পৌর সড়কের বেহাল দশা, যান চলাচলে ঝুঁকি

ঠাকুরগাঁওয়ে রাণীশংকৈল উপজেলার শিবদিঘী থেকে বন্দর ডাবতলী পর্যন্ত পৌরশহরের প্রায় ১কি:মি: মূল রাস্তাটি পৌরবাসীর গলার কাটায় পরিণত হয়েছে। বেহাল অবস্থা, ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে স্কুল, কলেজসহ বিভিন্ন পথচারী ও যানবাহন।

সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে বড় বড় গর্তে পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী ও জনদূর্ভোগে চরমে পৌঁছেছে। দীর্ঘ প্রায় ৭বছর যাবৎ রাণীশংকৈল উপজেলার মানুষের একমাত্র প্রাণের দাবী মূল সড়কটি আজও সংস্কার হয়নি।

এ মূল সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় পিচ, ইট, ও মাটি উঠে ছোট বড় গর্তে পরিনত হয়েছে। যার ফলে লোকজন ও যান চলাচলে ব্যাপক ঝুঁকি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। আর সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে রাণীশংকৈল স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা।

রাস্তাটি যাতায়াতের অনুপযোগী হওয়ায় স্থানীয়রা বলেন, সড়কটির বেহাল দশার কারণে আমাদেরকে চলাচলের জন্য অতিরিক্ত ভাড়ার টাকা গুনতে হচ্ছে, একটু বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে রাস্তাটি অচল হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ ৯মাস ধরে ড্রেনের কাজ ধীর গতিতে চলতে থাকায় আরো বেশি সমস্যা পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

পান দোকানদার হরমুজ ও চা বিক্রেতা কাদের জানান, কলেজ গেটের পশ্চিমপার্শ্বে কর্মসংস্থান ব্যাংক সংলগ্ন পিচ উঠে গিয়ে বিভিন্ন যায়গায় গর্তে পরিণত হয়েছে যার ফলে প্রতিদিনেই ছোট খাটো দূর্ঘটনা লেগেই আছে।

আরও পড়ুন:
ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির নতুন কার্যালয় উদ্বোধন
এলাকায় অপরাধ নির্মূল ও প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা

পৌর শহরের একজন মুক্তিযোদ্ধা বলেন, সরকার দেশের যথেষ্ট উন্নয়ন করছে, আমাদের জনপ্রতিনিধিদের অবহেলার কারণেই আজ রাস্তাটি দূর্বিসহ অবস্থায় পড়ে আছে। অটোরিকসা চালক আনসারুল বলেন, এ রাস্তায় চলাচল একেবারে অযোগ্য যাত্রী নিয়ে দুইদিন দূর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেছি। ইলেকট্রেশিয়ান নুরুল ইসলাম জানান, আমি ৬ মাস ধরে এরাস্তা দিয়ে চলাচল করি না, পাশের রংপুরিয়া মার্কেটের রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করি।

এব্যাপারে মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও নবধারা বিদ্যা নিকেতনের পরিচালক বিজয় কুমার রায় বলেন, রাস্তাটির অবস্থা খুবই খারাপ, ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে আসতে পারে না, অভিভাবকরা দূর্ঘটনার ভয়ে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছে।

রাণীশংকৈল ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম জানান, রাস্তাটি খারাপ হওয়ার কারণে পৌরশহরের আশপাশের রাস্তায় চলাচল বেড়ে গেছে। ফলে পৌরশহরের সদ্য পাকা হওয়ার রাস্তাগুলিতে ছোটছোট যান চলাচলের কারনে খুব তাড়াতাড়ি দুর্বল হয়ে পড়ছে রাস্তাগুলো। তবে শহরের মূল সড়কটি দ্রুত সংস্কার হওয়া প্রয়োজন।

রাণীশংকৈল উপজেলা প্রকৌশলী তারেক বিন ইসলাম বলেন, এ রাস্তাটি আমাদের অধীনে না, কার অধীনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না’। এ ব্যাপারে পৌর মেয়র আলমগীর সরকারের সাথে মুঠোফনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায় নি।

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯ at ১৮:০১:৩০ (GMT+06)
দেশদর্পণ/আহা/আক/এইচকে/কেএ