নুসরাত শারমীন।

রবিবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রের ড. আসমা চৌধুরী মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে এ বই আড্ডার আয়োজন করে শ্রাবণ প্রকাশনী।

আরও পড়ুন :
কোটচাঁদপুরে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
মহেশপুর ফেনসিডিলসহ ক্লিনিক মালিক আটক

সেলিনা হোসেন বলেন, এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা বড় কোন ইতিহাস বই পাঠ না করে, কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামালের উপন্যাস তিনটি পড়ে ইতিহাস জানতে পারবে।

তারা নিজেদের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুকে জেনে নিতে পারবে। তাদের কাছে নতুন দিক উন্মোচন করবে। ইতিহাস পাঠ করার পাশাপাশি ইতিহাসের মানুষদেরকে জানতে পারবে। সময়ের চিত্রকে উপন্যাসে চিত্রিত করা বড় কারিগরের কাজ। সে কাজটি মোস্তফা কামাল করেছেন।

মোস্তফা কামাল বলেন, ১৯৮৪ সাল থেকে লেখালেখি শুরু করলেও নিয়মিত লেখালেখি করি ১৯৯১ সাল থেকে। এটা আমার কাছে প্রার্থণার মতো। বড় একটি কাজ করার পরিকল্পনা নিয়েছিলাম।

১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত আমাদের জাতির গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আর এ অধ্যায়ের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমান।

কথাসাহিত্যিক স্বকৃত নোমান বলেন, মোস্তফা কামাল বড় সাংবাদিক হয়েও এত মোটা মোটা বই লিখছেন এটা বিষ্ময়কর। এ কারণে তাকে শ্রদ্ধা জানাই। আমাদের ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক দায় রয়েছে।

যা মোস্তফা কামাল নিজের লেখায় বাস্তবায়ন করেছেন। আমরা ইতিহাস বিচ্যুতি জাতি। সেজন্য এ ধরণের ইতিহাসআশ্রিত বই জাতির কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন।

তুহিন ওয়াদুদ বলেন, ইতিহাসভিত্তিক উপন্যাস তিনটিতে মোস্তফা কামাল যে সময়কে তুলে ধরেছেন, সে সময়ের মানুষের মনোজগত পাঠ করেছেন। ফলে ইতিহাস পাঠ করা পাঠকের কাছে এটি ভিন্ন স্বাদ দিচ্ছে।

এই বইগুলো ইতিহাস পাঠ না করা পাঠককে ইতিহাস পাঠের স্বাদ দেবে। তিনি সফলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে ইতিহাসকে তুলে এনেছেন। এতটাই বস্তুনিষ্ঠ ছিলো যে, ইতিহাসের চরিত্রেরও নামও পরিবর্তন করেননি।

রবিন আহসান বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ৪০টি বই নিয়ে বই আড্ডার আয়োজন করেছি। এর জন্য আমরা শ্রাবণ বইগাড়ি নিয়ে শহরে শহরে ঘুরে ফিরছি।

পনের দিন পর বই আড্ডার আয়োজন করা হবে। আড্ডায় দ্বিতীয় পর্বে আয়োজিত হলো বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা মোস্তফা কামালের উপন্যাস নিয়ে আড্ডা ও আলোচনা।

বই আড্ডা শেষে ছিলো বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত কবিতা আবৃত্তি। আবৃত্তি করেন লায়লা আফরোজ, নাজমুল আহসান, জাহান বশির, মাহফুজ আহসান, মাসুদুজ্জামান, মাসুম আজিজুল বাসার, আবু নাসের মানিক, নাঈমা রুম্মান, লিজা চৌধুরী, পলি পারভীন, ফারজানা ইসলাম, আহমেদ মাসুম ও শ্রাবণী আক্তার।

অক্টোবর ০৬, ২০১৯ at ২১:১৭:৩০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আহা/আক/ভোকা/আজা