পাক-ভারত যুদ্ধ হলে প্রণহানির আশঙ্কা ১০ লাখ

কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ভারতীয় পার্লামেন্টে হামলা করে অধিকাংশ নেতাকে হত্যা করেছেন। নয়াদিল্লি প্রতিশোধ নিতে আজাদ কাশ্মীরে ট্যাংক পাঠিয়েছে। হানাদার বাহিনীকে হটাতে ইসলামাবাদ যুদ্ধক্ষেত্রে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করেছে।

ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতে রূপ নিয়েছে এই যুদ্ধ। বৈশ্বিক তাপমাত্রা কমে এমন বিপর্যয়কর অবস্থায় চলে গেছে যে সর্বশেষ তুষার যুগেও যেটি দেখা যায়নি। বুধবার নতুন একটি গবেষণাপত্রে এমন কল্পনাচিত্র তৈরি করা হয়েছে।

এতে তাৎক্ষণিকভাবে ১০ কোটি লোকের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশীর মধ্যে নতুন করে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে এ গবেষণাটি করা হয়েছে। কাশ্মীর নিয়ে এর আগে তাদের কয়েকটা যুদ্ধ হয়েছে।

বর্তমানে দেশ দুটির হাতে ১৫০টির মতো পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। ২০২৫ সাল নাগাদ এগুলোর সংখ্যা বেড়ে ২০০-এর কাছাকাছি পৌঁছাবে।

আরও পড়ুন :
নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
বন্যার পানিতে এক শিশুর মৃত্যুু

রাটগারর্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানের অধ্যাপক আলান রোবোক বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, এটা খুবই সময়োপযোগী। কারণ কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের মধ্যেই রয়েছে।

গত আগস্টে অধিকৃত কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের হিন্দুত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জবাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গত সপ্তাহে জাতিসংঘে ঘোষণা দিয়েছেন, এই বিতর্ক পরমাণু যুদ্ধের দিকে গড়াতে পারে।

গত ফেব্রুয়ারিতে আকাশযুদ্ধে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দেশ। কিন্তু শান্তির নিদর্শন হিসেবে আটক ভারতীয় পাইলটকে পাকিস্তান ফেরত দেয়ার পর সীমান্তে উত্তেজনা কিছুটা কমেছিল।

প্রথমে পরমাণু হামলার নীতি না থাকলেও ব্যাপক বিধ্বংসী হামলার যেকোনো জবাব দেয়ার অধিকার ভারতের রয়েছে। পাকিস্তান ঘোষণা করেছে, প্রচলিত অস্ত্রের হামলা থামাতে না পারলে কিংবা পরমাণু হামলার শিকার হলেই তারা কেবল এই অস্ত্রের ব্যবহার করবে।

দুই দেশের বর্তমান জনসংখ্যা ও শহুরে কেন্দ্র, যেগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, গবেষকদের ধারণা, দুই দেশই তাদের সর্বাধিক উৎপন্ন অস্ত্র আরও বাড়াতে থাকলে নিহতের সংখ্যা সাড়ে ১২ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সাড়ে সাত থেকে আট কোটি লোক নিহত হয়েছিলেন। কাজেই কঠিন দৃশ্যপট তৈরি হবে, যদি ১০০ কিলো টন অস্ত্রের ব্যবহার করা হয়, যা হিরোসিমায় ফেলা মার্কিন বোমার চেয়েও ছয় গুণ শক্তিশালী হবে।

এমন বোমার আকাশে একটি একক বিস্ফোরণে ২০ লাখ লোক নিহত হতে পারেন। আহত হতে পারেন ১৫ লাখ। কিন্তু বড় ধরনের বিস্ফোরণে সর্বাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটবে।

গবেষণাপত্রটিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের চেয়ে ভারতে প্রাণহানির ঘটনা দুই থেকে তিনগুণ বেশি হবে। পাকিস্তান ভারতের চেয়ে বেশি অস্ত্র ব্যবহার করবে। এছাড়া ভারতের জনসংখ্যার পরিমাণ বেশি। এছাড়া ঘনবসতিপূর্ণ শহরের সংখ্যায়ও এগিয়ে ভারত। শহরের জনসংখ্যার শতকরা হিসাবে ভারতের চেয়ে পাকিস্তানের ক্ষতি দ্বিগুণ হতে পারে।

দেশ দর্পণে আরও পড়ুন :
বেনাপোলে সাংবাদিকদের নিয়ে ফেসবুকে কটুক্তি করায় থানায় জিডি
পর্যাপ্ত পিয়াঁজ মজুদ রয়েছে, কৃত্রিমভাবে সংকট সৃষ্টির সুযোগ নেই -মনিটরিং টিম

গবেষকরা দেখেছেন, প্রলয়ঙ্করী অগ্নিবিস্ফোরণ এক কোটি ৬০ লাখ থেকে তিন কোটি ৬০ লাখের মতো ঝুল (কালো কার্বন) বায়ুমণ্ডলের উপরিস্তরে ছড়িয়ে দেবে। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে।

এতে পৃথিবীতে সূর্যের আলো ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ কমে যাবে। ভূউপরিভাগ ৩ দশমিক ৬ থেকে ৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট শীতল হয়ে যাবে। এছাড়া ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ বৃষ্টিপাতও হ্রাস পাবে।

এতে বিশ্বব্যাপী খাদ্যাভাব দেখা যাবে। পরবর্তী ১০ বছর এই প্রভাব থেকে যাবে। গবেষক রোবোক বলেন, আমি আশা করছি, আমাদের কাজ লোকজনকে একটি বিষয় উপলব্ধি করতে উৎসাহিত করবে যে আপনি পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করতে পারেন না। কারণ এটা ব্যাপক গণহত্যার অস্ত্র।

কলাম লেখক ও লন্ডনের এসওএএস জোহান চ্যাকো বলেন, এই গবেষণা বিশ্ব সম্প্রদায়কে একটা কথা বোঝাতে সক্ষম হবে যে, পরমাণু যুদ্ধের খেসারত সবাইকেও দিতে হবে। কেবল যারা যুদ্ধ করছেন, তারাই এতে আক্রান্ত হবেন না, জলবায়ুর প্রভাবে সবাই এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

অক্টোবর ০৩, ২০১৯ at ১২:২৩:৩০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আহা/আক/যুত/আজা