অবৈধ দখল আর পলি জমে ভরাট কপোতাক্ষ নদ

যশোরের চৌগাছার উপর দিয়ে বয়ে চলা মহাকবি মাইকেল মধুসুধন দত্তের কপোতাক্ষ নদ মরার আগেই মারা গেছে বলে অভিমত এলাকাবাসির। অবৈধ দখলদার আর পলি জমে ভরাট হওয়ার করনে নদটির এই বেহালদশা বলে অনেকের অভিমত।

এক শ্রেনীর অসাধু ব্যক্তি কপোতাক্ষকে তাদের ইচ্ছামত ব্যবহার করে এই অবস্থার সৃষ্টি করেছেন। এদিকে চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত তেমন কোন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নদেও অনেক স্থানে পায়ে হেটে নদ পার হওয়া যাচ্ছে। পানি না থাকায় এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জীব বৈচিত্রের উপর।

স্থানীয়দের অভিমত এই অবস্থায় যদি বর্ষা মৌসুম শেষ হয়ে যায় তাহলে এ বছর ভূগর্ভোস্থ্য পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাবে। এতে করে সেচ চালিত পাম্প ও টিউবওয়লে পানি সংকট দেখা দিতে পারে।

সূত্র জানায়, চৌগাছা উপজেলাকে কপোতক্ষ নদ বলা চলে দু’ভাগে বিভাক্ত করে রেখেছে। সুদুর চুয়াডাঙ্গা জেলার মাথাভাঙ্গা থেকে উৎপত্তি কপোতাক্ষ নদের। প্রায় ৬৫ মাইল দুরাত্ব এই নদ সাপের মত আঁকা বাঁকা হয়ে চৌগাছার বুক চিরে মিলিত হয়েছে দক্ষিনে বঙ্গোপসাগরে।

অবৈধ দখল আর নদে পলি জমার কারনে বছরের বেশির ভাগ সময় পানি শুন্য থাকে। বর্ষা মৌসুমে কিছু দিনের জন্য নদের হারানো যৌবন দেখা গেলেও তার স্থায়ীত্ব খুবই কম। যার অন্যতম কারন হচ্ছে নদ ভরাট।

বর্ষার ভরা মৌসুমে এখনও পর্যন্ত তেমন কোন বৃষ্টিপাত হয়নি। যার ফলে নদে পানি নেই, নদের বেশ কিছু এলাকায় পায়ে হেটে মানুষ চলাচল করছেন। পানি সংকটের কারনে নদে আগের মত আর দেশি মাছ পাওয়া যায়না। নদ পাড়ের অনেক জেলে পল্লীর জেলেরা বলাচলে বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করেছেন।

এক সময় কপোতাক্ষ নদ ছিল পখ পাখালির অবাধ বিচারনের উৎকৃষ্ট স্থান। কিন্তু কয়েক বছর ধরে নদে পানি সংকটের কারনে আর পখ পাখালি দেখা যায়না। পানি না থাকায় এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জীব বৈচিত্রের উপর। স্থানীয় বয়োবৃদ্ধরা জানান, দশ বছর আগেও কপোতাক্ষ নদে অঢেল পানি থাকত।

আরো পড়ুন:
ভারতীয় সীমান্তে অনুপ্রবেশের দায়ে ৫ বাংলাদেশী আটক
যবিপ্রবির প্রথম দেয়াল পত্রিকা ‘ত্রিনয়ন’ প্রকাশিত

সে সময় নদে দেশী প্রজাতীর হরেক রকমের মাছ পাওয়া যেত। চৈত্রের প্রখর রোদে মানুষ নদ পাড়ে যেয়ে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেত। সে সময় নদে প্রচুর পরিমানে পাখির আগমন ঘটত। দিনের পুরো সময় পাখির কলরবে মুখোরিত থাকত নদপাড়।

কিন্তু গত দশ বছরে সব কিছুই পরিবর্তন হয়ে গেছে। আষাঢ় শ্রাবণ মাসে বৃষ্টিপাতের কারনে প্রতিদিনই নদের পরিবর্তন ঘটত। এবছর বর্ষা মৌসুম প্রায় শেষের দিকে এখনও সে ভাবে বৃষ্টিপাত হয়নি, নদে পানিও নেই। এই অবস্থায় যদি বর্ষা মৌসুম শেষ হয়ে যায় তাহলে এ বছরভূগর্ভোস্থ্য পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাবে বলেও অনেকে মনে করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অবৈধ দখলদার, নদের তলদেশে পলিজমা আরপটকচুরীর কারনে বছরের পুরো সময়টা কপোতাক্ষ নদে পানি থাকে না, তখন নদের দিকে তাকালে মনে হয় এটি গো চরন ভূমিতে পরিনত হয়েছে।

শুস্ক মৌসুমে শিশু কিশোরা এই কপোতাক্ষের বুকে ক্রিকেট, ফুটবলসহ নানা খেলায় মেতে ওঠে, কৃষক লাঙ্গল কাঁধে নিয়ে পায়ে হেটে পার হচ্ছে কপোতাক্ষ আর ঘরের বধুরা নানা শাক সবজি তুলতে সেখানে ব্যস্ত সময় পার করে। সেই অবস্থা বর্ষা মৌসুমেও বিরাজ করছে।

গত কয়েক বছরে মধ্যে এক শ্রেনীর অসাধু ব্যক্তি কপোতাক্ষের জমি নিজের দখলে নিয়ে পুকুর নির্মান করেছে।আবার অনেকে এই নদের পাড়ের জমি দখলে নিয়ে তৈরী করছে বাসত বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। দখলদারদের কবলে আজ কপোতাক্ষ স্মৃতির পাতা থেকে হারাতে বসেছে।

কপোতাক্ষ নদ অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে মুক্ত করে খনন করা এখন সময়ের দাবিতে পরিনত হয়েছে। চৌগাছার সচেতন মহল মনে করেন কপোতাক্ষ নদকে খনন করা হলে আবার এখানে আসবে নিয়মিত জোয়ার ভাটা, চলবে পাল তোলা নৌকা। নদটি ফিরে পাবে তার হারানো যৌবন। আর সে সময়ে কপোতাক্ষ নদ হতে পারে হাজারও মানুষের আয়ের উৎস।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯ at ২৩:১০:২৯ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আহা/আক/মোমই/এএএম