বন্যা দেখতে মানুষের ভিড়, ট্রলারের কদর

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে বেড়েছে মানুষের ভিড়। সেই সাথে বেড়েছে ট্রলারের কদর। প্রতিদিন বন্যা দেখতে গিয়ে ট্রলারে ঘুরছেন বিপুল সংখ্যক উৎসুক মানুষ। আবার ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রেও একমাত্র ভরসা ট্রলার। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ট্রলার নিয়ে দুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছেন। ট্রলার চালকদের এখন ব্যস্ত সময় কাটছে। ভাল আয়ও হচ্ছে। তারা দিনভর ছুটে চলেছেন উপজেলার বন্যা কবলিত পাঁচ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা।

উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের আবেদের ঘাট, ফিলিপনগর ঘাট ও বাহিরমাদি চর ঘাট, মরিচা ইউনিয়নের চৌদ্দহাজার ঘাট, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের তালতলা ঘাট, ভাগজোত ঘাট ও মুন্সিগঞ্জ ঘাট, চিলমারী ইউনিয়নের বাজুমারা ঘাট, বাংলাবাজার ঘাট, মানিকের চর ঘাট ও সুখা মাঝির ঘাটসহ চরাঞ্চলে আরো কিছু খেঁয়া ঘাট রয়েছে।

এর মধ্যে কয়েকটি ঘাট বন্যার পানিতে তলিয়ে গেলেও বিকল্প ঘাট গড়ে উঠেছে। অন্য সময় পদ্মার এসব ঘাট থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী পারাপার, পণ্য পরিবহন এবং নদীতে মাছ ধরার জন্য ট্রলার ও নৌকা চলাচল করে। পদ্মায় ট্রলার চালিয়ে জিবিকা নির্বাহকারী ব্যক্তিরা শুস্ক মৌসুমে একরকম হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকলেও বন্যায় এখন তাদের যেন দম ফেলার সময় নেই।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শতাধিক ছোট বড় ট্রলার উৎসুক যাত্রীদের নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায়। ভাল অর্থ উপার্জন করে দিন শেষে হাসি মুখে গন্তব্যে ফিরছেন ট্রলার চালকরা। এই মুহূর্তে ট্রলার চালকদের পোয়াবারো অবস্থা। চরাঞ্চলের বন্যা কবলিত এলাকাগুলোয় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর মধ্যে ফিলিপনগরের আবেদের ঘাটে মানুষের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি।

প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ দল বেধে বন্যা ও ফুলে ফেঁপে ওঠা পদ্মার রুদ্ররূপ দেখতে যাচ্ছেন। অনেকে পরিবারের লোকজনও সঙ্গে নিচ্ছেন। ঘণ্টা কিংবা এলাকা চুক্তিতে ট্রলার ভাড়া করে ঘুরছেন। বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে দেখছেন। তুলছেন ট্রলারে বেড়ানোর সেলফি এবং তা ছেড়ে দিচ্ছেন ফেসবুকে। কেউ কেউ নৌকায় করেও আশপাশের এলাকা ঘুরছেন।

বন্যাচিত্র দর্শনার্থীদের মধ্যে তরুণ-তরুণীদের সংখ্যাই বেশি। একদিকে তারা অনেকটা আনন্দ ভ্রমণের মতো ট্রলারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অপরদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা রয়েছেন চরম দুর্ভোগে। ট্রলারের ইঞ্জিনের শব্দ পেলেই ত্রাণের আশায় এগিয়ে আসছেন বানভাসিরা। অন্যদিকে, সরকারিভাবে ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে বন্যা দুর্গত এলাকাগুলোয় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। কেউ কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগেও ত্রাণ বিতরণ করছেন। আর এসব ত্রাণ সামগ্রী পরিবহনে ট্রলারের বিকল্প নেই।

একমাত্র ভরসা ট্রলার রিজার্ভ করে পূর্ব নির্ধারিত বিভিন্ন স্পটে যাওয়া হচ্ছে। সেই সব স্পট থেকে বন্যায় ক্ষতির মুখে পড়া দুর্দশাগ্রস্ত পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে এসব ত্রাণ। এ ছাড়া সংবাদকর্মীরাও খবর সংগ্রহের জন্য ট্রলার ভাড়া করে বিস্তীর্ণ এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। উপজেলার বন্যা কবলিত চিলমারী, রামকৃষ্ণপুর, মরিচা, ফিলিপনগর ও প্রাগপুর ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশত গ্রামের বহু মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।

নিম্নাঞ্চলের আবাদি ফসল তলিয়ে যাওয়ায় তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় ত্রাণ তৎপরতা চললেও তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। তবে এরই মধ্যে সরকারিভাবে ১শ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য ও নগদ ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে খুব শিগগিরই এই খাদ্যশস্য ও টাকা বিতরণ করা হবে বলে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য আ. কা. ম. সারওয়ার জাহাদ বাদশাহ্ বলেন, আমি চরাঞ্চলের মানুষ। এখানকার মানুষের দুঃখ দুর্দশা ভাল করে বুঝি। নিয়মিত বন্যার্তদের তদারকি করা হচ্ছে। কেউ যেন খাদ্যকষ্টে না থাকে সেই জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ত্রাণ বিতরণ : কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে শনিবার দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় বন্যার্তদের মাঝে দুই হাজার প্যাকেট ত্রাণ বিতরণ করেন।

এসময় ছিলেন পুলিশ সুপারপত্নী শারমিন আক্তার, দৌলতপুর-ভেড়ামারা সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ মো. আল বেরুনী ও দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমানসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এদিন সরকার দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ রেজাউল হক চৌধুরী দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে বন্যা কবলিতদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।

অক্টোবর ০৫, ২০১৯ at ১৬:৪৬:২৯ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আহা/আকে/এসআরসে/আজা