অভিনব প্রতারনায় আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার লুট

যশোরের চৌগাছায় অভিনব কায়দায় অসহায় গরীব এক গৃহকর্তার নিকট থেকে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে চম্পট দিয়েছে এক প্রতারক। মঙ্গলবার (০১ অক্টোবর) দুপুরে পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কারিগরপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, কারিগরপাড়া মহল্লার বাসিন্দা সাবেক গাড়ি চালক আব্দুল লতিফের স্ত্রী আছিয়া বেগম (৬৫) প্যরালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে দুই বছর ধরে শয্যাশায়ী। অনেক ডাক্তার কবিরাজের ধারস্থ হয়েও তার স্ত্রীকে সুস্থ্য করতে পারেনি।

এক সপ্তাহ আগে চৌগাছা বাজারের বীজ ব্যবসায়ী শুকুর আলী ও তার দোকানের কর্মচারী দিলিপ কুমারের মাধ্যমে জানতে পারেন যশোরের বেনাপোলের কবির সুমন হোসেন (২৫) প্যারালাইসিসের চিকিৎসা দেন এবং রোগী সুস্থ্য হয়ে যান।

বীজ ব্যবসায়ী ও কর্মচারী ওই কবিরাজকে খবর দিলে কবিরাজ সুমন হোসেন মঙ্গলবার দুপুরে চৌগাছায় আসেন। তিনি গাড়ি চালক আব্দুল লতিফের ঠিকানা সংগ্রহ করে ওই বাড়িতে হাজির হয়।

কবিরাজ সুমন হোসেন গৃহকর্তা আব্দুল লতিফকে বলেন, আপনার স্ত্রী সম্পূর্ণ সুস্থ্য হয়ে যাবে কোন চিন্তার কারন নেই। কবিরাজ এ সময় বাড়ির পাশে বাগান থেকে একটি গাছের শিকড় সংগ্রহ করে। এরপর গৃহকর্তা আব্দুল লতিফকে বলেন একটি সাদা কাগজ, একটি কালো সুতার কাটিম, কিছু কালোজিরা, কিছু লবঙ্গ নিয়ে আসেন।

আরও পড়ুন:
কেশবপুরে ৯৩টি মন্ডপে দুর্গোৎসব পালনের প্রস্তুতি সম্পন্ন
পুলিশের সোর্সের সহযোগিতিয় বাল্য বিবাহ অনুষ্ঠিত

এ সব কিছু আনার পর কবিরাজ বলেন, এ সব কিছু একটি গ্লাসের পানিতে রাখুন। এরপর গৃহকর্তাকে অন্তত ৩ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে আসতে বলেন। গৃহকর্তা স্বর্ণালংকার তার নেই বললে কবিরাজ বলেন, যে কোন জায়গা থেকে সংগ্রহ করুন। গ্লাসের পানিতে স্বর্ণালংকার ও ওষুধ ভিজিয়ে রাখতে হবে। তিন ঘন্টা রাখার পর স্বর্ণালংকার বের করে পানি শরীরে মালিশ করলে ধীরে ধীরে রোগী সুস্থ্য হয়ে উঠবে।

গৃহকর্তা আব্দুল লতিফ একপর্যায় পাশের মহল্লায় তার মেয়ের বাড়ি থেকে ২টি স্বর্ণের চেইন, একটি আংটি ও কানের দুলসহ মোট আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার এনে কবিরাজের হাতে তুলে দেন। কবিরাজ সুমন হোসেন সকলের চোখ ফাকি দিয়ে আলংকার তার ব্যাগে ঢুকিয়ে ফেলে এবং সাদা কাগজ ভাজ করে ওই গ্লাসে ঢুকিয়ে গ্লাসের মুখ বন্ধ করে দেয়।

এরপর গ্লাসটি একটি নিরাপদ স্থানে রাখার জন্য বলা হয়। তিন ঘন্টার আগে কেউ যেন এই গ্লাস স্পর্শ না করে এমনটি বলে কবিরাজ কোন টাকা পয়সা না নিয়ে ওই বাড়ি থেকে বিদায় নেয়। গৃহকর্তা আব্দুল লতিফ কবিরাজের সাথে কিছু পথ যেয়ে তাকে বিদায় দিয়ে বাড়িতে চলে আসেন।

বাড়িতে আসার পর গৃহকর্তার মনে সন্দেহ হয় আসলে কি স্বর্ণালংকার ওই গ্লাসে রাখা হয়েছে। তিনি গ্লাসের মুখ খুলে দেখেন সেখানে কোন স্বর্ণালংকার নেই। বিষয়টি মহল্লাবাসির মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে কথিত কবিরাজ সুমনকে ব্যাপক খোজাখুজি করেও তার সন্ধান মিলাতে পারেনি।

এমনকি কবিরাজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে (০১৯৪৩৭৫৭৬২৪) বারবার রিং দিলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। গরীব আব্দুল লতিফ প্রতারক কবিরাজের খপ্পরে পড়ে এখন চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন।

আব্দুল লতিফ জানান, স্ত্রীকে সুস্থ্য করে তোলার জন্য আমি পাগল প্রায়। ভাল হওয়ার বিষয়ে কেউ যদি কোন সংবাদ দেই তাহলে আমি সেখানে ছুটে যাই। কিন্তু এমন প্রতারকের খপ্পরে পড়ব কোন দিনও ভাবতে পারেনি। এ বিষয়ে তিনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান।

অক্টোবর ০২, ২০১৯ at ২১:৫৫:৩০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আহা/আক/এমআই/কেএ